Hiraan-Anindita:মামলা-অভিযোগের মাঝেও ‘ওঁ-ই অনুপ্রেরণা’! তবে কেন বললেন ‘কখনও পাশে দাঁড়ায়নি’ – হিরণকে ঘিরে অনিন্দিতার বিস্ময়কর মন্তব্য

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Hiraan-Anindita: চলতি বছরের শুরুতেই টলিপাড়া এবং রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন অভিনেতা তথা বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়(Hiraan Chatterjee)। আচমকাই দ্বিতীয়বার বিয়ে করে সকলকে চমকে দেন তিনি। প্রথম স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় খুব দ্রুতই প্রকাশ্যে আসে এবং শুরু হয় বিতর্কের ঝড়।

হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের খবর সামনে আসার পরই তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়(Anindita Chatterjee )থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। শুধু তাই নয়, অভিনেতার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাও রুজু হয়। ঘটনার পর থেকে সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে মুখ খুলেছেন অনিন্দিতা। তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছিলেন, তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। ফলে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে সামনে আসতেই বিষয়টি আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয়।

সম্পর্ক যে সুখের ছিল না, তা অনিন্দিতার বক্তব্য থেকেই বহুবার উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক অনুযোগ তুলেছেন। তবে এত অভিযোগ, ক্ষো’ভ আর আইনি লড়াইয়ের মাঝেও সম্প্রতি তাঁর বক্তব্যে ধরা পড়ল একেবারে ভিন্ন সুর। যা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা।

এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীতচর্চা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনিন্দিতা অতীতের একটি প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি জানান, “আমি আগেও গান করেছি। তখন আমায় হিরণ অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। এমনকি আমার একটি মিউজিক ভিডিওর প্রযোজনাও করেছিল ও।” তাঁর এই মন্তব্যই চমকে দিয়েছে অনেককে। কারণ, এতদিন যেখানে সম্পর্কের ভাঙন ও তিক্ততার কথাই বেশি শোনা গিয়েছে, সেখানে হঠাৎ করে প্রাক্তন স্বামীর প্রশংসা শোনা সত্যিই অপ্রত্যাশিত।
যদিও এই প্রশংসার পাশাপাশি তিনি সম্পর্কের বাস্তব ছবিটিও তুলে ধরেছেন। অনিন্দিতা বলেন, শুরুর দিকে হিরণ তাঁকে অনেকটাই সাহায্য করেছিলেন। বিশেষ করে সংগীতচর্চার ক্ষেত্রে তাঁর পাশে ছিলেন। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনের সময় তিনিও স্বামীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই সময় রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয়ভাবে হিরণকে সমর্থন করেছিলেন অনিন্দিতা।

আরও পড়ুন:Tonni Laha Roy: “জানতাম না, জেনে নিলাম”…কন্ট্রাক্টে থেকেও বাদ! দর্শকদের প্রিয় ‘মীরা’ হঠাৎ উধাও! “লয়্যালটির দাম নেই? দর্শকরা চাইলেই কোনো সিরিয়ালে কাউকে যেমন বাদ দিতে পারে, তেমনই আবার ফিরিয়েও আনতে পারে” – ‘মীরা’ চরিত্রটি বিদায়ে মুখ খুললেন তন্বী

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নাকি সেই সমর্থনের রূপ বদলে যায়। অনিন্দিতার কথায়, “যেভাবে একজন স্বামী স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে, সেইভাবে ও কখনও আমার পাশে দাঁড়ায়নি।” অর্থাৎ, প্রাথমিক অনুপ্রেরণা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে দাম্পত্য সমর্থনের অভাব ছিল বলেই তাঁর দাবি। এই দ্বৈত সুর একদিকে কৃতজ্ঞতা, অন্যদিকে অভিমান বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সাক্ষাৎকারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ ওঠে তাঁদের কন্যাকে ঘিরে। অনিন্দিতাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি চান তাঁর মেয়ে ভবিষ্যতে শিল্পী হোক? বিশেষ করে যখন বাবাও অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ, তখন কি মেয়েকে সেই পথেই এগোতে দেখতে চান? উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি নিজে খুব কাছ থেকে ইন্ডাস্ট্রিকে দেখেছেন। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মেয়েকে এই জগতে পাঠাতে তিনি অনাগ্রহী।

অনিন্দিতার বক্তব্য, “আমার মেয়ের মধ্যে অনেক প্রতিভা আছে। কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। আমি চাই না ওকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, গ্ল্যামারের আড়ালে যে অনিশ্চয়তা ও সংগ্রাম লুকিয়ে থাকে, তা তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই উপলব্ধি করেছেন। তাই মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অনেক বেশি সতর্ক।
এদিকে আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনিন্দিতা যখন স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, তখন বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। প্রথমে সবকিছু আইনের উপর ছেড়ে দেওয়ার কথা জানালেও পরে হিরণ আগাম জামিনের আবেদন জানান। সেই আবেদন মঞ্জুর করে কলকাতা হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:Ahona-Dipankar:মামারবাড়ির ছায়া নেই! ঠাকুরদার কোলে বসেই অন্নপ্রাশন সারল অহনা-কন্যা মীরা

আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, যেহেতু মামলাটি পারিবারিক বিষয়ক, তাই বিধায়ককে গ্রেফতার করার প্রয়োজন নেই। তবে তদন্ত চলাকালীন পুলিশকে সমস্ত রকম সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। আদালতের এই নির্দেশের পর আপাতত গ্রেফতারের আশঙ্কা কাটলেও মামলা কিন্তু এখনও বিচারাধীন।
সব মিলিয়ে হিরণ-অনিন্দিতার সম্পর্ক আজও আলোচনায়। একদিকে আইনি টানাপোড়েন, অন্যদিকে অতীতের স্মৃতি ও অনুপ্রেরণার স্বীকৃতি এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে অনিন্দিতার সাম্প্রতিক মন্তব্য যেন নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিতর্কে। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই অতীতের স্বীকৃতি, নাকি সম্পর্কের জটিলতার স্বাভাবিক প্রতিফলন?

যে সম্পর্ক নিয়ে এতদিন কেবল তিক্ততার খবরই সামনে এসেছে, সেখানে হঠাৎ কৃতজ্ঞতার সুর নিঃসন্দেহে চর্চার বিষয়। তবে অনিন্দিতার বক্তব্যে যেমন ক্ষোভ আছে, তেমনই আছে নিজের পথচলার স্বীকৃতি। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন সত্ত্বেও জীবনের কিছু অধ্যায় যে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা যায় না, তাঁর কথাতেই যেন তারই ইঙ্গিত মিলল।
এই মুহূর্তে মামলার ভবিষ্যৎ কী মোড় নেয়, সেটাই দেখার। তবে একথা বলাই যায় ব্যক্তিগত জীবন, আইনি লড়াই এবং প্রকাশ্য মন্তব্য সব মিলিয়ে হিরণ ও অনিন্দিতার অধ্যায় এখনও শেষ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন সাক্ষাৎকার যেন সেই গল্পে আরেকটি নতুন পাতা যোগ করছে।

Leave a Comment