Debolina-Tithi: গত ৪ জানুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় আ’চ’ম’কা’ই একটি লাইভ ভিডিও করেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী(Debolina Nandy)। প্রথমদিকে অনেকেই বিষয়টিকে সাধারণ ভিডিও ভেবে হা’ল’কা’ভা’বে নিলেও পরে ধীরে ধীরে প’রি’ষ্কা’র হতে থাকে মা’ন’সি’ক’ভা’বে ভী’ষ’ণ’ভা’বে বি’প’র্য’স্ত অ’ব’স্থা’য় ছিলেন দেবলীনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামীকে নিয়ে একাধিক ছবি শেয়ার করলেও নিজের ভে’ত’রে’র ল’ড়া’ই এবং মা’ন’সি’ক নিঃ’স্ব’তা’র কথা তিনি সেই লাইভেই সরাসরি স্বীকার করেন।
পরিবার ও ব্য’ক্তি’জী’ব’নে’র টা’না’পো’ড়ে’নে’র কথা জানাতে গিয়ে দেবলীনা জানান, শ্বশুরবাড়ির সকলের সঙ্গে তিনি শা’ন্তি’তে থাকার চেষ্টা করলেও মাকে নিয়ে স্বামীর আ’প’ত্তি’র মুখে প’ড়’তে হয়েছে বারবার। লাইভে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে একাধিকবার শুনতে হয়েছে মা’কে ছে’ড়ে দিতে হবে, নাহলে স’ম্প’র্ক টিকবে না। একদিকে মা, অন্যদিকে স্বামী। এই দুই ভা’লো’বা’সা’র মানুষকে একসঙ্গে ধ’রে রাখতে না পেরে শে’ষ পর্যন্ত তী’ব্র মা’ন’সি’ক চা’পে ভে’ঙে পড়েন তিনি। সেই হ’তা’শা থেকেই বেশ কয়েকটি ঘু’মে’র ও’ষু’ধ খেয়ে আ’ত্ম’হ’ত্যা’র চেষ্টাও করেন দেবলীনা।
খবরটি প্র’কা’শ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই উ’ত্তা’ল হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। নে’টি’জে’ন’রা নিজেদের ম’তা’ম’ত, স’ম’বে’দ’না এবং ক্ষো’ভ প্র’কা’শ করেন এই ঘ’ট’না’র প’রি’প্রে’ক্ষি’তে। নানা মহল থেকে শুরু হয় আ’লো’চ’না, বি’য়ে, পা’রি’বা’রি’ক স’ম্প’র্ক, মা’ন’সি’ক স্বা’স্থ্য এবং নারীদের ওপর সা’মা’জি’ক চা’প নিয়ে নতুন করে প্র’শ্ন ওঠে।
এমন প’রি’স্থি’তি’তে অভিনেত্রী তিথি বসু(Tithi Basu) দেবলীনার ঘ’ট’না প্রসঙ্গে মুখ খো’লে’ন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে আধুনিক স’মা’জে বি’য়ে’র অর্থ, নারীদের মা’ন’সি’ক’তা’র প’রি’ব’র্ত’ন ও স’ঙ্গী’র ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত তা’ৎ’প’র্য’পূ’র্ণ কিছু কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান সময়ে বি’য়ে’র উদ্দেশ্য ও প্র’ত্যা’শা যে অ’তী’তে’র তু’ল’না’য় অনেক ব’দ’লে গেছে, তা একপ্রকার সা’মা’জি’ক বা’স্ত’ব’তা হিসেবেই প্র’তি’ফ’লি’ত হচ্ছে।
ভিডিওর শুরুতেই তিথি বলেন,- “আমাদের মায়েদের সময় বি’য়ে করার মানে ছিল এক ধরনের সিকিউরিটি (নিরাপত্তা)… কিন্তু এখনকার মেয়েরা বি’য়ে’টা করে একটা কম্প্যানিয়নশিপের (সাহচর্য) জন্য।”
তাঁর মতে, আগে বি’য়ে মানে ছিল আ’র্থি’ক, সা’মা’জি’ক ও পা’রি’বা’রি’ক সু’র’ক্ষা’র ছা’য়া পাওয়া। কিন্তু বর্তমানে নারীরা অনেক বেশি স্বা’ব’ল’ম্বী ও আ’ত্ম’নি’র্ভ’র’শী’ল। তাই বি’য়ে’র মূল উদ্দেশ্য হয়ে উঠেছে একজন সঙ্গী পাওয়া। যিনি সত্যিকারের বন্ধু, সহচর এবং আ’বে’গে’র আশ্রয় হবেন।
তিথি বলেন,“এখনকার মেয়েরা যথেষ্ট সি’কি’উ’র, ওরা নিজেদের চা’লা’তে পারে… আ’র্থি’ক’ভা’বে স্বা’ধী’ন আছে।”
আরও পড়ুন:Alka Yagnik:এক ছাদের নীচে না থেকেও ৩৫ বছর! তবু কীভাবে টিকে আছে অলকা ইয়াগনিকের সংসার?
