Prantikk Banerjee:রুপোলি পর্দার উজ্জ্বলতা অনেক সময়েই বাস্তব জীবনের কঠিন অধ্যায়গুলো ঢেকে দেয়। দর্শকের চোখে যাঁরা সবসময় আলোয় ভরা, তাঁদের জীবন যে সবসময় মসৃণ হয় না, সেই কথাই সম্প্রতি অকপটে জানালেন জনপ্রিয় অভিনেতা প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের সংগ্রাম, কাজের অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত জীবনের আর্থিক টানাপোড়েনের কথা তুলে ধরেছেন। প্রতীকের এই স্বীকারোক্তি ইন্ডাস্ট্রির সেই অদেখা দিককে সামনে এনেছে, যা সচরাচর আলোচনায় আসে না।
প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রায় ১৮ বছরের অভিনয় জীবনে তাঁকে একাধিকবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বাইরে থেকে যতই তাঁর কেরিয়ার সফল বলে মনে হোক না কেন, বাস্তবে এমন অনেক সময় এসেছে যখন মাসের পর মাস কোনো কাজ ছিল না। সেই সময় পরিবার চালানো, দৈনন্দিন খরচ সামলানো সব মিলিয়ে প্রবল আর্থিক চাপে পড়তে হয়েছে তাঁকে। অভিনেতার কথায়, এই সময়গুলো তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর মধ্যে অন্যতম।
অভিনেতা জানান, ” দিন আনি দিন খাই,বেছে কাজ করব এমন নয়। বছরে কাজ আছে পাঁচটাই। বছরে পাঁচটা কাজ এলেই পাঁচটা করার চেষ্টা করি। আমার মনে হয় না আমার সঞ্চয়ও কিছু আছে। একটা কাজ যদি সাত মাস ধরে হয় তাহলে সাত মাসই আমাদের আয়। আমাদের কাজটা তো অফিসের মতো নয়। এখন যদি তিন থেকে চারটে কাজ করি সেটা ৭ থেকে ৮ মাস পরে, তাও সেটা আমাকে এতবার এত লোককে ধরে ধরে গিয়ে বলতে হবে,বোঝাতে হবে। তারপর গিয়ে লোক বুঝবে আমি কাজ করি।”
কাজের অভাব যে একজন শিল্পীর জীবনে শুধু আ’র্থি’ক নয়, মা’ন’সি’ক দিক থেকেও কতটা প্রভাব ফেলে, সে কথাও তুলে ধরেছেন প্রান্তিক। তিনি জানান, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, নিয়মিত কাজ না থাকার দুশ্চিন্তা এবং সংসারের দায় এই সবকিছু মিলিয়ে মা’ন’সি’ক চাপ ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছিল। একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার ল’ড়া’ই’য়ে’র পাশাপাশি নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাটাও তখন সহজ ছিল না।
এই কঠিন সময়েই তাঁর মনে অভিনয় ছেড়ে অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হওয়ার ভাবনাও এসেছিল। প্রান্তিক স্বীকার করেন, পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল হয়ে উঠেছিল যে বিকল্প পথ খোঁজার কথা ভাবতে হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের ওপর বিশ্বাসই তাঁকে এই পেশায় টিকে থাকতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, মন থেকে চাইলেই যে কোনো ল’ড়া’ই’য়ে ফিরে আসা সম্ভব এই বিশ্বাসটাই তাঁকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।
এই দীর্ঘ সংগ্রামের পথে প্রতীকের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর পরিবার। বিশেষ করে তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিঃশর্ত সমর্থন তাঁকে ভে’ঙে পড়তে দেয়নি। কঠিন সময়েও তাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন, মা’ন’সি’ক জোর জুগিয়েছেন এবং আশা হারাতে দেননি। প্রতীক কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেন, পরিবারের এই সহানুভূতি ও সাহস জোগানো না থাকলে হয়তো আজ তিনি এখানে পৌঁছতে পারতেন না।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, এখন তিনি বেশ কয়েকটি নতুন প্রোজেক্টে কাজ করছেন। ধীরে ধীরে কাজের পরিমাণ বাড়ছে এবং জীবনের গতি আবার স্থিতিশীল হওয়ার পথে। যদিও অতীতের অভিজ্ঞতা তাঁকে বাস্তববাদী করেছে, তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর বিশ্বাস, ধারাবাহিক পরিশ্রম আর ধৈ’র্য থাকলে কঠিন সময় পেরিয়ে ভালো দিন আসবেই।
প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই খোলামেলা সাক্ষাৎকার আবারও মনে করিয়ে দেয় পর্দার গ্ল্যামার, জনপ্রিয়তা আর আলো ঝলমলের আড়ালেও বহু শিল্পীর জীবন ভরা থাকে সংগ্রাম আর অনিশ্চয়তায়। সাফল্যের গল্পের পাশাপাশি এই বাস্তবতার কথাও জানা জরুরি, কারণ এখানেই লুকিয়ে থাকে একজন শিল্পীর প্রকৃত ল’ড়া’ই এবং মা’ন’সি’ক দৃঢ়তার গল্প।