Titas Bhowmik:টলিপাড়ার একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিতাস ভৌমিক। বেশ কয়েক বছর হল নিজেকে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। এখন তিনি কলকাতা নয়, দিল্লিতেই থাকেন। ধারাবাহিকের নতুন মুখের মেলায় প্রায় পুরানো অনেক মুখ দর্শক ভুলে যান। বাংলা অভিনয় জগতের অন্যতম একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিতাস ভৌমিক, যিনি বর্তমানে আর কাজ করেন না। কিন্তু দর্শক তাঁকে আজও ভোলেননি। একসময় একের পর এক ধারাবাহিককে অভিনয় করে তিনি জিতে নিয়েছেন দর্শকদের মন।
কখনও সহ-অভিনেত্রী রূপে আবার কখন খলনায়িকার চরিত্রে নিজেকে বারবার মেলে ধরেছেন পর্দার সামনে।
‘ভুলে যেওনা প্লিজ’, ‘ঘরে ফেরার গান’, ‘তারে আমি চোখে দেখনি’-সহ একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। যদিও তাঁকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘তোমায় আমায় মিলে’র ‘কাকলি’ চরিত্রটি। এই ধারাবাহিকেই খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তবে শুধু ছোটপর্দায় নয়, বড় র্দাতেও অভিনয় করেছিলেন। ২০১৫ সালে ‘কাদম্বরী’ সিনেমায় ‘জ্ঞানদানন্দিনী’র চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। দেব এবং কোয়েল মল্লিক অভিনীত ‘পাগলু’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। শেষবার তাঁকে দেখা গেছিল ‘কোড়া পাখি’ ধারাবাহিকের ‘মেধা’র চরিত্রে। তবে তারপর থেকেই আর দেখা যায়নি অভিনেত্রীকে। তাহলে কোথায় হারিয়ে গেলেন তিনি? তবে কি আর পর্দায় ফিরবেন না তিনি? ইন্ডাস্ট্রির প্রতি তাঁর এখনও কোনো ক্ষো’ভ থেকে গেছে? কেনই বা ছাড়লেন অভিনয়?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে অভিনেত্রী হাসতে হাসতেই মজার ছলেই বলেন, ” আমার ছোটবেলা থেকে অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। ছোটো থেকেই ইচ্ছা ছিল বাংলা সিরিয়াল করব। কলেজে পড়াকালীনই অভিনয় জগতে পা আমার। ‘মোহনা’ সিরিয়াল দিয়েই তখন জীবন শুরু। তবে আমার আর ভালো লাগছিল না। একইরকম চরিত্র পাচ্ছিলাম। সারাক্ষণ নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয়, আর ভালো লাগছিল না। এমনভাবে ফোন করে বলত সবাই,এটা একদম আলাদা ধরনের চরিত্র, কিন্তু হুবহু আগের সিরিয়ালের মতোই একই ধরনের চরিত্র। নেগেটিভ চরিত্র করতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু ওই নেগেটিভটা কি নেগেটিভ! আমি জল ঢেলে দিচ্ছি, পা পিছলে কেউ পড়ে যাচ্ছে, কারোর খাবারে হয়ত বিষ মিশিয়ে দিচ্ছি। এই ধরনের জিনিসগুলো আমার ঠিক ভালো লাগছিল না আর। একটা সময় আমার করা একটা চরিত্র খুব হিট হয়েছিল। তারপর আমি পাঁচ-ছ’টা কাজের অফারও পেয়েছি, কিন্তু একদম ওই একই ধরনের চরিত্রের মতোই। আমি না করে দিয়েছি। আমাকে যদি একই ধরনের চরিত্র বারবার দেওয়া হয় তাহলে আমি সেখানে আলাদা কি করব? আমিও যে নেগেটিভ চরিত্র ছাড়া অন্য চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম সেটা কাউকে বোঝাতে পারতাম না। তাই জন্য কাজ আর করিনি। একদিন আমি শুটিংয়ে ছিলাম আমার হঠাৎ মনে হয়েছিল এটা আমি কি করছি,কেন করছি,রোজ একই ধরনের কাজ,আজ যেন আর শ্যুট না হয় এমন মানসিকতা চলে এসেছিল। যে মেয়েটা আগে শ্যুটিং ছাড়া কিছু ভাবতেই পারত না। সেই মেয়েটি একসময় ভাবত যেন আজকের শ্যুটিংটা না থাকে। কিন্তু সময়ের সাথে সব কিছু পরিবর্তন হয়েছে। তাই একসময় অভিনয় জগৎটাকে ছেড়ে দিলাম।”
তবে এখনও কি অভিনেত্রী এই অভিনয় জগতটাকে মিস করেন? আবারও কি কাজে ফিরতে চান তিনি? তিতাস স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এখন অভিনয়ে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই। ছেলে খুব ছোটো। এবার যদি ভালো কাজ পাই, সেটা ভেবে দেখব।”
সমাজমাধ্যমে অনেকেই দেখা যায় ইন্ডাস্ট্রির প্রতি নানান অ’ভি’যো’গ করতে। ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি এত বছর রয়েছেন, তাও হাতে গোনা মাত্র কটা কাজ? এমন কেন? অভিনেত্রীরও কি কোনো রা’গ আছে ইন্ডাস্ট্রির উপর? নির্দ্বিধায় তিতাস জানান, “কেন কাজ পাচ্ছি না, কি ব্যাপার! এত কাজ হচ্ছে কিন্তু আমারটা ঠিক হয়েও হচ্ছে না। আর একটা ব্যাপার ছিল কালকে হয়ত কোনো শুটিং কাউকে পাচ্ছে না, কোনো অভিনেত্রী সেই মুহূর্তে নেই। চল তিতাসকে ফোন কর। ফোন করে বলত কাল শুটিং আছে এমন চরিত্রে। তো আমার বেশিরভাগ কাজ ওই ভাবেই পেয়েছি। কিন্তু যখনই কাজ করেছি ভালো রিভিউ পেয়েছি। যখন কোনো নাটক বা সিনেমা করেছি আমার নাম তারা উল্লেখ করেছে। আমি কাউকে ফোন করে বলিনি যে আমাকে নিয়ে একটু লিখবে? ওই যে হয়েছে ওটা আমার কাছে বড় পাওনা। রাস্তায় বেরোলে কেউ একজন দেখে বলল তুমি খুব ভালো কাজ করছ। এটাই আমার কাছে অনেক। সবাই ভাবে আমি খুব অহংকারী। কিন্তু যারা আমাকে প্রকৃত চেনেন তারা জানে আমি কেমন মানুষ।”
তবে ব্যক্তিগত জীবনে খুবই খুশি অভিনেত্রী। ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে মন দিয়ে দিব্যি সংসার করছেন তাই অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কোন আ’ফ’সো’স তাঁর অন্তত নেই এমনটাই জানিয়েছেন তিতাস।
প্রসঙ্গত, তিতাস ২০১৪ সালে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা সমদর্শী দত্তকে। তবে টেকেনি তাঁদের সেই সম্পর্ক। চার বছর পরই হয়ে যায় তাঁদের বিবাহবি’চ্ছে’দ। তারপর তিনি নিকটবর্তী আত্মীয় এবং বন্ধুবান্ধবদের উপস্থিতিতেই সাত পাকে বাঁধা পড়েন স্নেহাশিস দাসের সঙ্গে।