Jeetu Kamal:জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকের ‘আর্য-অপর্ণা’ ওরফে জিতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়কে আর একসাথে দেখা যাবে না। ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ধারাবাহিক ছেড়েছেন জিতু। নায়িকা নায়কের সঙ্গে শটই দেবেন না। এমনকী, ডামি দিয়ে সিন করাতে হচ্ছে। নায়ক-নায়িকাকে একসঙ্গে দেখাই যাচ্ছে না একফ্রেমে।অভিনেত্রী শর্ত দিয়েছেন অভিনেতার সাথে কোনোরকম ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি পারবেন না। জিতু-দিতিপ্রিয়ার দ্বন্দ্বে নাজেহাল গোটা টলিপাড়া। অভিনেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন নায়িকা। এছাড়াও ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার যে ক্রিয়েটিভ টিম, তারা সরাসরি নাহলেও ঘুরিয়ে অভিনেতাকে কাজ ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। অভিনেতার একটি পোস্টে ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে তিনি ধারাবাহিক ছেড়েছেন।
প্রযোজনা সংস্থার অফিসে টানা তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলেছিল। তাতেও কোনো লাভ হয়নি। অভিনেত্রীকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন নেটিজেনরা। অভিনেতা যে ধারাবাহিক ছাড়ছেন সেই নিয়ে সরাসরি এখনও কোনো বার্তা দেননি। তবে জিতু যে ধারাবাহিকের অংশ থাকবেন না প্রায় নিশ্চিতই বলা চলে। তবে এর মাঝেই অনেকেই আবার অভিনেতাকে দোষারোপ করেছেন। কারণ এর আগেও অভিনেতাকে দেখা গিয়েছিল তিন-তিনটি ধারাবাহিক ‘মিলন তিথি’, ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ মাঝপথেই ছেড়ে দিতে। তাই অনেকেই সন্দেহের আঙুল তুলেছেন অভিনেতার দিকে।
স্টার জলসার অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিলন তিথি’তে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করতে করতে রাতারাতি পাল্টে ফেলা হয়েছিল নায়ককে। ধারাবাহিকের নায়িকার চরিত্রে ছিলেন উষসী রায়। অনেকেই মনে করছেন, তখনও নাকি এরকমই গোলমালে জড়িয়েছিলেন জিতু। শোনা গিয়েছিল, অপ্রীতিকর আচরণ এবং বিব্রত করা কথাবার্তার কারণেই নায়ক থেকে হঠাৎ বাতিল করা হয়েছিল জিতুকে। উঠে এসেছিল নানান প্রশ্ন ঊষষীর সঙ্গে মনোমালিন্য নাকি পর্দায় দ্বিতীয় নায়কের প্রাধান্য? কোনো কারণই জানা যায়নি সঠিক।
জিতুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতেই এবার মুখ খুললেন ‘মিলন তিথি’ ধারাবাহিকের প্রযোজক স্নিগ্ধা বসু। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “জীতু এমন কিছু করেনি, যার জেরে সেটে কোনও অশান্তি তৈরি হয়েছে। এটা ঠিক, ওঁ একটু বেশি খুঁতখুঁতে। দ্বিতীয় নায়কের প্রাধান্যের কারণে নয়, ওঁর চরিত্র গল্পের কারণে ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক হয়ে উঠছিল। এতে জীতু আপত্তি জানিয়েছিলেন। ওঁ শুরু থেকে বলেছিল, নেতিবাচক চরিত্র করবে না। তাই এনওসি দিয়ে বেরিয়ে যায়।”
জিতুর প্রসঙ্গে স্নিগ্ধা আরও বলেন, “জীতু যথেষ্ট সংযত বলেই আমাদের আর একটি ধারাবাহিক ‘অর্ধ্বাঙ্গিনী’রও নায়ক ছিল ওঁ। বিপরীতে নবনীতা দাস। ওঁর প্রাক্তন স্ত্রী। আমাদের ধারাবাহিক করতে করতেই তো ওঁদের বিয়ে।”
এছাড়াও ‘মিলন তিথি’ ধারাবাহিকের পরিচালক সৌমেন জানিয়েছেন, “জীতু-দিতিপ্রিয়ার রসায়ন ওই ধারাবাহিকের প্রাণভোমরা। ওঁদের অভিনয় দেখবেন বলে দর্শক মুখিয়ে থাকেন। জীতু চলে গেলে সেই আগ্রহ কিছুটা হলেও কমবে। জীতুর বরাবর প্রশ্ন বেশি। নিজের চরিত্র নিয়ে কৌতূহল বেশি। প্রশ্নে প্রশ্নে জেরবার করে ফেলে পরিচালককে। এটা ওঁর ভাল গুণ। তার বাইরে আর কারও সঙ্গে এমন কিছু অভিনেতা করেননি, যা পরিচালকের চোখে দৃষ্টিকটু।”
সাম্প্রতিককালে এখন ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। জিতুর পরিবর্তে নতুন নায়ক কে হবে? সেই নিয়ে ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। অনেকেই সরাসরি দিতিপ্রিয়াকে ধারাবাহিক ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন।