DEBANGSHU BHATTACHARYA: বঙ্গের প্রাক্তন শাসকদলের হেরে যাওয়ার পর থেকেই সেই দলেরই কর্মীদের দলের ব্যাপারে অভিযোগ করা একটি ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।তারপরেও থেমে যাননি তৃণমূল নেত্রী। উল্টে তৃণমূল দলের এক তরুণ নেতা দেবাংশু জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই একটা মিটিং করেছেন দলের সোশ্যাল মিডিয়া এবং আইটি কর্মীদের সাথে।সেখানে তাঁদের মনোবল বাড়ানো থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? এই নিয়ে আলোচনা হয়।
নেতার সাফ দাবি, “আসলে পরাজয়টা যে পরাজয় নয়, এটা আসলে ছিনিয়ে নেওয়া, এটা যে আসলে কারচুপি। শুনুন আমরা যারা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলাম, আমি বিশেষ করে যেহেতু সদস্য হয়েছিলাম আলাদা করে। আমি তো প্রত্যক্ষ করেছি পুরোটা। আসলে কী প্রক্রিয়ায় নির্বাচনটা করেছে”, ভোট কাউন্টিংয়েরে ভেতরে গোলযোগ ছিল বলেই দাবি দলের।
“ভোট যখন শেষ হয়েছে চার্জ ৬০ পারসেন্ট শেষ হয়েছে, আর কাউন্টিংয়ের সময় সেটা জখম ইভিএমটা গোনা হচ্ছে তখন দেখা যাচ্ছে সেটা ৯৫ পারসেন্ট, চার্জ তো বাড়তে পারে না! আর স্ট্রং রুমে কারো হাত দেওয়ার কথা নয়! তাহলে বাড়ল কি করে? এগুলোর জবাব কে দেবে?” দৃঢ় দাবি দেবাংশুর।
দলের খারাপ সময়, এক এক করে ভোল বদলাচ্ছেন সবাই। দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই নিয়েছেন একাধিক তারকা প্রার্থী, সেই ব্যাপারে নেতা দেবাংশুকে প্রশ্ন করা হলে, কড়া কথায় জবাব দিলেন এই দ্বিচারিতারকে নিয়ে। এমনকি তারকাদের ‘নর্দমার জল’ বলতেও বাকি রাখলেন না নেতা।
তাঁর কথায়, “এদের মধ্যে অনেকেই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চেও বসতেন। তাহলে মাইকটা হাতে নিয়ে বলে দিলেও পারতেন তখন। কি অসুবিধা ছিল? কথা বলতে পারেননি বলে তো লাভ নেই। এরা তো কেউ সুযোগ সুবিধা নিতেও ছাড়েননি। এরা যদি কেউ সুযোগ সুবিধা না নিতেন, না নিয়ে তারপর আজকে বলতেন আমি মেনে নিতাম। ধরুন, চিরকাল যারা আমাদের বিরুদ্ধে টলিউডে ছিলেন, এরকম প্রচুর মানুষ আছেন যাঁরা আমাদের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। এই সমস্ত মানুষগুলো তারা যদি আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলেন, তাঁদের কথাগুলো মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু যারা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, সবরকমভাবে নিজেদের প্রতিপত্তি খাটিয়েছেন, তারা এখন সরকার চেঞ্জ হয়ে গেছে বলে এই সমস্ত কথা বার্তা বলছেন। মানুষ কি এগুলো কিছু বুঝতে পারছেন না! এক নম্বর কথা। আর দুই নম্বর কথা হচ্ছে যে, আজ মমতা বন্দোপাধ্যায় যখন কবি প্রণামের অনুষ্ঠান করলেন এক থেকে দু’দিন আগে, ৯ তারিখে, সেই দিনকে দেখবেন, শিল্পী জগতের প্রচুর মানুষ ছিলেন। এখন ব্যাপারটা হচ্ছে যখন অতিবৃষ্টি হয়, অতিবৃষ্টিতে যখন বন্যা হয়, তখন ড্রেনের জল গঙ্গার জল এক হয়ে যায়। তখন সেটা আলাদা করা যায় না। যখন আবার একটু গরম পড়ে তখন গঙ্গার জল গঙ্গায়, এই নর্দমার জল নর্দমায় ফিরে যায়।এখন নর্দমা, নর্দমায় ফিরে গেছে”, কটাক্ষ স্পষ্ট দেবাংশুর বক্তব্যে।
দলের ভেতর থেকে মুখ খুলছেন অনেকে, সেই বিষয়ে, তরুণ তৃণমূল নেতার মত, “দেখুন একটা কথা বলি, যদি কারোর যাওয়ার থাকে তাহলে তাঁরা যান। কাউকে নিজেকে বাঁচাতে হবে, কাউকে ব্যবসা বাঁচাতে হবে, কারোর পারিবারিক সুরক্ষার ব্যাপার আছে। সবাই নার্ভ তো শক্ত করে ধরে রাখতে পারে না। আজকে আমার চোখের সামনে যদি আমার মা বাবা দিদি আক্রান্ত হন, তার জন্য আমায় যদি কোথাও গিয়ে কম্প্রোমাইজ করতে হয়, তাদের সেই ব্যাপারটা আলাদা আমি সেটা নিয়ে কিছু বলছি না। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে আমাকে আগের দলকে গালাগাল করে যেতে হবে! কারণ আপনি আগের দলকে গালাগাল করে অন্য একটি দলে যদি যান, সেই দলটাও কিন্তু আপনাকে কোনোদিন মাথায় তুলবে না। তারাও এটা ভাববে যে আমরা কোনোদিন যদি কাদায় পড়ি আমাদেরও গালাগাল করবে বাইরে বেরিয়ে।”