Prosenjit Chatterjee:টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। রুপোলি পর্দার সাফল্যের আড়ালে তাঁর দাম্পত্য জীবন নানা ভা’ঙা-গড়ার সাক্ষী। বহু অনুরাগী তাঁর ছেলে তৃষাণজিৎ ওরফে মিশুককে চিনলেও, অভিনেতার মেয়ের জীবন রয়ে গিয়েছে অনেকটাই আড়ালে। দ্বিতীয় স্ত্রী অপর্ণা গুহঠাকুরতার সঙ্গে প্রসেনজিতের সংসার এবং তাঁদের কন্যা প্রেরণার বর্তমান জীবন নিয়ে আজও রয়েছে কৌতূহল।
প্রসেনজিতের প্রথম বিয়ে হয়েছিল ১৯৯২ সালে অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে। তবে সেই স’ম্প’র্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রায় তিন বছরের মধ্যেই তাঁদের দাম্পত্যে ইতি পড়ে। এরপর ১৯৯৭ সালে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন প্রসেনজিৎ। তাঁর জীবনে আসেন অপর্ণা গুহঠাকুরতা। অভিনয় জগতের সঙ্গে অপর্ণার কোনও যোগ ছিল না। ভালোবাসার টানেই তিনি প্রসেনজিতের সঙ্গে জীবন বাঁধেন। শুরু হয় নতুন অধ্যায়।
দ্বিতীয় বিয়ের পর তাঁদের জীবনে আসে একরত্তি কন্যা। মেয়ের নাম রাখা হয় প্রেরণা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পর্কেও ফাটল ধরে। শোনা যায়, নায়িকাদের সঙ্গে প্রসেনজিতের ঘনিষ্ঠতা অপর্ণা মেনে নিতে পারেননি। সেই থেকেই দাম্পত্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। শেষমেশ প’র’কী’য়া’র অভিযোগ ঘিরেই ভে’ঙে যায় এই সংসার। প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যেই দু’জন আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ডিভোর্সের পর অপর্ণা মেয়েকে নিয়ে দেশ ছাড়েন। বিদেশেই নতুন করে জীবন শুরু করেন তিনি। সেই সময় থেকেই বাবার সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় প্রেরণার। প্রসেনজিতের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে বারবার নানা প্রশ্ন উঠলেও, বাস্তবটা হল বাবা-মেয়ের মধ্যে যোগাযোগ নেই বললেই চলে।
বর্তমানে ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা প্রেরণা। জানা যায়, তিনি পেশায় একজন আ’ই’ন’জী’বী। সম্পূর্ণ আলাদা জগতে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন প্রসেনজিতের কন্যা। বাবার খ্যাতির ছায়া থেকে দূরে থেকেই নিজের মতো করে এগিয়ে চলেছেন তিনি। যদিও বাবার সঙ্গে স’ম্প’র্ক না থাকলেও, প্রসেনজিতের পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে প্রেরণার।
বিশেষ করে পিসি পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর স’ম্প’র্ক আজও অটুট। কলকাতায় এলে পল্লবীর সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায় প্রেরণাকে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইঝির সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন পল্লবী। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, কয়েক বছর পর আবার ভাইঝির সঙ্গে দেখা হওয়া তাঁর কাছে ছিল এক সুন্দর ক্রিসমাস সারপ্রাইজ। ছোট্ট মেয়েটিকে যে আজ এক পরিণত, আত্মবিশ্বাসী নারীতে রূপান্তরিত হতে দেখছেন, সেই কথাও আ’বে’গে’র সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন তিনি। ওই পোস্টে অপর্ণাকেও ট্যাগ করেছিলেন পল্লবী, যা থেকে বোঝা যায় দাদার প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রসেনজিতের জীবনও থেমে থাকেনি। অপর্ণার সঙ্গে ডিভোর্সের বছরেই তিনি তৃতীয়বার বিয়ে করেন অর্পিতাকে। এই দাম্পত্য থেকে জ’ন্ম নেয় তাঁদের পুত্র তৃষাণজিৎ, যাকে আদর করে মিশুক বলে ডাকেন সকলে। ছেলেকে ঘিরেই এখন অভিনেতার জগৎ। বাবার সঙ্গে নানা পার্টি, অনুষ্ঠান, বলিউডের আড্ডায় মিশুকের উপস্থিতি প্রায় নিয়মিত। সেই ছবি ও মুহূর্তে ভরা থাকে প্রসেনজিতের ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। কিন্তু সেখানে কখনওই জায়গা পায় না মেয়ে প্রেরণার কোনও ঝলক।
এক সাক্ষাৎকারে একবার মেয়েকে নিয়ে মুখ খুলেছিলেন প্রসেনজিৎ। তিনি জানিয়েছিলেন, মেয়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে, কিন্তু দেখা হয়ে ওঠে না। প্রেরণা বিদেশে থাকে এবং তিনি নিজে তাঁদের জীবনে জোর করে ঢুকতে চান না। সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। ঈশ্বরের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেছিলেন, খা’রা’প হোক বা ভালো একদিন নিশ্চয়ই এমন সময় আসবে, যখন বাবা-মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে পারবেন।
প্রসেনজিতের কন্যার ব্য’ক্তি’গ’ত জীবনও অনেকের কৌতূহলের বিষয়। বছরখানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রেমিকের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন প্রেরণা। সেই ছবি থেকেই বোঝা যায়, নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করছেন তিনি। বাবার থেকে দূরে থাকলেও, প্রেরণার জীবন যে থেমে নেই, বরং নতুন পরিচয়ে, নতুন পথে এগিয়ে চলেছেন তা স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, রুপোলি পর্দার তারকার ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় আজও আবেগঘন। একদিকে ছেলেকে নিয়ে প্রকাশ্য জীবন, অন্যদিকে মেয়েকে ঘিরে নীরবতা। প্রসেনজিতের জীবনের এই দ্বৈত ছবিই আজও আলোচনার কেন্দ্রে।