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্প’ষ্ট করে দেন—আধুনিক নারীদের জী’ব’নে বি’য়ে এখন আর বেঁ’চে থাকার একমাত্র অবলম্বন নয়। বরং আ’বে’গী’য় স’ম’র্থ’ন, মা’ন’সি’ক স’হ’চ’র্য এবং পা’র’স্প’রি’ক স’ম্মা’নে’র জায়গাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও যোগ করেন, “জাস্ট একটা ই’মো’শ’না’ল প্রে’জে’ন্স দরকার হয় মানুষের… দিনের শে’ষে এসে যাকে আমি সব কথা বলব।”
তিথির মতে, জীবনের ল’ড়া’ই, চা’প ও ক্লা’ন্তি’র শেষে একজন সঙ্গীর সাথে কথা বলার সুযোগ এই আ’বে’গী’য় ব’ন্ধ’ন’ই এখন বি’বা’হি’ত জী’ব’নে’র আসল স’ম’র্থন’ব্য’ব’স্থা। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে একজন পুরুষ যতই শি’ক্ষি’ত বা উ’চ্চ’প’দে চা’ক’রি’র’ত হোন না কেন, তাতে তাঁর মা’ন’বি’ক’তা বা সঙ্গী হিসেবে বো’ঝা’প’ড়া’র গু’ণে’র নি’শ্চ’য়’তা মেলে না। তাঁর কথায়, – “প্লেন ও’ড়া’তে পারা মানেই যে সে জেন্টলম্যান হবে, তার কোনো মানে নেই।” অর্থাৎ ব’ড় ডিগ্রি, উ’চ্চ’প’দ বা সা’মা’জি’ক ম’র্যা’দা সবই অ’র্থ’হী’ন, যদি মা’ন’সি’ক বি’কা’শ ও ম’ন’নে’র প্র’সা’র’তা না থাকে।
তিথি আরও বলেন, বি’য়ে’র পর সবচেয়ে ব’ড় ভূমিকা থাকে সেই মানুষটির যার হাত ধরে একজন নারী শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁর ভাষায়,“যে মানুষের হাত ধরে তুমি শ্বশুরবাড়িতে পা রাখবে, সেই মানুষটার হাত যদি শ’ক্ত থাকে… তাহলে বাকি পরিবারের লোকজন খা’রা’প হলেও তাতে সত্যিই কোনো যায় আসে না।”
এখানে তিনি বোঝাতে চান স্বামী যদি মা’ন’সি’ক’ভা’বে দৃ’ঢ়, সা’পো’র্টি’ভ এবং ন্যা’য়’প’রা’য়’ণ হন, তবে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া অনেকটাই সহজ হয়। কিন্তু উ’ল্টো প’রি’স্থি’তি’র কথাও তিনি স্পষ্টভাবে তু’লে ধরেন – “কিন্তু সেই মানুষটার হাতই যদি ট’ল’ম’লে হয়, সেক্ষেত্রে পরিবারের সবাই খুব ভা’লো হলেও কি আলটিমেটলি কোনো লা’ভ হয়? হয় না।” তাঁর মতে, স্ত্রীকে বো’ঝা’র ক্ষ’ম’তা, প’রি’স্থি’তি নি’র’পে’ক্ষ’ভা’বে বি’চা’র করার মা’ন’সি’ক’তা এগুলো না থাকলে স’ম্প’র্কে’র ভি’ত ধীরে ধীরে দু’র্ব’ল হয়ে পড়ে। তিথি বলেন,“আমরা তো সেই মানুষটাকে ভা’লো’বে’সে তার বাড়িতে থাকি।” অর্থাৎ বি’য়ে’র আসল ভি’ত্তি হল সেই নির্দিষ্ট মানুষটির প্রতি ভা’লো’বা’সা ও বি’শ্বা’স। তাই