Ushasie Chakraborty:“ঝকঝকে অ্যাসেট থেকে ‘পচন’! হাম গরিব হায়, গাদ্দার নেহি…শূন্য পাওয়া দল থেকে এত নেতা ধার নিতে হচ্ছে কেন? ”- প্রতীক উরকে কড়া আ’ক্র’ম’ণ ঊষসী চক্রবর্তীর

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Ushasie Chakraborty: ভোটের মুখে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন সিপিএমের তরুণ মুখ প্রতীক উর রহমান(Pratik Ur Rahman)। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানিয়ে মঙ্গলবার চিঠি দেন তিনি। এরপরই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। শুধু দল ছাড়াই নয়, একাধিক সাক্ষাৎকারে দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)-এর প্রশংসাও করেছেন তিনি যা ঘিরে বাম শিবিরে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্বস্তি ও ক্ষো’ভ।

প্রতীকের এই অবস্থান বদল ঘিরে ইতিমধ্যেই বামপন্থী মহলের অনেকেই সরব হয়েছেন। সেই তালিকায় নাম লেখালেন বামমনস্ক অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী(Ushasie Chakraborty)। সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রতীকের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনার সুর স্পষ্ট।
ঊষসী লেখেন, তিনি নিজে পার্টির সদস্য নন। তবুও এতদিন যাঁকে ঝকঝকে যুবনেতা এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ ‘অ্যাসেট’ হিসেবে জেনেছেন, যাঁকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছেন, তাঁর হঠাৎ এই অবস্থান বদল তাঁকে ভেতর থেকে নাড়া দিয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, ওইসব লড়াকু নেতাদের মতো সংগ্রামী হতে না পারার জন্য নিজের মধ্যবিত্ত জীবনকে বহুবার প্রশ্ন করেছেন, আত্মগ্লানিতেও ভুগেছেন। আর সেই মানুষটিকেই হঠাৎ ‘পচে যেতে’ দেখার অনুভূতি তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। তাঁর কথায়, ভেতরটা যেন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

অভিনেত্রী আরও জানান, তিনি জানেন লড়াই সহজ নয়। মধ্যবিত্ত জীবনের নিরাপদ ঘেরাটোপে বসে পার্টি কর্মীদের নিরন্তর সংগ্রাম নিয়ে বড় বড় কথা বলার অধিকার তাঁর নেই এমনটাই মনে করেন তিনি। তবুও গত কয়েকদিন ধরে এক অদৃশ্য বেদনায় দিন কাটছে বলে জানিয়েছেন ঊষসী। তাঁর বিশ্বাস, যাঁরা সত্যিই দলের সম্পদ, সেই কমরেডরা এত সহজে ভে’ঙে পড়বেন না বা হার মানবেন না। এক প্রসঙ্গে তিনি ‘বিনোদ’-এর উক্তি টেনে লিখেছেন, “হাম গরিব হায়, গাদ্দার নেহি।” এই লাইনেই যেন তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন:Parambrata Chattopadhay:“এটা আর নতুন কিছু নয়!…রেজাল্ট আগে থেকেই জানা..ভারত–পাক আর রাইভালরি নয়, একঘেয়ে একপাক্ষিক ল’ড়া’ই!” — সোশ্যাল মিডিয়ায় পরমব্রতের কটাক্ষে নতুন বিতর্ক

ঊষসীর পোস্টে উঠে এসেছে ‘অভিমান’ এবং ‘দায়িত্ব’-এর প্রশ্নও। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অসন্তোষ থাকতেই পারে। কিন্তু নিজের অবস্থান বদলের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে গিয়ে যারা এখনও পার্টির সঙ্গে থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংগঠনের ভেতরে থেকে সংগ্রাম করে যাওয়া কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এতদিন মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জেনেছে, রাজ্যে মূলত দুটি দলই প্রাসঙ্গিক বিজেপি এবং তৃণমূল। তৃতীয় শক্তি হিসেবে বামেদের প্রায় ‘শূন্য’ বলেই তুলে ধরা হয়েছে বারবার। কিন্তু উষসীর বক্তব্য, যদি সত্যিই সেই দল অপ্রাসঙ্গিক হয়ে থাকে, তাহলে তাদের যুবনেতাদের জন্য শাসক বা বিরোধী দুই বড় দলের এত আগ্রহ কেন? প্রায় রসিকতার সুরে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “শূন্য পাওয়া দল থেকে এত নেতা ধার নিতে হচ্ছে কেন? কুসুম কুসুম, তোমাদের নিজের যুবনেতা নেই?”

এই মন্তব্যে রাজনৈতিকমহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ঊষসীর পোস্টে যেমন আবেগ রয়েছে, তেমনই রয়েছে ক’টা’ক্ষ। তাঁর বক্তব্যে একদিকে হতাশা, অন্যদিকে ক্ষো’ভ দুই-ই স্পষ্ট। প্রতীক উরের দলত্যাগ এবং পরবর্তী মন্তব্য যে শুধু রাজনৈতিক পরিসরেই নয়, সাংস্কৃতিক মহলেও প্রভাব ফেলেছে, তা স্পষ্ট এই প্রতিক্রিয়া থেকে।
প্রসঙ্গত, প্রতীক উর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই সিপিএমের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছাত্র ও যুব রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা অনেকের নজর কেড়েছিল। ফলে তাঁর হঠাৎ সরে দাঁড়ানো এবং দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা স্বাভাবিকভাবেই চমক তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভোটের আগে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও নানা প্রশ্ন তুলছেন।

আরও পড়ুন:Anirban Bhattacharya:“পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়…আমি মুরগী হলাম”—এক পোস্টেই কি সব জবাব দিলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য?

ঊষসীর পোস্টে ব্যক্তিগত আঘাতের সুর যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে আদর্শগত অবস্থানের স্পষ্টতা। তিনি পার্টির সদস্য না হয়েও নিজেকে মানসিকভাবে একধরনের সমর্থক বলেই তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখায় বোঝা যায়, রাজনীতিকে তিনি শুধুমাত্র ক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখেন না; বরং আদর্শ, বিশ্বাস এবং সংগ্রামের জায়গা হিসেবেই দেখেন। সেই কারণেই ‘অ্যাসেট’ বলে মনে করা একজন নেতার অবস্থান বদল তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আহত করেছে।

এখন দেখার, প্রতীক উরের সিদ্ধান্ত এবং তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই প্রতিক্রিয়ার তরঙ্গ কোথায় গিয়ে থামে। ভোটের আগে এই বিতর্ক বাম রাজনীতির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলছে। আর ঊষসী চক্রবর্তীর মতো সাংস্কৃতিক জগতের পরিচিত মুখ যখন প্রকাশ্যে মত দেন, তখন তা যে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডিতে আটকে থাকে না, তা বলাইবাহুল্য।
রাজনৈতিক অঙ্কের বাইরে গিয়েও এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে আদর্শের প্রশ্নে আবেগ এখনও প্রবল। আর সেই আবেগই কখনও কখনও হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় বিতর্কের কারণ।

Leave a Comment