Kanchan-Sreemoyee:“আমার মে’য়ে’কে বলছে এক রাতের রে’ট কত? আমার মেয়েকে নিয়ে নোং’রা’মি করলে ছেড়ে কথা বলব না” – সা’ই’বা’র ট্রো’লা’র’দে’র ক’ড়া হুঁ’শি’য়া’রি শ্রীময়ী চট্টরাজের

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Kanchan-Sreemoyee:সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রো’লিং, কু’ম’ন্ত’ব্য এবং ব্যক্তিগত গো’প’নী’য়’তা ল’ঙ্ঘ’নে’র ঘটনা দিন দিন উ’দ্বে’গ’জ’ন’ক আকার নিচ্ছে। এই প’রি’স্থি’তি’তে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mullick)ও তাঁর স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ (Sreemoyee Chattoraj) সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাঁদের কন্যাসন্তান কৃষভিকে কেন্দ্র করে হওয়া কু’ৎ’সি’ত মন্তব্য, অনলাইন হে’ন’স্থা এবং ব্যক্তিগত পরিসরে অনধিকার প্রবেশের বি’রু’দ্ধে একেবারে সোজাসাপটা ও ক’ড়া ভাষায় প্র’তি’বা’দ জানালেন। সাক্ষাৎকার জুড়ে শ্রীময়ীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ক্ষো’ভ, প্রতিবাদ, আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক সচেতনতার স্পষ্ট বার্তা।
সাক্ষাৎকারে শ্রীময়ী জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু মন্তব্য করা হয়েছে যা শুধু আ’প’ত্তি’ক’র’ই নয়, রীতিমতো অ’প’রা’ধ’মূ’ল’ক। এক ব্যক্তি তাঁদের কন্যাসন্তানকে নিয়ে মন্তব্য করে জানতে চেয়েছিল “এক রাতের রে’ট কত?” এই প্রশ্নের জবাবে শ্রীময়ী বলেন,“আমার মেয়েকে বলেছে এক রাতের রে’ট কত? আমার প্রথম কথা, আমার মেয়ের এক রাতের রে’ট বোঝার ক্ষ’ম’তা এখন বোধহয় হয়নি।”

তিনি আরও যোগ করেন,“তার বাবা-মায়ের এখনও বেঁচে আছে, তাদের এত রোজগার করার কোনো প্রয়োজন নেই, রে’ট জানারও দরকার নেই। আমার মনে হয় আগে ওনার মায়ের রে’ট’টা জানলে ভালো হয়।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, শিশুদের নিয়ে এই ধরনের যৌ’ন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য কতটা নীচু মা’ন’সি’ক’তা’র পরিচয় দেয়। শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রীময়ী সরাসরি ট্রো’লা’র’দে’র সামনে আসার চ্যা’লে’ঞ্জ’ও ছুঁ’ড়ে দেন। ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে আড়ালে বসে কু’ক’থা বলার প্রবণতাকে ক’টা’ক্ষ করে তিনি বলেন,“যারা আড়ালে বসে কু’ক’থা বলে, তাদের আমাকে সামনে এসে বলতে হবে। যদি তুমি আমার কাছে ওয়ান-ইজ-টু-ওয়ান একটা কথা বলে দেখাও, তখন আমি মানব না যে আমি অভিনেত্রী, না আমি বিধায়কের স্ত্রী, না আমি অমুকের সন্তান। তখন আমি ঠাটিয়ে দুটো চ’ড় মে’রে তোমার থো’ব’ড়া’টা আমি বি’গ’ড়ে দেব।”

তিনি আরও বলেন,“পেছনে একটা লালু-ভুলু ভুলভাল অ্যাকাউন্ট খুলে ফে’ক নিউজ করে বুকের পাটা দেখাচ্ছ, সামনে এসে ফা’ই’ট কর।”
কৃষভির সঙ্গে তার বাবা কাঞ্চন মল্লিকের চেহারার মিল নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ক’টা’ক্ষ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শ্রীময়ী বলেন,“বাবা-মায়ের স’হ’বা’সে’র ফলেই কৃষভি এসেছে। বাবা-মায়ের র’ক্ত’টা’ই থাকবে, বাবা-মায়ের বৈচিত্র্যটাই থাকবে। এটা তো চিরসত্য, এটা নিয়ে ভগবানকে প্রশ্ন করতে পারেন।”

