Subhadra Mukherjee:”মাত্র ৫৭ বছর বয়স,কতই বা বয়স ছিল ওর, আমার পোড়া কপাল,ভগবান আসতে আসতে আমাকে একা বানিয়ে দিচ্ছে…” জীবনের কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে ফের কাজের জগতে ফিরলেন অভিনেত্রী সুভদ্রা মুখোপাধ্যায় একের পর এক প্রিয়জনের মৃ’ত্যুতে পাল্টে গিয়েছিল জীবন!
বাংলা টেলিভিশন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়। ছোটো বড়ো সব পর্দাতেই কাজ করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের অক্টোবর মাসে মহালয়ার ভোরেই স্বামী ফিরোজকে হারিয়েছিলেন অভিনেত্রী। স্বামীর মৃ’ত্যু’তে একেবারেই ভে’ঙে পড়েন অভিনেত্রী। তারপর থেকেই নিজেকে সব কিছু থেকে গুটিয়ে নেন তিনি। একাকিত্ব যেন গ্রাস করেছিল তাঁকে। জীবন থেকে সব রঙ বাদ দিয়েছিলেন তিনি। একের পর এক,স্বামী, বাবা,শ্বশুরের আকস্মিক মৃ’ত্যু পাল্টে দিয়েছিল সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়ের জীবন।
দীর্ঘ এক বছর অভিনেত্রীকে দেখা যায়নি টেলিভিশনের পর্দায়। তবে আবারও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন তিনি। দীর্ঘ এক বছরের বিরতি কাটিয়ে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দাদামণি’তে ‘সোম’-এর মায়ের চরিত্রে দেখা যাচ্ছে সুভদ্রাকে। নিজের জীবন যু’দ্ধে’র কথা এক সাক্ষাৎকারে ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী।
অভিনেত্রীর বিশ্বাস কাজের মাধ্যমেই সব যন্ত্রণা থেকে তিনি নিজেকে কিছুটা মুক্ত করতে পারবেন। তাঁর কথায়,”যখন কাজ ছেড়ে দেব বলেছিলাম, যেখানেই যেতাম মানুষ হাত ধরে অনুরোধ করত না ছাড়তে। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রতিদিন একটাই প্রার্থনা করি, মৃত্যুর আগের শেষক্ষণ পর্যন্ত যেন মানুষের সেবা করতে পারি। ঈশ্বর আমাকে যেন সেই স্বাস্থ্য দেন, যাতে ওই মানুষগুলোর অনুরোধ আমি রাখতে পারি। আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই আমার।”
মাত্র ৫৭ বছর বয়সী এক এক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষকে যে এভাবে তাঁকে ফেলে চলে যাবে তা আজও মেনে নিয়ে পারেননি তিনি। অভিনেত্রী জানান,”আমি যা হারিয়েছি,সেটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। বাবাকে আমি তাও বলতে পারি,শ্বশুরকে বলতে পারি ওনাদের বয়স হয়েছিল,কষ্ট পাচ্ছিলেন, তাও মানিয়ে নেওয়া কঠিন ছিল যে তারা নেই। ভালোবাসার লোক ভালোবাসার লোকই হয়। কিন্তু আমার বরের মাত্র ৫৭ বছর বয়স। এই বয়সে এসে মানুষ আবার বিয়ে করে। কিন্তু আমার পোড়া কপাল,এছাড়া আর কিছু নয়। ছেলেমেয়ে একসময় নিজেদের সংসারে ব্যস্ত হয়ে যাবে। মা আর শাশুড়ি কত বছর! তাদেরও বয়স হয়েছে। এবার যে আমি একা হয়ে যাব মানুষের জন্য কাজ করব। আমার আর কোনো পিছুটান নেই।
আরও পড়ুন:Dev-Mithun:আচমকাই দেবকে ‘গা’ধা’ বলে সম্বোধন করে ফেললেন মিঠুন চক্রবর্তী! নেপথ্যে আসল কারণ কী?
স্বামীকে হারিয়ে জীবনের সব রঙ তাঁর জীবন থেকে চলে গেছে এমনটাই বিশ্বাস করেন অভিনেত্রী। তিনি জানান,”ভগবান যখন রঙ কেড়ে নিয়েছে আমার জীবন থেকে, আমি সাদাতে চলে এসেছি। আজকাল আর রঙ ভালো লাগে না, সাদা জামা-কাপড় বেশি পরি। আমি আগে সারারাত জেগে থাকতাম, যদি স্বামী, বাবা বা শ্বশুরকে দেখতে পাই। অনেক পাগলামো করেছি। স্বামী যেখানে মারা গেছিলেন ওখানে ইচ্ছা করে থাকতাম বেশি।”