‘BTW you look good in saree’:সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে অভিনেতা ঋজু বিশ্বাসকে(Riju Biswas) নিয়ে তোলপাড় কাণ্ড। তাঁকে নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। একসময়কার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বউ কথা কও’-এর নায়ক ‘নিখিল’ এখন নেট নাগরিকদের চোখে রীতিমতো ‘ভিলেন’ হয়ে উঠেছেন। ম্যাসেঞ্জারে একাধিক মেয়েকে ‘শাড়িতে ভালো লাগছে’ বলে কমেন্ট করায় মহাবিপাকে পড়েছেন তিনি। অভিনেতার বি’রু’দ্ধে ভার্চুয়াল হে’ন’স্তা’র মতো অভিযোগও উঠেছে। টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক অভিনেত্রীরাও তার বি’রু’দ্ধে মেসেজের স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন। যদিও ঋজু পালটা প্রশ্ন ছুড়েছিলেন, “শাড়িতে ভালো লাগছে বলা কি অ’ন্যা’য়?” তবে এসব করেও বিশেষ লাভ হয়নি বরং কপালে জুটেছে লাগাতার কটাক্ষ, সমালোচনা! সেই পরিপ্রেক্ষিতেই গতকাল ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন অভিনেতা।
সম্প্রতি শহরের একটি অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ(Rudranil Ghosh), সৌরভ দাস(Saurav Das), পায়েল সরকার(Payel Sarkar) ও অনুরাধা মুখার্জী(Anuradha Mukherjee)। তাঁদের কাছে এই প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তারা নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।
এই প্রসঙ্গে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ জানান ইতিবাচক সুরেই বললেন, “পরিচিত একজন মানুষ,তিনি অনেকগুলো মানুষকে শাড়ির প্রশংসা করেছেন। অন্য কোনো কথা বলেছেন কি, আমার তো তা জানা নেই? আমি বুঝতে পারছি না যে আমি যদি বারবার আপনাকে বলি যে আপনি বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় শাড়ি পড়েন,সুন্দর করে চুল কাটেন,আপনাকে খা’রা’প দেখতে লাগছে, এটা বলবার জন্য কি? তা তো নয়! যদি কোনো একজন মানুষ বলেন এর মধ্যে গন্ডগোল আছে কি নেই তা আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। প্রশংসা করলেও, সমস্যা না করলেও সমস্যা, একজনকে প্রশংসা করলে বাকিরা রে’গে যাবে, বাকিদের করলে অনেকে রে’গে যাবে, যারা কাউকে প্রশংসা করার সাহসই করে না তারাও রেগে যাবে। আমি কেন করলাম না, এ আমি বুঝতে পারছি না? আমার একটাই জিনিস মনে হয়েছে শাড়ি সবথেকে সুন্দর একটি পোশাক এইটা প্রমাণিত হয়েছে, কে ভুল কে ঠিক এটার থেকে। যারা ট্রোল করেন এটা তাদের কাজ। আপনারা গোপনে খোঁজ নিন, দেখবেন তারা মাইনে পান। ইন্ডাস্ট্রির কে,কি বলছেন তা আমার জানার প্রয়োজন নেই। আমি ব্যক্তি একজন মানুষ,আমার ভালো লাগা, খারাপ লাগা আছে। প্রত্যেকটা মানুষের ভালো লাগা খারাপ লাগা গুলো আলাদা। আমার দেশের আইনের বি’রু’দ্ধে গিয়ে যদি আমার ভালো লাগা হয়, তাহলে সেটা অ’প’রা’ধ। এর বাইরে আমি কোনো কিছু বুঝিনা। আমাদের এখানে মেয়েদের রাতেরবেলা বেরোতেই বারণ করেছে। এবার আমার দেশের মহিলাদের ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম তারা গিয়ে রাতেবেলায় খেলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে এল। আমার মনে হয় যারা লুঙ্গি পরতে ভালোবাসেন, তাদের এই শাড়ির মেসেজে খুব রা’গ হয়েছে, এটা আমি নিশ্চিত।”
অভিনেতা সৌরভ দাস অনেকটা ব্যঙ্গাত্মকভাবে এই প্রসঙ্গে জানান, “এমন একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষ কথাবার্তা বলতে পারছেন ফা’স্ট’ট্রে’শন শেয়ার করতে পারছেন। নেটের দাম এখন বেশিও না। চালিয়ে যান। এরকম একটা জায়গা থাকা উচিত যেখানে গিয়ে তুমি তোমার রা’গ বার করতে পারছ। আগেকার দিনে নেট ছিলনা যখন মানুষ ছাদে গিয়ে চিৎকার করত। এখন ফেসবুকে চিৎকার করছে। এরকম ধরনের কথা সবাই লেখে ওঁ সেলিব্রেটি বলে তাই ঋজুকে নিয়ে বেশি হচ্ছে। তারপর ওঁ পরে যেকটা জিনিস লিখেছে সেগুলো হয়ত ঠিক নয়। তো ওইটুকু যদি বলে থাকে তাহলে কিসের অসুবিধা। আমার তো মনে হয় একটু ক্রিয়েটিভিটি থাকলে ভালো হত, একটু অন্য অন্য ধরনের মেসেজ করত, এখানেও খাটল না একটু দেখতে খা’রা’প লাগে তাই না।”
