Anindita-Hiran:“২৫ বছর পর এটাই প্রাপ্য ছিল?” – প্রেম দিবসে খোলা চিঠিতে তীব্র আক্ষেপ অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Anindita-Hiran: প্রেম দিবস ঘিরে যখন চারদিকে ভালোবাসার উদযাপন, ঠিক সেই দিনেই নিজের জীবনের না-পাওয়া, ভাঙন আর নতুন উপলব্ধির কথা অকপটে জানালেন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়(Anindita Chatterjee), যিনি অভিনেতা-রাজনীতিবিদ হিরণ চট্টোপাধ্যায়(Hiran Chatterjee)-এর প্রথম স্ত্রী। ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ তাঁর জীবনে কখনও বিশেষ পরিকল্পনার দিন ছিল না তবু এবছরের দিনটিকেই তিনি বলছেন নিজের জীবনের “সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ” প্রেম দিবস। কারণ, এই প্রথম তিনি নিজেকে আর অস্বস্তিকর সম্পর্কের মধ্যে আবদ্ধ মনে করছেন না।

খোলা চিঠির মতো করে লেখা বার্তায় অনিন্দিতা ফিরে দেখেছেন দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য। একসময় ভালোবেসে সংসার শুরু করেছিলেন, নতুন জীবন গড়েছিলেন। সময় কেটে গেছে, সম্পর্কও টিকে ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন এত বছর একসঙ্গে থাকার পর এটাই কি তাঁর প্রাপ্য ছিল? ভালোবাসার বিনিময়ে যে এমন যন্ত্রণা পেতে হতে পারে, তা তিনি ভাবেননি বলেই জানিয়েছেন। যদিও এখন আর অতীত নিয়ে ভাবতে চান না। নিজের মনকে বুঝিয়েছেন যা হয়েছে, তা হয়ত ভালোর জন্যই হয়েছে।

ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে তাঁদের জীবনে কোনও দিনই আলাদা উন্মাদনা ছিল না। না ছিল বিশেষ আয়োজন, না ছিল উপহারের প্রত্যাশা। তিনি নিজেও নাকি কখনও বাড়তি দাবি করেননি। কোনও কিছু নিয়েই বিশেষ চাহিদা ছিল না তাঁর। কিন্তু আজ ফিরে তাকিয়ে মনে হয়, সেই চাহিদাহীনতাই হয়ত ভুল ছিল। হয়তো অজান্তেই তিনি ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ হয়ে গিয়েছিলেন। ভালোবাসার জায়গায় যে অবহেলা জমা হচ্ছিল, তা হয়তো ধীরে ধীরে সম্পর্ককে ফাঁপা করে তুলেছিল। এখন এসে তিনি স্বীকার করছেন প্রেমের ওপর তাঁর বিশ্বাস অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

তবে অনিন্দিতা স্পষ্ট করেছেন, ভালোবাসা তাঁর জীবন থেকে মুছে যায়নি। কেবল দাম্পত্য বা রোম্যান্টিক সম্পর্কের জায়গাটাই ফাঁকা হয়েছে। তাঁর মেয়ে আছে, রয়েছে ছোট্ট পোষ্য। তাঁদের নিঃস্বার্থ স্নেহেই তিনি এখন বেঁচে থাকার শক্তি খুঁজে পান। দিনের শেষে বাড়ি ফিরে যখন মেয়ে ও পোষ্য তাঁর দিকে ছুটে আসে, তখন সারাদিনের ক্লান্তি মুহূর্তে দূর হয়ে যায়। সেই মুহূর্তগুলোতেই তিনি অনুভব করেন, ভালোবাসা আসলে অন্য রূপেও জীবনে ফিরে আসে।

আরও পড়ুন:Neel Bhattacharya:‘ওয়ান লাস্ট টাইম’! ডিভোর্স জল্পনার মাঝেই নীলের বার্তা – সম্পর্ক নয়, তবে কীসের ইতি?

