Mimi Chakraborty: হাসপাতালের বেড থেকেও হু’ম’কি – ‘মিমিকে ছাড়ব না’, গ্রেপ্তারির পর তনয় শাস্ত্রীর বি’স্ফো’র’ক মন্তব্য

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Mimi Chakraborty: বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জে আয়োজিত এক বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন আর শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান সংক্রান্ত অসন্তোষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী(Mimi Chakraborty )-র সঙ্গে ঘটে যাওয়া হে’ন’স্থা’র অভিযোগ, তার পর তদন্তে বাধা, গ্রেপ্তারি, অসুস্থতা এবং হাসপাতালের শয্যা থেকে প্রকাশ্যে হুমকি। সব মিলিয়ে ঘটনাটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে এক গভীর রাজনৈতিক-সামাজিক বিতর্কে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অনুষ্ঠানটির অন্যতম উদ্যোক্তা, জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী(Sri Tanay)। মিমির অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তাঁর মনোভাব যে এতটুকু বদলায়নি, তা স্পষ্ট হয়ে যায় হাসপাতালের বেড থেকেই দেওয়া তাঁর মন্তব্যে। অভিযোগ, সেখান থেকেই তিনি মিমি চক্রবর্তীকে উদ্দ্যেশ্য করে হুঁশিয়ারি দেন, “মিমিকে ছাড়ব না।” এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

যদিও এই হুমকিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ মিমি চক্রবর্তী নিজেই। প্রাক্তন সাংসদ ও অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একটা লোককে যতটা ফুটেজ দেওয়া উচিত নয়, ততটা আমরা ইতিমধ্যেই দিয়ে ফেলেছি।” তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যায়, বিষয়টিকে তিনি আর বাড়তি গুরুত্ব দিতে চান না। তবে ঘটনাক্রম বলছে, বিতর্ক ক্রমশ আরও গভীরে প্রবেশ করছে।

ঘটনার শুরু গত রবিবার। বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের পরিচালনায় আয়োজিত হয় বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে অতিথি শিল্পী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, মিমির অনুষ্ঠান নির্ধারিত ছিল রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ। তবে মিমি নাকি সেখানে পৌঁছন প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে। ফলে মঞ্চে ওঠার সময় রাত পৌনে ১২টা বেজে যায়।

আরও পড়ুন:Mimi Chakraborty:“এটা একটা পুরুষশাসিত সমাজ…” “ভগবানের নাম আর রুদ্রাক্ষে ধার্মিক হওয়া যায় না— ধর্ম হয় কর্মে”, “আমার ভয়েস কেউ নীচে করতে পারবে না, আজ অব্দি পারেনি, পারবে না, আমি ভয় পাই না..ভয় পাই আমার কর্মকে”- বিতর্কে মুখ খুলে কড়া বার্তা মিমি চক্রবর্তীর

স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে অনুষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। আয়োজকদের বক্তব্য, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে আইনগত সমস্যায় পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠান শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কারণ দেখিয়েই মিমিকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি আয়োজকদের।

তবে মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বনগাঁ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রী আচমকা মঞ্চে উঠে পড়েন। তাঁর গানের মাঝেই অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই আচরণে তিনি চরম অপমানিতবোধ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন মিমি।
মিমির দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হে’ন’স্থা’ই ছিল আসল সমস্যা। একজন শিল্পী হিসেবে, বিশেষত একজন নারী শিল্পী হিসেবে মঞ্চে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না বলেই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আয়োজক সংস্থার তরফে পাল্টা বক্তব্যও সামনে আসে। ক্লাব কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাস জানান, মিমি চক্রবর্তীকে কোনওভাবেই অসম্মান করা হয়নি। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, “তিনি এক ঘণ্টা দেরিতে আসেন এবং রাত সাড়ে ১১টার পর মঞ্চে ওঠেন। প্রশাসনের অনুমতি ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবেই আমরা নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করেছি। ওঁর অনুষ্ঠান চলাকালীন অনুষ্ঠান শেষের ঘোষণা ওঁর কাছে অসম্মানজনক মনে হতে পারে, কিন্তু আমরা তাঁকে সসম্মানেই বিদায় জানিয়েছি।”

আরও পড়ুন:Anirban Bhattacharya:“পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়…আমি মুরগী হলাম”—এক পোস্টেই কি সব জবাব দিলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য?

তাঁদের দাবি, বিষয়টি ইচ্ছাকৃত হে’ন’স্থা’র নয়, বরং পরিস্থিতিগত বাধ্যবাধকতার ফল।
মিমির অভিযোগের ভিত্তিতে বনগাঁ থানায় তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার তিনদিন পর, গতকাল দুপুরে তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।

তবে এই গ্রেপ্তারির প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। অভিযোগ, পুলিশ তনয় শাস্ত্রীকে আটক করতে গেলে তাঁর বাড়ির সামনে বেশ কয়েকজন মহিলা জড়ো হয়ে পড়েন এবং পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে ঠেলাঠেলি হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ জোর করে বাড়িতে ঢুকে তনয় শাস্ত্রীকে আটক করে বাইরে নিয়ে আসে।

এই ঘটনার পর পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তনয় শাস্ত্রী-সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বনগাঁ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারির পরই তনয় শাস্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা যায়। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও তাঁর মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। অভিযোগ, হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি মিমি চক্রবর্তীকে উদ্দ্যেশ্য করে হুমকিস্বরূপ মন্তব্য করেন।

এই মন্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, গ্রেপ্তার ও অসুস্থতার পরেও কেন এমন মনোভাব? আইনিভাবে এই ধরনের মন্তব্যের কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই সব কিছুর মধ্যেও মিমি চক্রবর্তী বিষয়টিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চান না বলেই স্পষ্ট। তাঁর মতে, অযথা একজন ব্যক্তিকে প্রচারের আলোয় আনা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়া তার নিজের পথে চলবে।

আরও পড়ুন:Dev-Anirban:“ছ’মাস ধরে ব্যান, অন্যায় !…আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, কাজ করতে দিন,শান্তিতে বাঁচতে দিন…” – অনির্বাণ ইস্যুতে ফেডারেশন ও প্রশাসনের কাছে দেবের আবেদন

তবে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া আসছে। অনেকেই একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদের সঙ্গে প্রকাশ্যে এই ধরনের আচরণকে নিন্দনীয় বলে মনে করছেন। আবার কেউ কেউ সময়সীমা ও প্রশাসনিক অনুমতির বিষয়টিকে সামনে রেখে পুরো ঘটনার অন্য দিকও তুলে ধরছেন।

বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন আর শুধুমাত্র স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। হে’ন’স্থা’র অভিযোগ, পাল্টা দাবি, পুলিশি বাধা, গ্রেপ্তারি এবং হাসপাতালের বেড থেকে দেওয়া হুমকি, সব মিলিয়ে বিষয়টি রাজ্য রাজনীতির এবং সাংস্কৃতিক পরিসরের এক বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment