Tanmay Majumdar:অভিনয় জগতে দীর্ঘ ল’ড়া’ই’য়ে’র পর অবশেষে সাফল্যের মুখ দেখলেন অভিনেতা তন্ময় মজুমদার ওরফে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকের ‘সন্তু’। সাম্প্রতিক এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর ১২ – ১৩ বছরের সংগ্রামী যাত্রা, আর্থিক ভা’ঙ’ন, মান’সি’ক অ’ব’সা’দ এবং অবশেষে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত নতুন জীবনের কথা।
টানা ১৩ বছরের সংগ্রাম, মঞ্চ, বড়পর্দা ও ছোটপর্দায় কাজ করলেও দীর্ঘদিন দর্শকের সেই প্রত্যাশিত ভালোবাসা পাননি তন্ময়। একাধিকবার কাজ চূড়ান্ত হয়েও বাতিল হয়েছে। এমনকি টানা এক বছর কোনো কাজ না থাকায় তিনি আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ ভে’ঙে পড়েছিলেন। একসময় কলকাতা ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
তন্ময় অকপটে স্বীকার করেন, তাঁর জীবনে এমন একটি সময় এসেছে যখন তিনি আর্থিক দিক থেকে পুরোপুরি নিঃ’স্ব হয়ে গিয়েছিলেন।
“এক বছর পুরো কোনো কাজ ছিল না। এমনও হয়েছে, কাজ ফাইনাল হয়েও বাতিল হয়ে গেছে।”
এই সময় তিনি এতটাই হ’তা’শ হয়ে পড়েছিলেন যে, কলকাতা ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। বন্ধুদের সামনে আ’বে’গ ধরে রাখতে না পেরে কেঁ’দে ফেলেছিলেন। অভিনেতা হিসেবে নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল।
আরও পড়ুন:Vinod Khanna:যৌ’ন’তা নিয়ে বিনোদ খান্নার অকপট স্বীকারোক্তি ফের ভাইরাল
২০২৪ সাল তাঁর জীবনের এক সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। তন্ময়ের কথায়, ২০২৪ সাল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন সময়। কাজ নেই, অর্থনৈতিক সংকট, মা’ন’সি’ক চাপ সব মিলিয়ে তিনি প্রায় হাল ছেড়ে দেওয়ার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। বন্ধুদের সামনে আবেগে ভে’ঙে পড়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
তন্ময়ের জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি হল তাঁর মাকে শুনতে হওয়া কটূ কথা।
অনেকে তাঁর মাকে বলতেন,
– “অভিনয় করে কী হবে?”
– “ওকে একটু বোঝান, এসব ছেড়ে দিতে।” এই কথাগুলো তাঁর মা তাঁকে রাতে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলতেন। সেই সময় তন্ময় তাঁর মাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন “মা, ধৈর্য ধরো। একদিন এই তোমার ছেলেই তোমার নাম উজ্জ্বল করবে।”
এবং ঠিক এই ভা’ঙ’নে’র মুহূর্তেই আসে মোড় ঘোরানো সুযোগ। ২০২৫ সালের মার্চে, দোলের পরের দিন এসভিএফ থেকে ফোন আসে একটি চরিত্রের জন্য। চরিত্রের দৈর্ঘ্য বা গুরুত্ব না জেনেই সঙ্গে সঙ্গে হ্যাঁ বলে দেন তন্ময় আর সেটাই বদলে দেয় তাঁর কেরিয়ারের গতিপথ।
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ ‘সন্তু’ চরিত্রে অভিনয় করে তন্ময় এই প্রথম বিপুল জনপ্রিয়তা পান। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক সবাই এখন তাঁকে ‘সন্তু’ নামেই চেনেন। তাঁর মতে, এত অসংখ্য মানুষের মানুষের ভালোবাসা তিনি আগে কখনও পাননি।
তন্ময়ের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তাঁর বাবা-মায়ের মুখে হাসি। একসময় যাঁর মা সমাজের কটাক্ষ শুনে কাঁদতেন, আজ তাঁরাই পরিচিত ‘সন্তুর বাবা-মা’ হিসেবে। তন্ময়ের কথায়, এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অ্যাওয়ার্ড।
তন্ময় জানান, তিনি চরিত্র নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে ভালোবাসেন। রাত ৩-৪টেয়ও চরিত্রের মনস্তত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করেন। ‘সন্তু’-র নেতিবাচক থেকে ইতিবাচক হয়ে ওঠার রূপান্তর তিনি বিশেষভাবে উপভোগ করেছেন এবং এই যাত্রাকে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন।
অভিনেতার মতে, জীবনের য’ন্ত্র’ণা তাঁকে একজন শক্তিশালী অভিনেতা বানিয়েছে। চরিত্রের অবমূল্যায়ন, বাবার অবিশ্বাস এই সব য’ন্ত্র’ণা তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে গিয়ে অভিনয়ে গভীরতা এনে দিয়েছে।
ইন্টারভিউ জুড়ে বারবার উঠে আসে তাঁর চরিত্র ‘সন্তু’র কথা যা তন্ময়ের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। হ’তা’শা’র সময় কাঁধে হাত রেখে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছেন এই চরিত্র।
সব কাজের মাঝেও থিয়েটার ছাড়েননি তন্ময়। তাঁর মতে, থিয়েটার তাঁকে শুধু অভিনেতা নয়, একজন ভালো মানুষ হতে শিখিয়েছে। শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ সবকিছুর ভিত্তি থিয়েটার।
বর্তমান টিভি ইন্ডাস্ট্রিতে ফলোয়ার্স দেখে কাস্টিং হওয়ায় হ’তা’শ তন্ময়, সেটাও জানায়। তাঁর মতে, দর্শক এখন অনেক সচেতন এবং ভালো অভিনয় বোঝেন। প্রকৃত অভিনেতাদেরই সুযোগ পাওয়া উচিত।
তন্ময়ের বিশ্বাস – “আমি যদি আমার কাজের প্রতি সৎ থাকি, তাহলে তার রিটার্ন আসবেই। সময় সব উত্তর দেয়।”
দাঁতে দাঁত চেপে ল’ড়া’ই চালিয়ে যাওয়ার ফলেই আজ তিনি সফল। তন্ময় মজুমদারের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে হাল না ছাড়লে, সঠিক সময়ে সাফল্য আসেই।