Sumi Har Chowdhury: একসময় রাস্তায় ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুমি হর চৌধুরী। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ এলাকায়, রাস্তায় পরনে হাফ প্যান্ট আর ফুল হাতা জামা, পায়ে হাওয়াই চটি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাঁকে। অনেককেই দাবি করেছেন অভিনেত্রী নাকি নে’শা করতেন, লাইফস্টাইল ভালো ছিল না, মা’ন’সি’ক ভা’রসা’ম্য’হী’ন অবস্থায় পা’গ’লে’র মতো রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন অভিনেত্রী।
কখনও বাংলা আবার কখনও ইংরেজিতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কথাবার্তা বলার ফাঁকেই সুমি হর চৌধুরী বলেছিলেন, “আমি সুমি হর চৌধুরী। আমি টিভি সিরিয়ালের অভিনেত্রী। আমার বেহালায় বাড়ি।কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। বাড়িতে কে আছে সেই ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না। ব্যক্তিগত কোনও বিষয় নিয়েও কথা বলার ইচ্ছে নেই। আমি আপাতত বোলপুর থেকে এসেছি। অনেকদিন ধরে ডান্স ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি।” এরপরেই তাঁকে আকাশের দিকে হাত তুলে নিজের মনে বিড়বিড় করে কথা বলে হাসতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ঠিক কি হয়েছিল অভিনেত্রীর সঙ্গে, কেনই বা বর্ধমানের ওই এলাকায় ওইভাবে পাওয়া যায় তাঁকে? এখন তিনি কেমন আছেন? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই বিষয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী।
অভিনেত্রী জানান, “পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে একটা বছর অভিনয় জগত থেকে দূরে ছিলাম। টানা ১৫ বছর কাজ করার পর আবার নতুন করে সেই জায়গাটা তৈরি করাটা খুব কঠিন। সবসময় যে জীবনে ভালো সময় আসবে তা নয়,খারাপ সময়ও প্রায় আসে। তো সেটার মুখোমুখি হওয়ার সময় আমরা কিছু সাময়িক সমস্যার মধ্যে পড়ি। তো সেরকমই একটা সমস্যা। সেদিন আমি যাচ্ছিলাম বোলপুর থেকে আমার গুরুর বাড়িতে। তো ওনাদের আশ্রম আমরুলে। এছাড়াও আরও দুটো জায়গায় আছে। কিন্তু আমরুলে আমি বেশিরভাগ বন্ধু-বান্ধবদের সাথে বা গাড়ি করে গিয়েছি, একা একা কোনোদিন যায়নি। তো ওই একা যাওয়াটা আমার কাছে একটা অন্যরকম ঘটনা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে। কারণ একা একা যেতে গিয়ে আসল যে রাস্তাটা সেটা ভুলে গিয়েছি। তো ভুল করে অন্য রাস্তায় চলে গিয়েছিল এবং সেই সময়টা ছিল বর্ষাকাল। তার আগে আমি সবে ঘুরে এসে, বোলপুরে আমি যে বাড়িটাতে ভাড়া থাকি, সেখানকার বাড়ির মালিক ঘরের সমস্ত কিছু বন্ধ করে ওনার একটা ব্যক্তিগত কাজে উনি মুর্শিদাবাদে গেছেন। তো আমি ভেবেছিলাম যে তাহলে আমরুলে আমার গুরুমার সাথে কিছুদিন সময় কাটাব। তো আমি এটা করতে গিয়ে মস্ত বড় একটা ভুল করে ফেলি। তো সেই সময় ওখানে যেতে গিয়ে আমি একটা ভুল রাস্তায় চলে যাই। যেহেতু আমি খুবই ক্যাজুয়াল পোশাকে ছিলাম হাফ প্যান্ট, পায়ে স্লিপার্স কারণ তার আগেই আমি বেঙ্গালুরু থেকে ঘুরে এসেছি। আর আমার ব্যাগগুলো সবেমাত্র আমার বোলপুরে একটা বন্ধুর বাড়িতে নামিয়ে সেখানে থেকে কয়েকটা জামাকাপড় আর কিছু বই নিয়ে গুরুজির ওখানে যাচ্ছিলাম থাকব বলে। তো তখন খুব জোরে বৃষ্টি আসে আর আমি একটা শেডের তলায় গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এবং ততক্ষণে আমি বুঝি যে আমি একটা ভুল রাস্তায় চলে এসেছি। ভেবেছিলাম বৃষ্টিটা নিয়ে আমি সেখান থেকে বেরোব। