Swastika Mukherjee: অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন মানেই যেন চিরকালীন কৌতূহলের বিষয়। কে, কার সঙ্গে সম্পর্কে, কে, কাকে ছেড়ে দিলেন, কে আবার নতুন করে প্রেমে পড়লেন, এই সব নিয়েই যেন সমাজের একাংশের অফুরন্ত আগ্রহ। আর সেই তালিকায় যদি নাম থাকে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়(Swastika Mukherjee)-এর, তাহলে তো কথাই নেই। আলোচনা, বিতর্ক আর সমালোচনা যেন তাঁর নামের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। মুখ খুললে যেমন প্রশংসা আসে, তেমনই ধেয়ে আসে ক’টা’ক্ষ’ও। তবে স্বস্তিকার ক্ষেত্রে একটা বিষয় বরাবরই স্পষ্ট, তিনি চুপ করে সহ্য করার পাত্রী নন। সমালোচনার জবাব দিতে তিনি যে কতটা সোজাসাপ্টা এবং তীক্ষ্ণ হতে পারেন, তার প্রমাণ মিলল ফের একবার।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রেম ও সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে স্বস্তিকা বলেন, একসঙ্গে একাধিক সম্পর্কে থাকা খুব একটা খারাপ বিষয় নয়। বরং তাঁর মতে, সময় আর মানসিক জায়গা থাকলে প্রেম করাই ভালো। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় প্রবল কাটাছেঁড়া। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ বিষয়টিকে ‘পরামর্শ’ বলে ক’টা’ক্ষ করেন, আবার কেউ অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীতিবাক্য শোনাতে শুরু করেন। স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্য নিয়ে তৈরি হয় বিতর্কের ঝড়।
কিন্তু স্বস্তিকা যে এত সহজে থামবেন না, তা বুঝতে দেরি হয়নি। সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন, যেখানে একেবারে খোলাখুলি ভাষায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। তাঁর লেখায় একদিকে যেমন ছিল তীব্র ব্যঙ্গ, তেমনই ছিল সমাজের ভণ্ডামির প্রতি কড়া আঘাত।
স্বস্তিকা লেখেন, তিনি যে কথাটা বলেছেন, তা জেনেশুনেই বলেছেন এবং তাতে তাঁর কোনো আফসোস নেই। প্রেম নিয়ে যতবার প্রশ্ন করা হবে, ততবারই তিনি নিজের মতো করে উত্তর দেবেন। কার ভালো লাগল, কার লাগল না, সেটা তাঁর দেখার বিষয় নয়। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁর বক্তব্যগুলো এমনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে যেন তিনি কোনো মহাপুরুষ বা ঋষির বাণী দিচ্ছেন। নাম করে উল্লেখ না করলেও, ‘মহর্ষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন’-এর প্রসঙ্গ টেনে স্বস্তিকা কার্যত বুঝিয়ে দেন, কারও কথাকে অতিরঞ্জিত করে দেখানোর এই প্রবণতাকে তিনি একেবারেই গুরুত্ব দেন না। তাঁর কথায়,“হ্যাঁ বলেছি, বেশ করেছি। প্রেম নিয়ে যতবার মিডিয়া জিজ্ঞেস করবে, আমি এরকম বা আরও হরেক রকম উত্তর দেব-আপনাদের পোড়া কপাল খিল্লিটাকে খিল্লি ভেবে নিতে পারেন না। এমনভাবে প্রেম নিয়ে আমার উক্তিগুলোকে তুলে ধরছেন যেন আমি মহর্ষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন। জানেন কে?? জানেন না। পড়াশোনা না করে সারাদিন কে কী বলল, কে কী খেল, কে কার সঙ্গে শুলো-এই নিয়েই চর্বো।”
সমাজে প্রেম নিয়ে এত উত্তেজনা কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন স্বস্তিকা। তাঁর মতে, কবে থেকে প্রেম এমন একটা ভয়ংকর অপরাধে পরিণত হল, যাকে নিয়ে সারাক্ষণ আলোচনা করতে হবে, তিনি নিজেই বুঝে উঠতে পারেন না। প্রশ্ন করলে উত্তর দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। সেই উত্তরে কারও আপত্তি থাকলে, তা প্রশ্ন কর্তার সঙ্গেই মিটিয়ে নেওয়া উচিত বলেই মত তাঁর।তাঁর কথায়,”সমাজে কবে যে প্রেম এত বিরাট একটা গুরুতর অন্যায় কাজ হয়ে গেল, যা নিয়ে সারাক্ষণ চাটনি পাকাতে হবে জানি না। আর কথা বলতে হলে যারা প্রশ্ন করছে তাদের বলুন না দিদি। প্রশ্ন করলে উত্তর দেবই-সেটা না পছন্দ হলেই ব্যস।”
এখানেই থামেননি স্বস্তিকা। সমালোচকদের উদ্দেশে ক’টা’ক্ষ করে তিনি লেখেন, তাঁদের মতামত অনুযায়ী নিজের জীবন চালানোর কোনো দায় তাঁর নেই। কাউকে খুশি করতে গিয়ে কাশী বা অন্য কোথাও চলে যাওয়ারও প্রয়োজন তিনি বোধ করেন না। এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না।তাঁর কথায়,“ভাই, আপনাদের মত নিয়ে তো উত্তর দেব না। না আপনাদের খুশি করার জন্য কাশী চলে যাব।”
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি আসে পোস্টের পরের ভাগে। সেখানে স্বস্তিকা উল্লেখ করেন সাম্প্রতিক নানা সামাজিক বিতর্কের প্রসঙ্গ অলি পাব, গো’মাং’স, বিভিন্ন প্রাণী খাওয়ার বিষয় এবং ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী(Sayak Chakraborty)-র বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। ব্যঙ্গের সুরে তিনি লেখেন, হাতে সময় থাকলে প্রেম করাই ভালো, নইলে এই সব বিতর্কিত বিষয় নিয়েই সারাক্ষণ আলোচনা চলবে। তাঁর কথায়,“আর বেশ করছি ৩-৪টে প্রেম করা উচিত বলেছি, কারণ হাতে সময় থাকলে সেটা নিয়ে প্রেম করাই উচিত-নাহলে অলি পাব, মাং’স, গরু, ছাগল, শুয়োর, সায়ক এই করতে হবে।” তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সমাজ কোন বিষয়গুলোকে অযথা গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কোন বিষয়গুলো নিয়ে অকারণে হইচই হচ্ছে, তা নিয়েই আসলে তাঁর প্রশ্ন।
পোস্টের শেষেও নিজের মতো করে ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন স্বস্তিকা। তিনি মনে করেন, প্রত্যেকের উচিত নিজের ভালো থাকার পথ নিজেই খুঁজে নেওয়া। সামাজিক মাধ্যম কাউকে ভালো থাকতে দেয় না এমনই তাঁর অভিমত। আর বারবার অন্যের ব্যক্তিগত জীবনের পেছনে পড়ে থাকলে, তাতে যে লাভের চেয়ে ক্ষ’তিই বেশি সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “নিজেদের ভালো থাকার রাস্তা খুঁজে বের করুন না।ফেসবুক ভালো থাকতে দেবে না কিন্তু। আর আমাদের পেছনে লেগে থাকলে আরোই লস।”
এই গোটা ঘটনার মাঝেই উল্লেখযোগ্য বিষয়, বর্তমানে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ব্যস্ত তাঁর নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কালীপটকা’-র প্রচারে। সিরিজটি ইতিমধ্যেই বাংলা ওটিটি দুনিয়ায় বেশ সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রোমোশনের জন্য দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ঠিক সেই সময়েই প্রেম নিয়ে করা একটি মন্তব্য ঘিরে এই বিতর্ক নতুন করে তাঁকে শিরোনামে এনে ফেলেছে।
স্বস্তিকার অনুরাগীদের একাংশের মতে, এই জবাব সমালোচকদের জন্য কার্যত গালে সপাটে চড়। তাঁরা মনে করছেন, অভিনেত্রী আবারও প্রমাণ করলেন, নিজের মত প্রকাশ করতে তিনি ভয় পান না এবং সমাজের তথাকথিত নৈতিকতার কাছে মাথা নত করার কোনো ইচ্ছেও তাঁর নেই। অন্যদিকে সমালোচকেরা অবশ্য এখনও নিজেদের অবস্থানেই অনড়।
সব মিলিয়ে, প্রেম নিয়ে একটি মন্তব্য থেকে শুরু হওয়া এই বিতর্ক ফের একবার দেখিয়ে দিল, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়(Swastika Mukherjee) মানেই শুধু অভিনয় নয়, বরং স্পষ্টভাষী মনোভাব, তীব্র যুক্তি আর সমাজের চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস। আর সেই কারণেই হয়ত তাঁকে নিয়ে আলোচনা থামার নামই নেয় না।