Swastika Dutta: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তারকাদের জীবন যেন ২৪ ঘণ্টাই জনসমক্ষে। অভিনয়, সংলাপ, পোশাক, অভিব্যক্তি কোনও কিছুই আর ব্যক্তিগত বা সীমাবদ্ধ নয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা পৌঁছে যায় হাজার হাজার দর্শকের সামনে। প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনা, ক’টা’ক্ষ এমনকি রোস্টিং ভিডিওও এখন বিনোদনের এক বড় অংশ। অধিকাংশ সময় তারকারা এসব মন্তব্য উপেক্ষা করেই থাকেন। তবে সম্প্রতি এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী থাকল নেটদুনিয়া, যেখানে ট্রোলের জবাবে একরাশ বিনয় আর হাস্যরসেই পরিস্থিতি সামাল দিলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত(Swastika Dutta)।
ঘটনার সূত্রপাত একটি রোস্টিং ভিডিওকে কেন্দ্র করে। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে স্বস্তিকা দত্তকে নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। বর্তমানে তিনি ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’(Professor Bidya Banerjee) ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। সেই ধারাবাহিকের একটি আবেগঘন দৃশ্য কে’টে নিয়ে তাতে যুক্ত করা হয় ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য।
ভিডিওতে দেখানো হয়, ফুলশয্যার রাতে স্বামীর সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিদ্যা বলছে, “আমি খুব সাধারণ একটা মেয়ে, আমি কোনও নায়িকা নই। মিস্টার রাজরিত চ্যাটার্জী, আমি কোনও নায়িকা নই।” এই দৃশ্যটিকেই তুলে ধরে রোস্টিং ভিডিওতে দাবি করা হয়, “এই ওভার অ্যাক্টিংগুলো আমার মা বসে বসে দেখে। এই ধরনের পাতি অ্যাক্টিংগুলো আমার মা বসে বসে দেখে।”
শুধু সংলাপ নয়, অভিনেত্রীর অভিব্যক্তি ও অভিনয়ের ভঙ্গিকেও নকল করে দেখানো হয় ওই ভিডিওতে। আরও বলা হয়, “আমি যদি বলি, না দেখো এই অভিনয়টা নিয়ে ট্রোল হয়েছে, এটা কোনও অভিনয় হয়েছে? তখন আমার মা বলে, তুই বেশি জানিস! তুই বেশি বুঝে গেছিস? তুই আমার পেটে হয়েছিস না আমি তোর পেটে? ভালো জিনিস তো দেখবি না এগুলো ভালো জিনিস?” গোটা ভিডিওটির সুর ছিল নিছক রোস্টিং ও কমেডির ছোঁয়ায় তৈরি, তবে তা যে অনেকের নজরে পড়বে, তা বলাইবাহুল্য।
কিন্তু আসল চমক অপেক্ষা করছিল ভিডিওর কমেন্ট বক্সে। সেখানে হঠাৎ করেই দেখা যায় স্বয়ং স্বস্তিকা দত্তের মন্তব্য। সাধারণত তারকারা এধরনের ক’টা’ক্ষে’র জবাব দেন না। কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি ধরা পড়ে। অভিনেত্রী লিখেছেন, “খুব ভালো লাগে আমার তোমার ভিডিওগুলো। আমি খুব একটা ভালো অভিনেত্রী নই, তবে চেষ্টা করি কান্নাকাটি বা হাসাহাসির সিনগুলোকে জাস্টিফাই করার। যদি অতিরিক্ত মনে হয়, চেষ্টা করব পরেরবার থেকে বিহেভ না করে অভিনয় করার। অনেক ধন্যবাদ এই ভিডিও তৈরি করার জন্য। কাকিমাকে অনেক প্রণাম।”
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কেউ বললেন, এ এক বিরল উদাহরণ যেখানে সমালোচনার জবাব দেওয়া হয়েছে রাগে নয়, বরং আত্মসমালোচনা আর সৌজন্যে। আবার কেউ প্রশ্ন তুললেন, এত সহজে কি ট্রোলকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত? তবে স্বস্তিকার মন্তব্যে স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেও তিনি জানিয়ে দিলেন, অভিনয়ে উন্নতির চেষ্টা তাঁর অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, ভিডিও পোস্ট করা পেজটির তরফ থেকেও উত্তর আসে। তারা জানায়, “এটা কিন্তু শুধুমাত্র কমেডি আর এন্টারটেইনমেন্টের জন্য ভিডিওটা বানানো। দয়া করে কিছু মনে করবেন না।” অর্থাৎ, নির্মাতাদের দাবি উদ্দেশ্য ছিল নিছক বিনোদন, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়।
তবে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ছিল দ্বিমুখী। একদল দর্শক রোস্টিং ভিডিওর পক্ষে মত দেন। তাঁদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করলে সমালোচনা ও ব্যঙ্গ দুটোই গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা উচিত। অন্যদিকে, আরেক অংশের মন্তব্য ছিল আরও তীব্র। কেউ লিখেছেন, “আপনি নিজেও তো ওভার অ্যাকটিং করেন, কী করে অন্যের বিচার করেন?” আবার কেউ সরাসরি অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, “ট্রোল করে নিজেকে বড় প্রমাণ করার চেষ্টা কেন?”
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কেবল একটি অভিনয় দৃশ্য নয়, বরং সমালোচনার প্রতি একজন শিল্পীর মনোভাব। স্বস্তিকার মন্তব্য অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে ‘স্পোর্টিং স্পিরিট’-এর উদাহরণ। আবার কেউ মনে করছেন, এ ধরনের ট্রোলিংকে স্বাভাবিক করে তোলা ঠিক নয়।
এই ঘটনার পর থেকে ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হতে শুরু করে। কমেন্ট বক্সে পাল্টা মন্তব্য, সমর্থন, বিরোধিতা সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোচনা। বিনোদন জগতের ক্ষেত্রে সমালোচনা নতুন নয়, কিন্তু সেই সমালোচনার উত্তরে তারকার এমন বিনয়ী প্রতিক্রিয়া যে আলাদা করে নজর কাড়বে, তা বলাই যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তারকারা যেমন প্রশংসা পান, তেমনই সমালোচনার মুখেও পড়েন। তবে এই ঘটনায় একথা স্পষ্ট কটাক্ষের জবাব সবসময় কটাক্ষে দিতে হয় না। কখনও কখনও হাসিমুখের স্বীকারোক্তিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রতিক্রিয়া। আর সেই কারণেই, ‘আমি খুব একটা ভালো অভিনেত্রী নই’ এই একটি লাইনই এখন নেটদুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।