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে এক এক করে লোকজন হতে শুরু করেছে। একজন দুজন লোক জিজ্ঞেস করছে এটা খুবই স্বাভাবিক গ্রাম্য পরিবেশে হয়। ওরা জিজ্ঞেস করতে থাকে আপনার নাম কি,বাড়ি কোথায়? একটা অজানা মানুষকে দেখলে যা হয় আর কি। আমি তার মধ্যে দেখছি লোক ওখানে জড়ো হচ্ছে। তারপর হঠাৎ করে দেখি ওরা ভিডিও করছে। ওরা যে ক্যামেরাটা অন করেছে,ভিডিও করছে সেটা আমি অনেক পরে বুঝতে পেরেছি। বুঝতে পারার পরে ভাবলাম যে এটা হোক এটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। অসুবিধা তো কিছু নেই। তারপর দেখলাম লোক বাড়তে থাকছে। তো আমি ওখানকার স্থানীয় কোনো শিক্ষককে বললাম ব্যাপারটা ঠিক ভালো হচ্ছে না আর। আমার আর ঠিক ভালো লাগছে না। আমি তো ভেবেছিলাম ঘুরে এসেছি গিয়ে গুরুজির বাড়িতে বিশ্রাম করব কিন্তু তার মাঝে যে এরকম একটা মজার ঘটনা ঘটবে কে জানত! তখন ওই শিক্ষক ভদ্রলোক বুঝতে পারেন যে বিষয়টা ওনার জন্যও খুব চাপ হয়ে যাচ্ছে। তো তারপর পুলিশকে জানানো হয় ওনারা আমাকে নিয়ে গিয়ে একটা ভালো পরিবেশে রাখেন। সেখান থেকে কিছু ওখানকার পার্টিগত লোকজন বিশেষ করে মহিলারা যারা ছিলেন, তাঁরা আসেন, দেখা করেন। তারপর আবার আমি নিজের বাড়ি ফিরে আসি। কিন্তু এত কিছু যে তার মধ্যে হয়ে গেছে। বা ওরা যে ব্যাপারটাকে একটা অন্য গল্প করছে,সেটা সমন্ধে আমি কিছুই জানতাম না। আর সেই সমন্ধে জানার বিষয়ও নয়। কারণ জিনিসটা খুবই ক্যাজুয়াল। তখন বুঝতে পারিনি যে ভিডিও করছে এরম একটা সমস্যা হবে। আমরা অনেক জায়গায় যাই অনেকেই ভিডিও করে। তো এটাই আসল ঘটনা।
মা’ন’সি’ক ভা’র’সা’ম্য’হী’ন হলে আমি এখন পা’গ’লা’গা’র’দে থাকতাম, স্বাভাবিক মানুষদের সাথে ওঠাবসা করতে পারতাম না। এখনকার ছেলেপুলেরা মোবাইলে অনেক ভিডিও করে,তো ওদেরও যে কোনো খা’রা’প মতলব ছিল তা নয়। ওরা নিজেদের মতো করেছে। আর আমি ওটাকে আটকায়নি। এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার ছিল। আর গ্রামের মানুষ আলোচনা কাউকে দেখলে এরকমই জিজ্ঞাসাবাদ করেন।”
অভিনেত্রীর সেই সময় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যাওযার খবরের মাঝে তাঁর পারিবারিক সর্ম্পকের কিছু ঘটনা সামনে এসেছিল। জানা গিয়েছিল তাঁর মেয়ের সাথে তাঁর সম্পর্কে ভালো নয়! এমনই গুঞ্জন উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, “যেমন মা মেয়ের ঝগড়া হয় তেমনই একটা ঝগড়া হয়েছিল আমাদের খুব অল্প সময়ের জন্য। ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে ঝগড়া হতেই পারে, তার মানে এই নয় যে সেটা খুব বড় আকার কিছু। সেরকমই কিছু হয়েছিল। মা-মেয়ের খুনসুটি বলা হয় না সেরকমই একটা বিষয় ছিল আর কিছুই না।”
বর্তমানে অভিনেত্রী অনেক ভালোই আছেন এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে আবার কাজেও ফিরবেন তিনি।