Iman Chakraborty: “কথা না বললে সম্পর্ক দূ’র’ত্বে হা’রি’য়ে যায়” – ‘কন্ঠ’ (Konttho) সিনেমায় শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shiboprosad Mukherjee) সেই সংলাপগুলি আজও অনেকের মনে গেঁথে আছে। সত্যিই তো, মানুষের আবেগ, ভা’লো’বা’সা আর বো’ঝা’প’ড়া টি’কি’য়ে রাখতে কথা বলার মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস খুব কমই আছে। কিন্তু যদি শারীরিক অ’সু’স্থ’তা’র কারণে মুখে কথা বলা বারণ হয়ে যায়? সুরের পৃথিবীতে যার অস্তিত্ব, যার কণ্ঠই তাঁর পরিচয় সেই ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty) নিজের মনের কথা মুখে বলতে না পেরে এবার আশ্রয় নিলেন কাগজ-কলমের।
সম্প্রতি ইমনের গলা জ্বা’লা ও প্রচণ্ড ঠান্ডা লাগায় চি’কি’ৎ’স’কে’র পরামর্শে তাঁর কথা বলা আপাতত সম্পূর্ণ নিষেধ। ভয়েস রেস্টে থাকতে বলা হয়েছে তাঁকে। কাজেই ফোনালাপ, আড্ডা, এমনকি বাড়ির ভেতরের কথাবার্তাও যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একজন গায়িকার কাছে এ এক বিরাট চ্যা’লে’ঞ্জ। তবে চি’কি’ৎ’স’কে’র নির্দেশ মানা ছাড়া উপায়ও নেই।
কিন্তু জীবনের স্বাভাবিক চলা কি কথাবার্তা ব’ন্ধ রেখে সম্ভব? বিশেষ করে বাড়িতে বাবা থাকলে, তাঁর সঙ্গে কত কথা, কত আবদার, কত ছোট-বড় আলোচনা। সব তো থেমে যেতে পারে না। তাই ইমন বেছে নিয়েছেন অন্য উপায়। মুখে উচ্চারণ নয়, এবার মনের কথাগুলো তিনি লিখছেন সাদা কাগজে। বাবার সঙ্গে তাঁর সেই কথোপকথন এখন চলছে কলমের কালিতে।
বাড়িতে ইমনের বেশিরভাগ সময় কাটে বাবার সঙ্গে। একসঙ্গে থাকা মানেই স্বাভাবিকভাবে নানা বিষয়ে আলোচনা, কথা, পরিকল্পনা, আবেগের ভাগাভাগি। কিন্তু বর্তমানে গলা বিশ্রামে রাখতেই হবে তাই বাধ্য হয়ে কাগজই হয়ে উঠেছে তাঁদের যোগাযোগের মাধ্যম। এই পরিস্থিতির মধ্যেও যে হাস্যরস আর আবেগের উষ্ণতা বজায় আছে, তারই একটি মিষ্টি ঝলক শেয়ার করেছেন ইমন নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ছবিতে দেখা যায়, প্রথমে ইমন একটি কাগজে লিখেছেন-
“আমি এখন বাড়ি গেলেই অনেক কথা বলতে হবে। আমি ফ্ল্যাটে থাকব। তুমি বুড়িকে নিয়ে আসবে, ঠিক আছে।”
মেয়ের এই লেখা দেখে বাবাও একইভাবে কলম তুলে নিয়েছেন। বাবার উত্তরে লেখা-“কবে যামু?” তারপর ইমন লেখেন- “কালকেই এসো।” আবার বাবার প্রশ্ন- “কালকে সারাদিন থাকবি তো?”
এইভাবেই কাগজের ওপর চলতে থাকে তাঁদের আদান-প্রদান, প্রশ্ন-উত্তর, স্নেহ আর যত্নে ভরা কথোপকথন। যেন কথার জায়গায় শব্দ নয়, হাতের লেখা আর আবেগই হয়ে উঠেছে সংযোগের সেতু।
ইমনের এই বিশেষ মুহূর্তের ছবি দেখে নেটিজেনরাও বেশ আনন্দ পেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বাবা-মেয়ের সম্পর্ক এমনই স্বতঃস্ফূর্ত যেখানে আবেগের প্রকাশে মাধ্যম বড় নয়, অনুভূতিই আসল। কেউ কেউ লিখেছেন, একমাত্র বাবার সামনেই তো এমন নির্ভার হয়ে মজা করা যায়, মন খুলে কথা বলা যায়, সেকথা হোক মুখে, না-হয় কাগজে।
আসলে, মেয়ের অসুবিধা না হয়, তার জন্য বাবাও কথাবার্তার এই নতুন নিয়মে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। কণ্ঠ বিশ্রামে আছে বলেই তিনি মেয়ের সঙ্গে কথা বলছেন কেবল লেখার মাধ্যমে। এই দৃশ্য দেখেই অনেকের চোখে নরম হয়ে উঠেছে সম্পর্কের অনুভূতি যেন বোঝা যাচ্ছে, ভা’লো’বা’সা’র ভাষা কখনও থামে না, শুধু রূপ বদলায়।
বর্তমানে ইমন চক্রবর্তী বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম ব্যস্ত ও স্বীকৃত গায়িকা। ক্যারিয়ারের শুরুতেই জাতীয় পুরস্কারের সম্মান অর্জন করার পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন। আজকের দিনে বহু ছবির গানে তাঁর কণ্ঠ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)এর মতোই ইমনের নামও এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে তাঁকে ছাড়া অনেকেরই গান কল্পনা করা ক’ঠি’ন।
তবুও, তাঁর এই ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রমাণ করে দেয় শিল্পীর জীবন কেবল সাফল্য, পুরস্কার বা আলোয় মোড়া মঞ্চ নয়। তাঁর ভেতরে থাকে অ’সু’স্থ’তা, অ’ব’সা’দ, শারীরিক সী’মা’ব’দ্ধ’তা আবার তার মাঝেই থাকে পরিবার, সম্পর্ক আর আবেগের উ’ষ্ণ’তা। কথা বলা নি’ষে’ধ, কিন্তু ভা’লো’বা’সা প্রকাশের পথ থেমে নেই কাগজের পাতাতেই নতুন করে ফিরে এসেছে বাবার সঙ্গে মনের কথা বলা।
ইমনের এই ছোট্ট উদ্যোগ শুধু এক পারিবারিক মুহূর্ত নয় এটি যেন মনে করিয়ে দেয়, আমরা কথা বলতে পারি বলেই কাছের মানুষকে বুঝতে পারি, সম্পর্ক টি’কে থাকে। আর যখন মুখে বলা যায় না, তখনও যদি চিঠির মতো লিখে বলা যায়, তবে বো’ঝা’প’ড়া’র বন্ধন কখনও ভা’ঙে না।