এই কারণেই হয়ত এবছরের প্রেম দিবসকে তিনি জীবনের সেরা বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, “যে যাওয়ার সে চলে যাবেই। তাকে আটকে রেখে কী হবে?” অতীতে বাড়ি ফিরে অন্য নারীদের সঙ্গে ফোনালাপের দৃশ্য দেখে যে কষ্ট পেতে হতো, সেই যন্ত্রণা আর সহ্য করতে হবে না এটাও তাঁর কাছে স্বস্তির। এমনকি তাঁর মেয়েও নাকি একই কথা বলেছে। সম্পর্কের ভা’ঙ’ন যেমন বেদনার, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে মুক্তিও বয়ে আনে অনিন্দিতার বক্তব্যে সেই সুরই স্পষ্ট।

তবে এক জন মা হিসেবে তাঁর আশঙ্কা অন্য জায়গায়। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ভীষণ উদ্বিগ্ন। তাঁর জীবনে যেমন প্রেম এসেছিল, তেমনই একদিন মেয়ের জীবনেও আসবে। অন্য কোনও পুরুষের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই জায়গা করে নেবে। কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি ভয় পান মেয়ের জীবন যেন তাঁর মতো না হয়। যদিও তিনি স্বীকার করেন, সব মানুষ এক রকম নয়। তবু মায়ের মন তো শঙ্কায় ভরপুর থাকেই।

আরও পড়ুন:Ranojoy-Shyamoupti:”ওটা চি’কে’ন মাতার মাং’স! মুরগি মাতার মাং’স দিয়ে বানানো হয়েছে…” ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তেই বিয়ের ঘণ্টা? ভাইরাল আইবুড়োভাতের ভিডিও ঘিরে টলিপাড়ায় তোলপাড়—রণজয়-শ্যামৌপ্তিকে নিয়ে জোর জল্পনা

অনিন্দিতার এই বার্তায় কোনও সরাসরি অভিযোগ নেই, নেই নাম ধরে আক্রমণও। বরং রয়েছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নির্যাস। ভালোবেসে সংসার গড়া, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকা, তারপর ভা’ঙ’নে’র মুখোমুখি হওয়া এই যাত্রাপথের ক্লান্তি ও আত্মসম্মানের ল’ড়া’ই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়। সম্পর্কের ভিত যখন দুর্বল হয়ে যায়, তখন বাহ্যিক আড়ম্বর বা দিবস-উদযাপন দিয়ে তা বাঁচানো যায় না তাঁর বক্তব্য যেন সেই ইঙ্গিতই দেয়।

ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে অনেকেই স্বপ্ন দেখেন, পরিকল্পনা করেন, বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করেন। কিন্তু অনিন্দিতার অভিজ্ঞতা বলছে, দিবসের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সম্পর্কের ভিত। সেখানে যদি শ্রদ্ধা, আস্থা ও সমান গুরুত্ব না থাকে, তবে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকলেও ভাঙন অনিবার্য হয়ে ওঠে। তিনি নিজেই বলেছেন, আগে বাড়ি ফিরে যে কষ্টের মুখোমুখি হতে হতো, তা আর সহ্য করতে হবে না এই মুক্তিই তাঁর কাছে বড় উপহার।

এই খোলা চিঠি যেন কেবল ব্যক্তিগত কষ্টের বয়ান নয়, বরং বহু নারীর অভিজ্ঞতার প্রতিধ্বনি। চাহিদাহীনতা, সহনশীলতা আর সমঝোতার মধ্যেই অনেক সময় সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অনিন্দিতা সেই জায়গা থেকেই নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন। অতীতকে আর আঁকড়ে না ধরে, বর্তমানের ভালোবাসাকেই তিনি এখন আঁকড়ে ধরতে চান।

প্রেম দিবসে যখন অনেকে সম্পর্ক উদ্‌যাপন করেন, তখন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের বার্তা অন্য রকম। তাঁর কাছে এ বছরের দিনটি বিশেষ, কারণ তিনি আর অস্বস্তিকর বাস্তবতার মধ্যে বন্দি নন। তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে বড় ভালোবাসা তাঁর মেয়ে আর পোষ্য যারা বিনিময়ে কিছু চায় না, কেবল নিঃশর্ত স্নেহ দেয়। আর একজন মায়ের প্রার্থনা একটাই মেয়ের জীবন যেন তাঁর মতো না হয়।

Leave a Comment