স’ম্প’র্ক টি’কি’য়ে রাখার দা’য়’ও সবচেয়ে বেশি পড়ে জীবনসঙ্গীর ওপর। তিনি আরও বলেন- “সেই মানুষটা যদি নি’র’পে’ক্ষ বি’চা’র করার ক্ষ’ম’তা রাখে, তার বেটার হাফ(স্ত্রী)-কে বোঝার ক্ষ’ম’তা রাখে, তাহলে আশেপাশের লোকজন একটু খা’রা’প হলেও মানিয়ে নেওয়া যায়।” অর্থাৎ স্বামীর সঠিক ম’নো’ভা’ব ও মা’ন’সি’ক প’রি’প’ক্ব’তা থাকলে বা’ই’রে’র বি’রূ’প প’রি’স্থি’তি’ও অনেকটাই মো’কা’বি’লা করা যায়।
তবে ভু’ল সঙ্গীকে বে’ছে নেওয়ার বে’দ’না নিয়েও তিথি স্পষ্ট ভাষায় মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা তো আশেপাশের কারোর হাত ধরে ওই বাড়িতে আসিনি। আমরা যে মানুষটার হাত ধরে বাড়িতে এসেছি, সেই যদি ঠিক না হয়, তাহলে সেটাই বোধহয় জী’ব’নে’র সবথেকে ব’ড় একটা আ’ফ’সো’স হয়ে থেকে যায়।”
তাঁর মতে, সঙ্গীর সঙ্গে বো’ঝা’প’ড়া না হলে, জীবনের অন্য সমস্ত সু’খ ও আ’রা’মে’র অর্থ খুব দ্রুতই ম্লা’ন হয়ে যায়।
ভিডিওর শে’ষে তিথি নারীদের মা’ন’সি’ক স্বা’স্থ্য ও আ’ত্ম’স’ম্মা’নে’র প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রত্যেক মানুষেরই নিজের মতো করে ভা’লো থাকার অ’ধি’কা’র আছে। বিশেষ করে নারীরা যখন জীবনের গু’রু’ত্ব’পূ’র্ণ সি’দ্ধা’ন্ত নেন, তখন তাঁদের আবেগ, নি’রা’প’ত্তা ও মা’ন’সি’ক স্ব’স্তি’কে অ’গ্রা’ধি’কা’র দেওয়া জ’রু’রি।
গায়িকা দেবলীনা নন্দীর সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ এবং তার পরবর্তী ঘ’ট’না’য় যে আ’লো’ড়’ন তৈরি হয়েছে, তা স’মা’জে বি’য়ে, স’ম্প’র্ক, পা’রি’বা’রি’ক চা’প ও মা’ন’সি’ক স্বা’স্থ্যে’র প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তিথি বসুর এই মন্তব্য অনেকের কাছেই প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বিশেষ করে এমন স’ম’য়ে, যখন স’ম্প’র্কে’র ভা’ঙ’ন, দ্ব’ন্দ্ব ও মা’ন’সি’ক অ’ব’সা’দ ক্রমশ বা’স্ত’ব’তা’র অংশ হয়ে উঠছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উঠছে একটি ব’ড় প্র’শ্ন যে একজন নারী কি আজও স’ম্প’র্ক টি’কি’য়ে রাখতে নিজের অ’স্তি’ত্ব বি’স’র্জ’ন দিতে বা’ধ্য? নাকি স’ম্প’র্কে’র ভে’ত’র সমান অ’ধি’কা’র ও আ’বে’গী’য় স’ম’র্থ’ন’ই হওয়া উচিত নতুন সা’মা’জি’ক মূ’ল্য’বো’ধে’র ভিত্তি? স’মা’জে’র বি’ভি’ন্ন স্ত’রে এই আ’লো’চ’না এখনও অ’ব্যা’হ’ত।