Uorfi Javed: বিতর্ক যেন উরফি জাভেদের নিত্যসঙ্গী। সাহসী পোশাক, স্পষ্ট বক্তব্য আর সামাজিক ট্যাবু ভাঙার মানসিকতার জন্য বারবার শিরোনামে উঠে আসেন অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার উরফি জাভেদ(Uorfi Javed)। এবার তাঁকে ঘিরে সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি, ইসলাম থেকে নাকি তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলেও ছড়িয়ে পড়ে খবর। এই দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক-সামাজিকমহল। তবে এইসব অভিযোগের মুখে নিজেই মুখ খুলেছেন উরফি, জানিয়ে দিয়েছেন নিজের স্পষ্ট অবস্থান।
সম্প্রতি ইনফ্লুয়েন্সার ফয়জান আনসারি একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, উরফি জাভেদ আর মুসলিম নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিম সম্প্রদায়কে বারবার অপমান করার অভিযোগে উরফিকে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফয়জান(Faizan Ansari)-এর দাবি, উরফি কোরান বা ইসলাম কোনও কিছুতেই বিশ্বাস করেন না। এতদিন তাঁর মুসলিম নাম ছিল উরফি জাভেদ, কিন্তু সেই নামও আর প্রযোজ্য নয়।
ভিডিও বার্তায় ফয়জান আনসারি (Faizan Ansari)বলেন, “উনি কোরানে বিশ্বাস করেন না, ইসলামে বিশ্বাস করেন না। উনি মুসলিমদের অপমান করেছেন। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, উনি আর মুসলিম নন।” এখানেই থামেননি তিনি। আরও দাবি করেন, উরফির নতুন নাম নাকি রাখা হয়েছে ‘গীতা ভরদ্বাজ’। ফয়জানের কথায়, তিনি নিজে মৌলানা এবং এই বিষয়ে সর্বভারতীয় মুসলিম সংগঠনগুলির কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন। এমনকি সেই চিঠির একটি কপিও তিনি প্রকাশ্যে দেখান।
ফয়জানের আরও বক্তব্য, মুসলিম সমাজে আর কোনও জায়গা নেই উরফির। এই মন্তব্য ঘিরে দ্রুত শোরগোল পড়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক, কেউ ফয়জানের দাবিকে সমর্থন করেন, কেউ আবার একে ব্যক্তিগত আক্রমণ বলে তীব্র নিন্দা জানান। ধর্ম, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন উরফি জাভেদ। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। উরফির সাফ বক্তব্য, এই সব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, “আমি বহু আগেই ওই ধর্ম ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি। এখন এসব নতুন করে কে বানাচ্ছে, জানি না।”
নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে উরফি স্পষ্ট করে জানান, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। তাঁর নাম বদলানো হয়নি, তিনি নিজে থেকেও কোনও নতুন নাম গ্রহণ করেননি। উরফির দাবি, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে নিয়ে বাজে গল্প ছড়াচ্ছেন এবং তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কোনও বিতর্কে তিনি আর জড়াতে চান না বলেও জানান অভিনেত্রী।
আরও এক ধাপ এগিয়ে উরফি বলেন, তিনি কোনও ধর্মই মানেন না। কারণ তিনি ঈশ্বরেই বিশ্বাস করেন না। তাঁর মতে, ধর্মীয় লেবেল বা পরিচয় দিয়ে কাউকে বিচার করা ঠিক নয়। ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং জীবনযাপনের অধিকার প্রত্যেকের নিজের।
উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জন্ম উরফি জাভেদের। অভিনয় জগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালে, টেলিভিশন সিরিয়াল ‘বড়ে ভাইয়া কি দুলহনিয়া’(Bade Bhaiyya Ki Dulhania)-র মাধ্যমে। এরপর একে একে ‘চন্দ্র নন্দিনী’(Chandra Nandini), ‘সাত ফেরো কি হেরা ফেরি’(Saat Phero Ki Hera Pherie), ‘ইয়ে রিশতা ক্যায়া কহলাতে হ্যায়’(Yeh Rishta Kya Kehlata Hai), ‘মেরি দুর্গা’(Meri Durga)-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। টেলিভিশনের পাশাপাশি রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’(Big Boss)-এ অংশ নিয়েও দর্শকের নজর কেড়েছিলেন উরফি।
তবে অভিনয়ের কাজের থেকেও তাঁর সাহসী পোশাক, নির্ভীক মন্তব্য এবং সমাজের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতার জন্যই উরফি বেশি পরিচিত। কখনও পোশাক নিয়ে ক’টা’ক্ষ, কখনও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক, বারবার আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন তিনি। সমালোচনার জবাবে কখনও ক্ষমা চাননি, বরং নিজের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা উরফি। ছোটবেলায় বাবার হাতে নির্যাতিত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তিনি। সেই কঠিন সময় তাঁর জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছে বলেও একাধিকবার স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও সাহসী ও আত্মনির্ভর করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে উরফি জাভেদকে ঘিরে নতুন করে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা শুধু এক ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, ধর্ম, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। একদিকে ধর্মীয় সংগঠনের দাবি, অন্যদিকে উরফির স্পষ্ট পাল্টা বক্তব্য, এই টানাপোড়েনের মাঝেই আবারও প্রমাণ হল, উরফি জাভেদ মানেই বিতর্ক, আর বিতর্ক মানেই শিরোনাম।