অভিনেত্রী পায়েল সরকারের কথায়, “আমার মনে হয় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে লোক বলে, শুধু এই একটা ঘটনার ক্ষেত্রে নয়। এবার এই ঘটনাটা কতটা ঠিক এবং কতটা ভুল সেটা আলাদা বিষয়। এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হাফ পঞ্চায়েত বসানো এটা আলাদা ব্যাপার। যখন বহু মানুষ রাস্তায় আন্দোলন করতে নেমেছিল তখন সেখানেও এই হাফ পঞ্চায়েত বসেছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতে যেকোনো ঘটনাকে বা যেকোনো মানুষকে তার একটা বক্তব্য বা তার একটা কাজ নিয়ে আমাকে যদি বাজে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে নিয়ে যায় বা আমাকে অসম্মান করে, তাহলে আমি সেটার প্র’তি’বা’দ করব। আমি সেটা সোশ্যাল মিডিয়াতে জাহির করে বলতে যাব না। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বা যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রে কারোর কি মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে? সেটা কি সত্যি মানুষ শুনতে চাইছে? আপনারা মতামত দিচ্ছেন তারা একবার ভেবে দেখতে পারেন এই যে আমরা এত ক’ষ্ট করে ভেবেচিন্তে আমাদের মতামত গুলো পোস্ট করছি, সেগুলো দেখতে কে আগ্রহী? সোশ্যাল মিডিয়ায় একইরকম মেসেজ যদি আমি হাজার জনকে করি, সেটা একটু বা’জে। এবার তিনি যদি লাইভে এসে এ বিষয়ে ক্ষ’মা চেয়ে থাকেন তাহলে তো আমার মনে হয় এই বিষয়ে আর কিছু কারোর বলার কথাই নয়। এবং উনি যাদেরকে বলেছেন তারা যদি ক্ষ’মা করে থাকেন, তাহলে তো মিটে গেল।”
আরও পড়ুন:Riju-Alokananda:অভিনেতা ঋজু বিশ্বাসের বি’রু’দ্ধে বি’স্ফো’র’ক অভিযোগ আনলেন অলকানন্দা গুহ
অভিনেত্রী অনুরাধা মুখার্জী জানিয়েছেন, “খারাপটাকে খারাপ বল। কিন্তু তুমি শাড়ি পরে একটা ফটো দিয়ে বলছ, ohh we are looking lovely in saree, আমার মনে হয় এটা বোকা বোকা। তোমার যদি কাউকে নিয়ে সমস্যা থাকে, তার বাড়িতে যাও দুটো থাপ্পড় মে’রে এসো, বা তার সাথে কথা বলে এসো বা পুলিশকে জানাও। এখন যেটা হচ্ছে আমার মনে হয় না যে খুব একটা শিক্ষিত প’দ’ক্ষে’প বলে। কারণ আমার মনে হয় এটা নিয়ে দু’দিন হবে, তিন দিনের মাথায় এটা কেউ মনে রাখবে না যেটা আমরা বারেবারে দেখে এসেছি, এটা আর একটা উদাহরণ। তো এটা ফালতু একটা নিজের পাবলিসিটি স্টান্ট মনে হয়। যে ব্যক্তির কথা বারবার বলা হচ্ছে তিনি ছাড়া কি এই ধরনের মেসেজ ওনাদের আর কি কেউ কোনোদিন করেনি? আমার মনে হয় উনি একটা জায়গায় অভিনয় করেন বলে এত বাড়াবাড়ি। আমি একদম বলছি না উনি একদম ধোয়া তুলসি পাতা। কিন্তু আমরা যেটা করছি ওনাকে খা’রা’প বলতে গিয়ে তাহলে ওনার সাথে আমাদের শিক্ষার তফাৎ কি রইল? খারাপ বল, খারাপ বলে ছেড়ে দাও। কিন্তু এই ব্যাপারটা যেটা ফেসবুকে হচ্ছে সেটা ঠিক নয়।”
আরও পড়ুন:Riju Biswas:একাধিক মহিলাকে অ’শা’লী’ন মন্তব্য, বি’ত’র্কে’র মাঝে পাল্টা যুক্তি ঋজুর
এছাড়াও অভিনেত্রী মল্লিকা ব্যানার্জী রায়ের মন্তব্যে ইতিবাচক সুর ধরা পড়ল। তিনি জানিয়েছেন, “BTW you look good in saree’ নিয়ে চারিদিকে খুব উত্তেজনা হচ্ছে। ঠিক আছে সবাইকে পাঠিয়েছে এমন কিছু তো নয়। আমার মনে হয় কোনো নি’র্যা’ত’ন harrasment মন্তব্য তো করেনি। ভারতীয় নারীদের তো শাড়িতেই সুন্দর লাগে। এইভাবে পজিটিভলি নিয়ে নেওয়াই ভালো। আর এখন আমার মনে হয় যে ওঁর কাজকর্ম একটুখানি হয়ত কম বা ডি’প্রে’শ’নে আছে বা কিছু। এই নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে করতে না মানুষকে আরও ডিপ্রেশনে পাঠিয়ে দেওয়ার কোনো কারণ আমি দেখছি না। ওঁ সরি তো বলছে, এবার ক্ষ’মা করে দিতে পারলে তো আমরাই কত বড় মনের মানুষ এটাই তো পরিচয় হবে। এটা নিয়ে এবার বন্ধ হোক। সোশ্যাল মিডিয়া খুললে এটা নিয়ে মিম বানানো হচ্ছে, বিভিন্ন অ্যাড বানানো হচ্ছে, আমার মনে হয় এবার এটা বন্ধ করা উচিত।”