Koel Mallick:“সাফল্যের অর্থ শুধু বক্স অফিস নয়” ,“যেগুলো দরকার সেগুলোই নিই, বাকিটা শুধু নয়েজ”- জীবনের ভারসাম্য, সততা ও দায়বদ্ধতার কথায় কোয়েল মল্লিক

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Koel Mallick: টলিউডের সফল অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick) এর দীর্ঘ ২২ বছরের অভিনয়-যাত্রা কেবল ক্যারিয়ার সাফল্যের গল্প নয়, বরং এক ভারসাম্যপূর্ণ জীবনদর্শন, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার অনুপম উদাহরণ। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলাখুলিভাবে জানিয়েছেন নিজের কাজ, পরিবার, দর্শক, স’ম্প’র্ক ও মানসিকতার প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দায়িত্ববোধ, প’রি’শ্র’ম, কৃতজ্ঞতা এবং জীবনের প্রতি এক গ’ভী’র উপলব্ধি।

কোয়েলের কথায়, জীবন মানে শুধু পেশাগত অর্জন নয়, বরং মা, মেয়ে, স্ত্রী, বন্ধু এবং সহকর্মী প্রতিটি ভূমিকায় সৎ ও সফল হয়ে ওঠাই তাঁর কাছে আসল সাফল্য। তিনি বলেন, “ডেফিনেটলি,আই ওয়ান্ট টু হ্যাভ অ্যা সাকসেসফুল লাইফ, শুধু সাকসেসফুল ক্যারিয়ার নয়।” তাই কাজের সাফল্যের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি দায়িত্বকেও তিনি সমান গুরুত্ব দেন।
অভিনেত্রী হিসেবে ব্যস্ত থাকলেও পরিবারকে অ’ব’হে’লা করার প’ক্ষ’পা’তী নন কোয়েল। সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন – “আমি কাজ করছি বলে নিজের কাছে এক্সকিউজ দিতে চাই না যে ছেলেকে সময় দিতে পারলাম না… সেটাও আমি করতে চাই না।” তাঁর কাছে কাজ মানে শুধু সাফল্যের ধাপ নয়, বরং জীবনের অংশ। সেই জীবনটিকে পূর্ণতা দিতে পরিবারের পাশে থাকা জরুরি, এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ভারসাম্যের পথ বেছে নিয়েছেন।

কোয়েল নিজেকে কখনওই ‘ইমপালসিভ’ বা আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ায় অ’ভ্য’স্ত মানুষ হিসেবে দেখেন না। বরং তাঁর বিশ্বাস, কথা বলার আগে চিন্তাভাবনা করা জরুরি। তিনি বলেন – “আমি..নেভার বিন ইমপালসিভ। কেউ খোঁ’চা’লে’ও রে’গে গিয়ে তৎক্ষণাৎ রিঅ্যাক্ট করি না।” এই সংযমী মনোভাবই তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রো’লিং বা নে’তি’বা’চ’ক মন্তব্য থেকে দূরে রাখে। তাঁর ভাষায় – “ঝ’গ’ড়া’ঝাঁ’টি, অ’শা’ন্তি’র মধ্যে থাকতে পারি না। আমার সিস্টেমই ওগুলো অ্যালাও করে না।”

আরও পড়ুন:Sayak Chakraborty:“কী ফালতু লাগছে, কী ড্রেসআপ!” মা–বাবাকে ‘বুড়ো–বুড়ি’ ক’টা’ক্ষে ফুঁ’সে উঠলেন সায়ক চক্রবর্তী – কঠোর জবাবে ট্রো’লা’র’কে তুলোধোনা”

