Swastika Mukherjee:বিগত কয়েক বছর ধরে উচ্চশিক্ষার সূত্রে ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যে রয়েছেন স্বস্তিকা মুখার্জীর মেয়ে অন্বেষা। পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে সেখানেই কর্মরত তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্বেষা নিজের পরিচয়ে শুধু নামটুকুই ব্যবহার করেন। মা বা বাবা, কারও পদবি নেই। বিষয়টি ঘিরে কৌতূহল থাকলেও, এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা কখনও প্রকাশ্যে দেননি অন্বেষা বা তাঁর মা স্বস্তিকা।
স্বস্তিকা মুখার্জীর ব্যক্তিগত জীবন বহুদিন ধরেই আলোচনায়। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রমিত সেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। দু’বছরের মধ্যেই তাঁদের কোল আলো করে আসে অন্বেষা। তবে সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি। গর্ভাবস্থাতেই স্বামীর ঘর ছাড়তে হয় স্বস্তিকাকে। এরপর একাই মেয়েকে বড় করার দায়িত্ব নেন অভিনেত্রী। সময়ের সঙ্গে টলিউডে নিজের জায়গা পোক্ত করেন তিনি, পাশাপাশি অন্বেষার বেড়ে ওঠাও সামলান একা হাতে।
মায়ের পরিচয়ের আড়ালে নয়, বরং নিজের পরিচয় নিজেই গড়ে তুলতে চেয়েছেন অন্বেষা,এমনটাই মনে করেন অনেকেই। বিনোদন জগতে পা রাখার কোনও আগ্রহ তাঁর নেই। পড়াশোনাই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল। স্কুলজীবন থেকেই মেধাবী অন্বেষা পড়াশোনায় বরাবরই এগিয়ে। তবে পথটা সহজ ছিল না। এক সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা জানিয়েছিলেন, সিঙ্গল মাদারের সন্তান হওয়ার কারণে কলকাতার একাধিক নামী স্কুল প্রথমে অন্বেষাকে ভর্তি নিতে চায়নি। তবুও হার মানেননি মা-মেয়ে। নানা বাধা পেরিয়ে এগিয়ে গিয়েছে অন্বেষার শিক্ষাজীবন।
মুম্বইয়ের একটি নামী কলেজ থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন অন্বেষা। এরপর স্কলারশিপ পেয়ে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা শুরু করেন। ২০২৪ সালে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তারপরেই পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন অন্বেষা। পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন এবং লন্ডনেই কাজ করছেন।
ব্যস্ততার মাঝেও মা-মেয়ের সম্পর্ক অটুট। সুযোগ পেলেই মেয়ের কাছে উড়ে যান স্বস্তিকা। কখনও শহর ঘোরা, কখনও নিছক একসঙ্গে সময় কাটানো এই সব মুহূর্তের ছবি ও স্মৃতি ধরা পড়ে তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। সেখানে অন্বেষার চোখে মায়ের প্রতি গর্ব আর ভালোবাসা স্পষ্ট।
আইনি দিক থেকে এখনও প্রমিত সেনের সঙ্গে স্বস্তিকার বিবাহবি’চ্ছে’দ সম্পন্ন হয়নি। নানা আইনি জটিলতায় ডিভোর্স প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। তবে এই দীর্ঘ অপেক্ষা বা অতীতের টানাপোড়েন কোনওভাবেই থামিয়ে রাখতে পারেনি মা-মেয়ের জীবনযাত্রা। খাতায়-কলমে অন্বেষার পদবি ‘সেন’ হলেও, ব্যক্তিগত পরিচয়ে তিনি কেবল ‘অন্বেষা’ হয়েই থাকতে স্বচ্ছন্দ নিজের শর্তে, নিজের পরিচয়ে।