Lionel Messi:কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় হ’তা’শা, ক্ষো’ভ এবং বি’শৃ’ঙ্খ’লা’য়। ফুটবলপ্রে’মী শহরের কাছে এই ঘটনা যে মোটেই সুখকর বার্তা দেয়নি, তা বলাইবাহুল্য। বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকাকে এক ঝলক দেখার স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার মানুষ চড়া দামে টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বহু দর্শকই সেই প্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হন। ফলত, যুবভারতী স্টেডিয়াম কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
শনিবার নির্ধারিত সময়েই যুবভারতীতে পৌঁছান লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে মাঠে ঢোকেন লুইস সুয়ারেজ ও রডরিগো ডি’পল। নিরাপত্তারক্ষী ও ভিভিআইপি ঘেরাটোপে থাকা মেসি হাসিমুখে দর্শকদের দিকে হাত নাড়লেও, মাঠের ভিড় ও আয়োজকদের গাফিলতিতে গ্যালারিতে বসে থাকা সাধারণ দর্শকরা তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখতেই পাননি। মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষো’ভ ছড়িয়ে পড়ে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান মেসি। এরপরই ভা’ঙ’চু’র ও বি’শৃ’ঙ্খ’লা’র ছবি সামনে আসে।
ঘটনাটি ঘিরে টলিউড তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন একটি আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, “একটি ভিডিওতে তিনি দেখেছেন এক যুবক কাঁ’দ’তে কাঁ’দ’তে বলছে মেসিকে দেখার জন্য সে তিন বছর কালীপুজো ও দুর্গাপুজো বাদ দিয়ে টা’কা জমিয়েছে। সেই কথা শুনে তাঁর নিজেরও চোখে জল এসে গিয়েছিল।” ঐন্দ্রিলার মতে, দীর্ঘ পরিকল্পনা ও ত্যাগের পরেও যখন মানুষ তার স্বপ্নপূরণ করতে পারে না, তখন যে হা’র্ট’ব্রে’ক হয়, তা সত্যিই হৃ’দ’য়’বিদারক। তিনি স্বীকার করেন, মেসি-কাণ্ডে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। তবে তিনি চান, এই ঘ’ট’না’র জন্য যেন কলকাতার আর ব’দ’না’ম না হয় এবং ভবিষ্যতে এমন বড় কোনো সেলিব্রিটিকে আনার আগে আরও নিখুঁত প্রি-প্ল্যানিং করা হোক।
আরও পড়ুন:Alivia Sarkar:জীবনের চ’র’ম সত্যের কথা জানালেন অলিভিয়া সরকার
দর্শকদের দিকটিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন ঐন্দ্রিলা। তাঁর কথায়, “টিকিট কেটে কেউ যখন একটি অনুষ্ঠানে যায়, তখন তার একটাই প্রত্যাশা যে যার জন্য এসেছে, তাকে যেন অন্তত দেখতে পারে। সেটাই দর্শকের সন্তুষ্টি।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ট্রো’লিং বা গা’লা’গা’লি কোনো সমাধান নয়। ভিড়ের মধ্যে ছবি তোলা বা ঘিরে রাখার প্রবণতার কারণে কেউই হয়ত সেই মুহূর্তে ম্যাচিউর আচরণ করেনি, যার ফলেই পুরো অনুষ্ঠানটি ন’ষ্ট হয়ে গেছে।
অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাও সাধারণ মানুষের ক’ষ্টে’র জায়গাটিকে সামনে আনেন। তাঁর মতে, অনেক দর্শকের কাছে টিকিটের দাম ছিল তাদের মাসিক আয়ের সমান। এত টা’কা খরচ করে এসে তারা যেভাবে প্রতারিত ও হতাশ হয়েছেন, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। অঙ্কুশ বলেন, “মেসির মতো একজন ‘Godly Figure’-কে আনা মানে শুধুমাত্র একজন সেলিব্রিটিকে আনা নয়, ‘দি মেসি’-কে আনা। সেই অনুযায়ী আয়োজন ও পরিকল্পনার মানও আরও উন্নত হওয়া উচিত ছিল।” তিনি মনে করিয়ে দেন, মেসির ফ্যান সংখ্যা শুধু বেশি নয়, মানুষ তাঁকে কার্যত উপাসনা করে। এত মানুষের চোখের জল দেখাটা সত্যিই কষ্টের।
অভিনেতা টোটা রায় চৌধুরী সবচেয়ে বেশি ম’র্মা’হ’ত হয়েছেন শিশুদের কা’ন্না দেখে। আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আসা ছোট ছোট বাচ্চারা যখন মেসিকে দেখতে না পেয়ে কাঁ’দ’ছি’ল, সেই দৃশ্যকে তিনি “হৃ’দ’য়’বি’দা’র’ক” বলে বর্ণনা করেন। যদিও তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, তাই এই মুহূর্তে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে ভবিষ্যতে এধরনের ইভেন্টে আরও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা রাখেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিনেতা-পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় সৌজন্যবোধ ও ডেকোরামের অভাবের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, কার কতটা ক্ষমতা ও এক্তিয়ার এই সচেতনতা থাকলে পরিস্থিতি এতটা খা’রা’প হত না। তিনি বলেন, “একটু ডেকোরাম বজায় রেখে, দর্শকদের জন্য সামান্য কিছু করলেই, হয়ত একটি ওপেন জিপে পুরো স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ বা দু’মিনিটের ফুটবল ম্যাজিক লক্ষ লক্ষ মানুষ খুশি হয়ে যেত।”
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে দো’ষা’রো’প। কুণাল ঘোষ সরাসরি যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার দায় ইভেন্টের আয়োজক শতদ্রু দত্তের উপর চাপিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, “ইভেন্টের আগের দিন অরূপ বিশ্বাস চার ঘণ্টা ধরে যুবভারতীতে বসে প্রস্তুতির খোঁজখবর নিলেও, বারবার ফোন করা সত্ত্বেও শতদ্রু দত্ত সেখানে আসেননি। কুণালের দাবি, রাজ্যের কারও সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে দিল্লির কারও সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই ধরনের ‘প্লট’ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।”
সব মিলিয়ে, যুবভারতীর মেসি-কাণ্ড শুধুমাত্র একটি ব্য’র্থ ইভেন্ট নয়, বরং পরিকল্পনার ঘাটতি, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং দর্শকদের আ’বে’গ’কে অবমূল্যায়নের এক করুণ উদাহরণ হয়ে থাকল। ফুটবলপ্রেমী কলকাতা আজও উত্তর খুঁজছে এই স্বপ্নভঙ্গের দা’য় আসলে কার?