Vinod Khanna:প্র’য়া’ত অভিনেতা বিনোদ খান্না মানেই শুধু পর্দার দাপুটে উপস্থিতি নয়, বরাবরই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং স্পষ্টভাষী মনোভাব তাঁকে রেখেছিল আলোচনার কেন্দ্রে। কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক এবং জীবনদর্শন সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অকপট। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার এক কোণে ফের ঘুরে বেড়াচ্ছে তাঁর একটি পুরানো সাক্ষাৎকারের ভিডিও, যেখানে অভিনেতাকে খোলাখুলিভাবে অ’ন্ত’র’ঙ্গ’তা ও যৌ’ন চা’হি’দা নিয়ে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। অক্ষয় খান্নার বর্তমান ছবি ‘ধুরন্ধর’ ঘিরে আলোচনার আবহেই যেন আবার ফিরে এসেছে বাবার সেই পুরানো বক্তব্য।
সাক্ষাৎকারে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে বিনোদ খান্নাকে বলতে শোনা যায়, মহিলাদের প্রতি তাঁর নিজস্ব চা’হি’দা’র কথা তিনি কখনও অস্বীকার করেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি কোনও সাধু নন এবং অন্য সাধারণ মানুষের মতো তাঁরও যৌ’ন’তা’র প্রয়োজন রয়েছে। নারীদের ছাড়া জীবন কল্পনা করা সম্ভব নয়। এই কথাও অকপটে স্বীকার করেছিলেন অভিনেতা। সেই সময়কার সমাজে এমন সরাসরি মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই চর্চার জ’ন্ম দিয়েছিল, আর আজও সেই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক ও কৌতূহলের সৃষ্টি করছে।
বিনোদ খান্নার ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই ছিল জটিল এবং বহুমাত্রিক। একাধিকবার তাঁর সম্পর্ক এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত উঠে এসেছে সংবাদ শিরোনামে। দু’বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। প্রথম স্ত্রী গীতাঞ্জলি খান্না, যিনি অক্ষয় খান্নার মা, এবং পরে কবিতা খান্না। জীবনের নানা বাঁকে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া এই অভিনেতা কখনও নিজের জীবনকে গোপন রাখার চেষ্টা করেননি।
অন্যদিকে, তাঁর ছেলে অক্ষয় খান্না ঠিক উল্টো মেরুর মানুষ। বাবার মতো প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে কখনওই স্বচ্ছন্দ নন তিনি। করিশ্মা কাপুর বা তারা শর্মার মতো অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর নাম জড়ালেও, এই সম্পর্কগুলি নিয়ে অক্ষয় নিজে কখনও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তারা শর্মা প্রসঙ্গে বারবারই তিনি বলেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিনের বন্ধু মাত্র। এখনও পর্যন্ত বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি অক্ষয় খান্না, আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি স্পষ্ট। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতাকে বলতে শোনা যায়, তিনি দা’য়ি’ত্ব’হী’ন, নিশ্চিন্ত জীবন পছন্দ করেন। তাঁর মতে, সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার চেয়ে বড় বোঝা আর কিছু নেই। নিজের মতো করে বাঁ’চা, নিজেকে নিয়ে ভাবা এই স্বাধীনতাকেই তিনি ‘চমৎকার জীবন’ বলে মনে করেন।
বিনোদ খান্নার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ১৯৭৫ সালে, যখন তিনি আধ্যাত্মিক গুরু ওশোর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। কেরিয়ার ও পরিবার থেকে সরে গিয়ে তিনি চলে যান আমেরিকার ওরেগনে, যেখানে গড়ে উঠেছিল ওশোর আশ্রম ‘রজনীশপুরম’। সেই সময় অক্ষয় খান্না ছিলেন খুবই ছোট। বলিউডের চূড়ান্ত সাফল্যের শিখর থেকে হঠাৎ এমন বৈরাগ্যের পথে হাঁটা এই সিদ্ধান্তও তাঁকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনার জ’ন্ম দিয়েছিল।
দীর্ঘ ও বর্ণময় জী’ব’নে’র শেষে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল, ৭০ বছর বয়সে প্র’য়া’ত হন বিনোদ খান্না। মৃ’ত্যু’র আগে কয়েক বছর তিনি ক্যা’ন’সা’রে’র সঙ্গে ক’ঠি’ন ল’ড়া’ই চালিয়েছিলেন। আজ তাঁর বলা সেই পুরনো কথাগুলি আবার নতুন করে ভাইরাল যা মনে করিয়ে দেয়, বিনোদ খান্না শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং নিজের সত্যিটা নির্ভীকভাবে প্রকাশ করতে জানা এক ব্যতিক্রমী মানুষ ছিলেন।