নিজের মানসিক শান্তিকে তিনি গুরুত্ব দেন, কারণ তাঁর মতে নিজে ভালো না থাকলে অন্যকে ভালো রাখা যায় না।
ইন্ডাস্ট্রিতে কারও সঙ্গে তাঁর কোনো শ’ত্রু’তা নেই একথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন কোয়েল। তিনি বলেন – “আমি সব কো-অ্যাক্টরদের ভীষণ ভা’লো’বা’সি। কারও প্রতি কোনো শ’ত্রু’তা নেই।”
দেব (Dev), শুভশ্রী (Subhashree Ganguly) সহ সহকর্মীদের সাফল্যের জন্য তাঁর শুভকামনা ও সমর্থন তাঁর ব্যক্তিত্বের উদারতা তুলে ধরে।

অন্যদিকে তিনি জানান ক্যামেরার সামনে ১০০% দায় রয়েছে। কোয়েলের ক্যারিয়ার-দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু হল দর্শক। তিনি বিশ্বাস করেন, দর্শকের সময় ও অ’র্থ দুটোই মূল্যবান। তাই প্রতিটি ছবির জন্য তাঁর দায়বদ্ধতা একশো ভাগ।
তিনি বলেন – “দর্শক তাঁদের অমূল্য সময় ও পরিশ্রমের টা’কা দিচ্ছেন। সেই মূ’ল্য দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।” তাঁর কথায়, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই তিনি জানেন দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করা তাঁর দায়।

আরও পড়ুন:Papiya Sen:“কথা দেয় সবাই, রাখে ক’জন?…”, ক্যা’ন্সা’র জয়ের পর নতুন করে জী’ব’ন’বোধ! ১২-১৩ বছর পর ছোটপর্দায় আবেগঘন প্রত্যাবর্তন পাপিয়া সেনের

সাম্প্রতিক ছবি ‘মিতিন একটি খুনির সন্ধানে’ মুক্তির পর কোয়েল জানিয়েছেন তাঁর অনুভূতি। প্রথম দিনের উত্তেজনা আজও তাঁর কাছে নতুনের মতো – “প্রথম ছবির সময় যে ভ’য় ছিল, আজও সেই বাটারফ্লাইস থাকে।” তিনি মনে করেন, প্রতিটি ছবিরই নিজস্ব ভাগ্য থাকে – “প্রত্যেকটা সিনেমা নিজস্ব একটা লাক নিয়ে জন্মায়।”
নতুন ছবিটা দর্শকের ভা’লো’বা’সা পাচ্ছে একথা বলতে গিয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তাঁর আগের ছবি ‘স্বা’র্থ’প’র ’–এর সাফল্যও তিনি দর্শকদের আশীর্বাদের ফল বলে মনে করেন।

বক্স অফিসের সংখ্যার চেয়ে কাজের সততাকে বেশি গুরুত্ব দেন কোয়েল। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা – “আমার কাছে বেশি ম্যাটার করে—আমি আমার কাজটা সম্পূর্ণরূপে অনেস্টি দিয়ে করছি কি না।”
তিনি বলেন, প্রতিটি চরিত্রে ১০০% পরিশ্রম দেওয়ার চেষ্টা করেন কারণ দর্শকের ভা’লো’বা’সা’ই তাঁর কাজের জ্বা’লা’নি।

আরও পড়ুন:Vinod Khanna:যৌ’ন’তা নিয়ে বিনোদ খান্নার অকপট স্বীকারোক্তি ফের ভাইরাল

একই সময়ে দুটি বিপরীতধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ভীষণ স্মরণীয়। ‘স্বা’র্থ’প’র’-এর অপূর্ণা চরিত্রের ভেতরের নরম বে’দ’না ও দ্বি’ধা যেমন তাঁকে ছুঁয়েছে, তেমনই ‘মিতিন মাসি’ চরিত্রে তাঁর তী’ক্ষ্ণ, দৃ’ঢ় ও গো-গেটার ব্যক্তিত্ব তাঁকে ভিন্ন মাত্রায় সমৃদ্ধ করেছে।কোয়েলের ভাষায় – “দুটো চরিত্রই আমার হৃদয়ের ভীষণ কাছের।

