Alivia Sarkar:টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অভিনেত্রী খুব কম আছে, যাঁরা মনের কথা রাখঢাক না করে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন । সেই বিরল তালিকায় নাম লিখিয়েছেন অভিনেত্রী অলিভিয়া সরকার। সাম্প্রতিক এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবন, বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত, কাজ না পাওয়া নিয়ে হতাশা, আবার নতুন করে ফিরে আসার আত্মবিশ্বাস সবকিছুই অকপটে তুলে ধরেছেন তিনি। এই সাক্ষাৎকার যেন অলিভিয়ার শিল্পীসত্ত্বা, মা’ন’সি’ক দৃঢ়তা ও আপসহীন মনোভাবের একটি পূর্ণাঙ্গ দলিল।
অলিভিয়া নিজেকে বরাবরই একজন স্পষ্টভাষী মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে ভালোবাসেন। তাঁর মতে, রা’গ হলে, ভালো লাগলে, ভালোবাসা এই অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীও তাঁকে ইন্ডাস্ট্রির “বিরল ব্যক্তিত্ব” বলেই উল্লেখ করেন। অলিভিয়া বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর বড়পর্দায় নিজেকে আবার দেখাটা তাঁর কাছে এক বিশেষ অনুভূতি। “সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল নিজেকে বড়পর্দায় দেখা। নিজের কাজ বড় স্ক্রিনে দেখতে পাওয়া সত্যিই ভীষণ ভালো লাগে,” হাসিমুখে বলেন তিনি।
এই প্রসঙ্গেই তিনি তারকাদের আত্মমুগ্ধতা নিয়ে একটি মজার কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, “অ্যাক্টররা সবাই বেসিক্যালি সেলফ-অবসেস্ট। কেউ সেটা দেখায়, কেউ দেখায় না।” তবে এই আত্মমুগ্ধতা তাঁর কাছে নেতিবাচক নয়। বরং নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা, খুঁটিনাটি পরিশ্রম করার তাগিদই একজন শিল্পীকে এগিয়ে নিয়ে যায় বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কাজের জন্য যত বেশি পরিশ্রম করা হয়, ততই দর্শকের কাছ থেকে প্রত্যাশা বাড়ে, এটা তিনি অকপটে স্বীকার করেন। তবে প্রত্যাশা পূরণ না হলেও অন্তত দর্শক যেন কাজটি দেখেন, আলোচনা করেন, সেটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পর্দার বাইরে অলিভিয়া বরাবরই হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই হাসিখুশি থাকা সবসময় নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রতিফলন নয়। তাঁর মতে, জীবনের সব দুঃ’খ-ক’ষ্ট বা খা’রা’প লাগা প্রকাশ্যে আনার প্রয়োজন নেই। “সবাই সবকিছু বোঝে না,” এই উপলব্ধি থেকেই তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো নিজের কাছেই রাখতে পছন্দ করেন। তবে কখনও কখনও কিছু কথা শেয়ার করেন শুধুমাত্র এই কারণে, যাতে সমাজের সেই মানুষগুলো সাহস পান, যাঁরা নিজেদের ক’ষ্ট কাউকে বলতে পারেন না।
কাজের ক্ষেত্রে অলিভিয়া বরাবরই আপোসহীন। এই স্পষ্টবাদী মনোভাবই অনেক সময় তাঁর কাজ না পাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্বীকার করেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনও জোর গলায় গিয়ে কাজ চাইতে পারেন না। “বারবার গিয়ে বলা যে… আমায় কাজ দাও—এটা আমি পারি না,” সাফ জানান অভিনেত্রী। তাছাড়া শুধুমাত্র কাজ পাওয়ার জন্য এমন চরিত্রে অভিনয় করতেও তিনি রাজি নন, যা তাঁর মতে তিনি ‘ডিজার্ভ’ করেন না।
নিজের কেরিয়ারের দিকে ফিরে তাকিয়ে অলিভিয়া জানান, প্রথম সাত বছরে তিনি ১৮-১৯টি সিরিয়ালে কাজ করেছেন। এমন সময়ও গেছে, যখন একসঙ্গে তিনটি সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন। তবে শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, চরিত্র গড়ে তোলার নে’শা’ই তাঁকে বেশি টানে। ‘মন্টু পাইলট’-এর মতো কাজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে পুরোপুরি ভে’ঙে ফেলেছিলেন। এই ভা’ঙা-গ’ড়া প্রক্রিয়াটাই তাঁর কাছে অভিনয়ের আসল আনন্দ।
একটি সময় সচেতনভাবেই কাজ থেকে বিরতি নিয়েছিলেন অলিভিয়া। প্রায় এক বছর তিনি নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে রেখেছিলেন কোনও কাজ নয়, কোনও পার্টি বা সামাজিক উপস্থিতিও নয়। এই বিরতি ছিল নিজেকে নতুন করে তৈরি করার জন্য। তাঁর লক্ষ্য ছিল, ফিরে এসে যেন মানুষ বলে – “এটা কি সত্যিই অলিভিয়া?” সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক কাজ ‘রাত্রির যাত্রী’-র মাধ্যমে। ট্রেলার ও ছবির পর দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
এই আত্মবিশ্বাসের শিকড় লুকিয়ে আছে তাঁর জীবনের শুরুতে। দুর্গাপুর থেকে কলকাতায় আসার সময় মা নিজের সোনার চেন বিক্রি করেছিলেন.. এই স্মৃতি আজও অলিভিয়াকে ল’ড়া’ই করতে অনুপ্রাণিত করে। “হেরে তো বাড়ি যাব না,” – এই মনোভাবই তাঁকে বারবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। তাঁর বিশ্বাস, একটানা কাজ করে অর্থ বা আরাম পাওয়া যায়, কিন্তু তাতে ব্যক্তিগত গ্রোথ হয় না। তাই তিনি বিশ্রাম নেন, নিজেকে ‘পলিশ’ করেন, তারপর আবার ফিরে আসেন।
ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন সিঙ্গেল অলিভিয়া। অতীতের সম্পর্ক ভা’ঙা’র অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সচেতন করেছে। আপাতত নিজেকে ভালোবাসা ও নিজেকে তৈরি করাতেই মনোযোগ তাঁর।
তাঁর নতুন ছবি ‘রাপ্পা রায় ও ফুলস্টপ ডট কম’। সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের কমিক্স অবলম্বনে তৈরি এই ছবিকে ঘিরে আশাবাদী অভিনেত্রী।
৫ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে চলা ছবিটি নিয়ে তাঁর দাবি – ছবিটির “বিউটিফুল কাস্টিং, বিউটিফুল স্টোরি, আর পাওয়ার-প্যাকড পারফরম্যান্স।”