অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যু’র পর থেকে একের পর থেকে প্রায় অধিকাংশের মত, ম্যাজিক মোমেন্টস প্রযোজনার অতিরিক্ত বেপরোয়া সিদ্ধান্তের শিকার ওই প্রয়াত অভিনেতা। সেই ধারণাকেই আবারও উসকে দিল পরিচালক পারমিতা মুন্সির সমাজমাধ্যমের একটি সাক্ষাৎকার।একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরলেন প্রযোজনা সংস্থার স্বেচ্ছাচারিতা। কতটা বেপরোয়াভাবে শুটিং না হলে একজন কর্মরত অভিনেতা প্রাণ হারান। এই মর্মান্তিক প্রশ্নই সারা জাগিয়ে তোলে রাহুল অনুরাগীদের মনে। তাঁর মৃ’ত্যু যে কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রযোজনার দায়িত্বহীনতার কারণে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক পরিণতি।
পরিচাল পারমিতা মুন্সির বক্তব্য অনুযায়ী, “কোনো আর্টিস্ট নিজে নিজে সিন লিখে বলছে এটা দিতেই হবে। পরিচালক বলছে না। কিন্তু এটা আমি দেবই। এরকমটা কোথাও দেখিনি। আমার কাছে স্ক্রিপ্ট আছে ২৩ পাতার স্ক্রিপ্টটা আমার কাছে আছে, উইথ ওয়াটার মার্ক লোগো। ম্যাজিক মোমেন্টসের স্ক্রিপ্টটা কি? আমি জানি। ক্ষমতার ঔদ্ধত্য আস্ফালন বন্ধ হোক। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মানসিকতা গুলো বন্ধ হোক। সঠিক বিচারটা হবে কি করে? নিরপেক্ষ তদন্ত কি করে হবে? যদি প্রোডাকশন হাউসের কর্ণধার এখনও মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ আগলে বসে থাকে। উনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন পদত্যাগ তো এখনও করেননি! কি করে হবে নিরপেক্ষ তদন্ত?”
এরকমই কিছু সমালোচক প্রশ্ন তুললেন মিডিয়ার সামনে। স্বাভাবিক ক্ষো’ভ প্রকাশ পেলো তাঁর কণ্ঠে। এর আগেও অনেক আর্টিস্টদের তরফ থেকে এই প্রযোজনার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে এইরকমই কিছু সমালোচক মন্তব্য। টলি ইন্ডাস্ট্রির নাম করা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’, সেই নামের আড়ালেই কি তবে নিজেছের অপেশাদারী কাজকর্ম লুকিয়ে রাখা হয়? তাই যদি হয় তাহলে এর এইবার শেষ হওয়া দরকার, ক্ষুব্ধ টলিপাড়ায় একটাই দাবি। তাহলে স্ক্রিপ্ট -এই কি ছিল গোলযোগ? পারমিতার বয়ানে প্রশ্ন উঠছে সেটাও। তাহলে এরকম অসাবধান স্ক্রিপ্ট গল্পে রাখার প্রয়োজনীয়তা কী, মানুষের জীবনের থেকেও বেশি? যেখানে মানুষের জীবনের থেকে স্ক্রিপ্টের দাম বেশি সেখানে কাজ না করায় শ্রেয় বলে মত সিংহভাগের।
তাহলে লীনা গাঙ্গুলির পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কি নিছক কোনো ঘোষণা! আসলেই সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। বেশ কিছুদিন আগে রাহুলের মৃত্যুর পরই যখন সবাই আঙুল দেখিয়ে প্রযোজনা সংস্থার দিকে দোষ দিচ্ছিল। প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার, রাহুলের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে। যদিও এখন দেখা যায় সেটা নিছক একটি ঘোষণা ছিল। ইতিমধ্যেই আর্টিস্ট ফোরাম ও প্রিয়াঙ্কা সরকার আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এই সংস্থার বিরুদ্ধে এবং টলি আর্টিস্টরা আপাতত বয়কট করেছেন ম্যাজিক মোমেন্টস-কে। মৃ’ত্যু’র ঘটনার পর থেকেই প্রযোজনা সংস্থার দায় এড়ানো থেকে শুরু করে মিথ্যাচার জনতার নজর এড়ায়নি কিছুই। প্রতিবাদে সরব হয়েছেন একের পর এক টলি সদস্য। সামনেও এনেছেন নিজেদের অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা। দাবি এইসবের এইবার অবসান হোক। অবসান হোক এই ঝুঁকিপূর্ণ শুটিং ব্যবস্থা। কারণ কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারানো কোনোদিনই কাম্য নয়।