কোয়েল মনে করেন জীবন কেবল ক্যারিয়ার-কেন্দ্রিক নয়। বরং পুরো জীবনের প্রতিটি স’ম্প’র্ক ও দায়িত্ব মিলেই সাফল্যের অর্থ তৈরি হয়। তিনি বলেন – “আমার জীবনটা এত বড়—শুধু বক্স অফিস নম্বরের ভেতরে আটকে থাকতে চাই না।” তাঁর কাছে সাফল্য মানে -স’ম্প’র্কে’র মূল্য দেওয়া, মানসিক শান্তি বজায় রাখা, অন্যকে ভা’লো রাখা, সততার সঙ্গে কাজ করা। ‘অটো-ফিল্টারিং’ মনোভাব বা নে’তি’বা’চ’ক’তা থেকে দূরে থাকা।
প্রসঙ্গে কোয়েল জানান, তাঁর ভেতরে যেন এক স্বাভাবিক ‘অটো-ফিল্টারিং সিস্টেম’ কাজ করে- “যেগুলো দরকার সেগুলো নিই, বাকিটা নয়েজ – ওগুলো কানে ঢোকে না।”
এই অভ্যাস তাঁকে অপ্রয়োজনীয় বি’ত’র্ক ও নে’গে’টি’ভি’টি’র বাইরে রাখে।

আরও পড়ুন:Chirodini Tumi Je Amar:’বাবা-মেয়ে লাগছে দু’জনকে, একদম মানাচ্ছে না এই মেয়েটাকে…’ নতুন ‘অপর্ণা’কে দেখেই বেজায় চটলেন দর্শক, ‘দিতিপ্রিয়ার জায়গা কেউ নিতে পারবে না, কে এই শিরিন!’ বয়কটের ডাক নতুন অপর্ণা’কে

তিনি নারীবাদী না করলেও নারীবাদ নিয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর। নারীবাদ প্রসঙ্গে কোয়েলের অবস্থান খুব পরিষ্কার – “আমার কাছে ফেমিনিজম মানেই ইকুয়ালিটি।” তিনি বিশ্বাস করেন – নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষই সম্মানের যোগ্য। ‘মিতিন মাসি’ চরিত্র নিতে গিয়ে যখন তাঁকে বলা হয়েছিল ‘মহিলা গোয়েন্দা’, তিনি মুচকি হেসে বলেছিলেন – “গোয়েন্দার আবার মহিলা-পুরুষের কী!” অর্থাৎ পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে তিনি লি’ঙ্গ’ভে’দে কোনো পা’র্থ’ক্য দেখেন না।
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি ক্যারিয়ারে যে ভা’লো’বা’সা পেয়েছেন সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাই দর্শকদের কাছে তাঁর একশো ভাগ কমিটমেন্ট – “২২ বছরের ক্যারিয়ার হত না যদি দর্শকদের ভা’লো’বা’সা না পেতাম।”
একারণেই প্রতিটি কাজের আগে তিনি মনে মনে নিজেকে মনে করিয়ে দেন -দর্শকের প্রত্যাশা ভ’ঙ্গ করা যাবে না, সময় ও অর্থের মূল্য দিতে হবে, নিজের সেরাটা ঢেলে দিতে হবে।
কোয়েল বিশ্বাস করেন যে মুহূর্তে যার সঙ্গে কথা বলছেন, তার মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে উপস্থিত থাকা জরুরি – “আমি ইমোশনালি প্রেজেন্ট থাকতে পছন্দ করি।”এমন মনোযোগী ও সংযত উপস্থিতিই হয়ত তাঁকে একজন মর্যাদাবান ও ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ হিসেবে আলাদা করে তোলে।

কোয়েল মল্লিকের এই সাক্ষাৎকার শুধু একজন সফল অভিনেত্রীর পেশাদার যাত্রার গল্প নয় বরং জীবনের প্রতি এক গভীর ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। প’রি’শ্র’ম, সততা, দায়িত্ববোধ, স’ম্প’র্ক ও মানসিক শান্তিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন সাফল্য কেবল সংখ্যায় নয়, বরং মানুষের ভেতরের মূল্যবোধে দাঁড়িয়ে থাকে।

Leave a Comment