Jeetu Kamal:”দয়া করে হাহা রিঅ্যাক্ট করবেন না, মনোব’লটা ভে’ঙে দেবেন না, পাশে থাকতে হবে না ,মন চাইলে থাকবেন…” কাদের উদ্দেশ্যে এমন বার্তা দিলেন জিতু কমল?
জিতু কমল, তাঁর আদর্শ,নীতি,কথা বলার ধরন, অভিনয় সব কিছুই তাঁর ভক্তদের আকৃষ্ট করে। দর্শকমহলে তিনি ‘অডিয়েন্স স্টার’ নাম পরিচিত। কেন তিনি ‘অডিয়েন্স স্টার’ দর্শকের কাছে আবারও প্রমাণ করলেন তিনি।
সারারাত তুমুল বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা। প্রবল বৃষ্টিতে নাজেহাল শহরবাসী। একটানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে অনেক মানুষের। পুজোর মরশুমে এমন ভারী বর্ষণ আশা করেননি কেউই।
বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। অনিয়মিত ট্রেন চলাচল,বন্ধ মেট্রো, অটো। শহরের এমন পরিস্থিতি দেখে অনেকেই মজা করছেন। সমাজমাধ্যমে সেরকম কিছু চিত্র ফুটে উঠেছে। সেই বিষয়েই প্রতিবাদ জানালেন অভিনেতা জিতু কমল। একে অপরের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়,”আপনারা জানেন কলকাতার কী অবস্থা,প্রায় বানভাসির মতো অবস্থা। ভিডিও না করলেই হত কিন্তু নিজের বিবেকের তাড়নায় এই ভিডিওটা করা। ছবির প্রমোশনের চেয়েও বড়। সিরিয়াল বা ব্র্যান্ডিংয়ের প্রমোশনের সময় আমরা ভিডিয়ো করি। তাই সেই দায় বর্তায় আমাদের উপর।
একজন শিল্পী হিসেবে শুধুমাত্র নিজের দিকটা দেখে চলে যাওয়াটা আমার মনে হয় এটা কাম্য নয়। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। হাতজোড় করে বলছি যেসকল অঞ্চলে জল জমে রয়েছে,লোকের ঘরে ঢুকে গেছে এমন পরিস্থিতি দেখে ফেসবুকে অথবা অন্য কোনো সোশ্যাল সাইডে দেখে দোয়া করে হা হা করে রিঅ্যাক্ট দেবেন না। যার উপর দিয়ে যাচ্ছে সেই জানে। পুজোতে যারা ফুটপাতে বসেন,তাদের এইসময় কয়েকটা টাকা ইনকাম হয়।
এই ইনকামের জন্য হয়ত সারাটা বছর অপেক্ষা করেন। তারা বসতে পারছেন না। তারা হয়ত মাথায় জিনিসগুলো নিয়ে এদিক ওদিক সরানোর চেষ্টা করছেন,সেগুলো দেখে হা হা করবেন না। পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। এখনও পর্যন্ত চারজন কলকাতায় মারা গেছে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে এরকম বানভাসি অবস্থা হলে এরকম ঘটনাগুলো ঘটে,কলকাতা তার বাইরে নয়।
কিন্তু কলকাতার মানুষের একটা সম্প্রীতি ছিল,হাতে হাত দিয়ে,কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক অপরের সাহায্য করে মানুষকে রক্ষা করা। সেটাই আমরা করব। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন,আপনি কী করছেন? ভিডিও করে তার অ্যাড করা আমার ধাতে নয়। আগে আমরা মানুষ তারপরে আমরা শিল্পী। এটা আমার বাবার শিক্ষা।
আমার বাবাও যা করার করছে। আমাকে দয়া করে শুভ দ্বিতীয়া ও তৃতীয়া এই কটাদিন পাঠাবেন না,খারাপভাবে নেবেন না। কাল সারারাত যেভাবে বৃষ্টি হয়েছে,আমি তার অনেকটাই সাক্ষী ছিলাম। দয়া করে হা হা রিঅ্যাক্ট করবেন না, মনোবলটা ভে’ঙে দেবেন না, পাশে থাকতে হবে না ,মন চাইলে থাকবেন। কলকাতা পুজো কাটাবে,ভালো করে কাটাবে,যদি আমরা একে অপরের পাশে এসে দাঁড়াই।”