Susmita-Srijit: টলিউডে সম্পর্কের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। কোনো তারকাকে পরপর কয়েকটি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গেলেই ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে ওঠে। তার উপর যদি সেই দুইজনের একজন হন জনপ্রিয় পরিচালক সৃজিত মুখার্জি(Srijit Mukherji) এবং অন্যজন আলোচিত অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জী(Susmita Chatterjee), তাহলে তো কথাই নেই! গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিনোদনমহলে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়। আর সেই জ’ল্প’না’র সূত্রপাত হয়েছিল একটি সাধারণ সেলফিকে কেন্দ্র করে।
ঘটনাটা ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের। ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’(Lawho Gouranger Naam Rey) ছবির শুটিং চলাকালীন সময়ে পরিচালক ও অভিনেত্রীর ঘ’নি’ষ্ঠ’তা নিয়ে নানা কথা ভেসে আসতে শুরু করে টলিপাড়ার অন্দরে। সমুদ্রতটে তোলা দু’জনের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই আলোচনা যেন আ’গু’নে’র মতো ছড়িয়ে যায়। ছবিটি ছিল একেবারেই সাধারণ একটি সেলফি মাত্র। কিন্তু তার ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘স্যর আঁখো পার’। সেই লাইন নিয়েই তৈরি হয় নানা ব্যাখ্যা, শুরু হয় সম্পর্কের গু’ঞ্জ’ন।
এরপর থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। কেউ কেউ বলছিলেন, নিছক বন্ধুত্বের থেকেও বেশি কিছু রয়েছে তাঁদের মধ্যে। আবার অনেকে বিষয়টিকে হালকা চিত্তে নিয়েছিলেন। তবে দুই পক্ষের কেউই কখনও প্রকাশ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি।
সম্প্রতি প্রেম দিবস উপলক্ষ্যে একটি সংবাদমাধ্যম যখন সুস্মিতার কাছে জানতে চায় তাঁর বিশেষ পরিকল্পনার কথা, তখন অভিনেত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন “ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ কোনো ভ্যালেন্টাইনই তো নেই! আমি পুরোপুরি সিঙ্গেল। আর ভ্যালেন্টাইন খুঁজছিও না। পেলে মন্দ হতো না, কিন্তু আলাদা করে খোঁজার ইচ্ছে নেই। কাজ নিয়েই ব্যস্ত আছি। বিকেলে সময় পেলে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করব।”
এই মন্তব্যে অনেকেই চমকে গিয়েছেন। কারণ গত কয়েক মাস ধরে যেভাবে তাঁর নাম জড়িয়েছে সৃজিতের সঙ্গে, তাতে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে শিগগিরই হয়ত ‘অফিসিয়াল’ ঘোষণা আসতে পারে। কিন্তু সুস্মিতার বক্তব্য স্পষ্ট তিনি এখন একাই ভালো আছেন, এবং প্রেমের খোঁজে নেই।
এর আগে যখন সরাসরি সৃজিতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখনও সুস্মিতা একই সুরে বলেছিলেন, “আমরা খুব ভালো বন্ধু। এর বেশি কিছু বলার নেই। যে যা ভাবছে ভাবুক।” অর্থাৎ, বন্ধুত্বের বাইরে কোনো তকমা দিতে নারাজ তিনি।
অন্যদিকে, পরিচালক সৃজিতও বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়েছিলেন। একটি সেলফিকে কেন্দ্র করে এত আলোচনা কেন সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছিলেন, “একটা সেলফি নিয়ে এত জল্পনা কল্পনা! আমরা তো ২০২৫ সালে বাস করছি! রিল্যাক্স গাইজ, রিল্যাক্স।” তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যায়, অন্তত প্রকাশ্যে তিনি এই গু’ঞ্জ’ন’কে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নন।
তবে সৃজিতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। বিশেষ করে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, তিনি ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াথ রাশিদ মিথিলা(Rafiath Rashid Mithila)-কে বিয়ে করেন। বিয়ের পর দু’জনে ভারতে সংসারও শুরু করেন। সেই সময় মিথিলার কন্যা আইরাও মায়ের সঙ্গে ভারতে থাকত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সম্পর্কে ছন্দপতন ঘটে। প্রায় বছরখানেকের মধ্যেই মিথিলা মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি আর ভারতে সৃজিতের সঙ্গে থাকেন না। কাজের সূত্র ছাড়া কলকাতায় তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আইনত তাঁদের ডিভোর্স এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে সৃজিতের নতুন কোনো সম্পর্ক নিয়ে জ’ল্প’না তৈরি হলে তা স্বাভাবিকভাবেই বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। এই প্রেক্ষাপটে সুস্মিতার সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানোয় বিনোদন মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছিল।
টলিউডে এমন গু’ঞ্জ’ন নতুন নয়। অনেক সময় বন্ধুত্ব বা পেশাগত ঘ’নি’ষ্ঠ’তা’কে’ও প্রেমের রং দেওয়া হয়। বিশেষ করে যখন কোনো ছবি ভাইরাল হয় বা ক্যাপশন একটু ইঙ্গিতপূর্ণ হয়, তখন সেই ব্যাখ্যার পরিসর আরও বড় হয়ে যায়। ‘স্যর আঁখো পার’ ক্যাপশনটিও সেইভাবেই নানা অর্থে বিশ্লেষিত হয়েছিল।
তবে বাস্তবে দু’জনেই যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, তা বলাই যায়। সুস্মিতা জানিয়েছেন তিনি ‘সিঙ্গেল’ এবং প্রেম খুঁজছেন না। সৃজিতও বলেছেন, একটি সেলফিকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। তবু প্রশ্ন থেকে যায় বন্ধুত্বের এই সমীকরণ কি সময়ের সঙ্গে বদলাবে? নাকি এটুকুই থাকবে?
এই মুহূর্তে অন্তত সুস্মিতার বক্তব্য স্পষ্ট কাজই তাঁর অগ্রাধিকার। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত চর্চায় তিনি বিশেষ আগ্রহী নন। প্রেম আসতে পারে, তবে খুঁজে বের করার কোনো তাড়া নেই। আর সৃজিত? তিনি বরাবরের মতোই বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়ে বলছেন সবাই একটু রিল্যাক্স করুন।
টলিউডে জ’ল্প’না চলবেই। কিন্তু তার মাঝেও অভিনেত্রীর সাফ কথা, “পুরোপুরি সিঙ্গেল আমি।” এখন দেখার, সময়ের সঙ্গে এই গল্প কোন দিকে মোড় নেয়।