আরও পড়ুন:Dev:ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক দেব

তিনি আরও কটাক্ষ করে যোগ করেন,“আপনি হয়ত আপনার বাবা-মায়ের মতো না হয়ে পাশের বাড়ির পচা কাকুর মতো হয়েছেন, সেটা আপনার বাবা-মায়ের সমস্যা।”
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে FIR বা চাইল্ড কমিশনে অভিযোগ জানানো হচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে শ্রীময়ী স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। তাঁর কথায়,“ওর জন্য আমাকে চারবার কোর্টে যেতে হবে, আমার মেয়ের নামটা চারবার কোর্টে আনতে হবে। কেন? আপনি ই’ন’সি’কি’উ’র কারণ আপনি আমার মেয়ের জায়গাটা নিতে পারছেন না।”
সমালোচনা বা কু’ম’ন্ত’ব্যে তিনি যে একেবারেই বিচলিত নন, তা স্পষ্ট করে শ্রীময়ী বলেন,“আমার মেয়েকে আপনি যদি ‘ছুঁ’চো’ বলেন, ও ছুঁ’চো হবে না। যদি ‘হনুমান’ বলেন, আমার মেয়ে আমার মেয়েই থাকবে।”এই বক্তব্যে তাঁর মাতৃত্বের দৃ’ঢ়’তা এবং সন্তানের প্রতি অটল বিশ্বাস স্পষ্ট।শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, বাস্তব জীবনেও ব্যক্তিগত গো’প’নী’য়’তা ল’ঙ্ঘ’নে’র অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন শ্রীময়ী।

আরও পড়ুন:Ankush-Mimi:বে’টিং অ্যাপ কা’ণ্ডে ইডির বড়সড় পদক্ষেপ, অঙ্কুশ ও মিমি সহ একাধিক তারকার কো’টি টা’কা’র স’ম্প’ত্তি বা’জে’য়া’প্ত

তিনি জানান,“আমি হাসপাতালে গেছি চি’কি’ৎ’সা করাতে। এক ভদ্রলোক এসে অ’স’ভ্যে’র মতো ভিডিও করছেন। আমি বারবার বারণ করলাম—কেন লুকিয়ে ভিডিও করছেন? আমি না করতে পারি, উনি আবার আরেক জনকে দিয়ে করিয়েছেন।”
এই ঘটনার পাশাপাশি তিনি আরও জানান,“আমার বাড়িতে একটি আয়া দিদি ছিলেন, রাত্রেবেলা ভিডিও করে আমার বাড়িটা পুরো ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে। কেন?”
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,“লু’কি’য়ে ভিডিও করাটা একটা ক্রি’মি’না’ল অ’ফে’ন্স।”এবং উল্লেখ করেন, বড় বড় জায়গায় ফোন জমা রেখে ঢুকতে হয়, সেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও গো’প’নী’য়’তা র’ক্ষা’র অধিকার থাকা উচিত।
নিজের মা’ন’সি’ক’তা ও পারিবারিক শিক্ষার কথা বলতে গিয়ে শ্রীময়ী বলেন,“অ’ন্যা’য় যে করে সেও চোর, আর অ’ন্যা’য়’কে যে প্র’শ্র’য় দেয় সেও চোর। অ’ন্যা’য়ে’র শুরুতেই প্র’তি’বা’দ করা জরুরি।

এই প্রসঙ্গে তিনি তাঁর বাবার শেখানো আদর্শের কথাও উল্লেখ করেন,“আমার বাবা বলেছেন—মা’র খেয়ে আসবি না, মে’রে আসবি।”
কাঞ্চন মল্লিকও এই সাক্ষাৎকারে ট্রো’লা’র’দে’র মা’ন’সি’ক’তা নিয়ে উ’দ্বে’গ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,“একটা ১১–১০ মাসের কন্যাসন্তানকে যারা এই ধরনের কথা বলতে পারে, তারা সা’ই’কো’ল’জি’ক্যা’লি সি’ক।”
তিনি আরও মনে করেন, “এদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে বিহাইন্ড দ্য বার করা উচিত। এরা নেকড়ের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
শ্রীময়ী ও কাঞ্চন দুজনেই মনে করেন, ডিজিটাল যুগে বাকস্বাধীনতার অ’প’ব্য’ব’হা’র হচ্ছে। শ্রীময়ীর কথায়,“বাক-স্বাধীনতার একটা বাজে ব্যবহার হচ্ছে।” আর কাঞ্চন মল্লিক যোগ করেন, ইন্টারনেটের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এই নোং’রা’মি’ও বেড়েছে, যার জন্য একটি সীমারেখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:Vivaan Ghosh:”দিশা স’ম’কা’মী ছিল কি না, সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই…”, দিশার মৃ’ত্যু’র দায় কার? ১০ বছর পর ভা’ঙ’ল অভিনেতা ভিভান ঘোষের নীরবতা

সাক্ষাৎকারের শেষে শ্রীময়ী সম্পর্ক, সম্মান ও মানবিকতার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন,“তুমি আমাকে ভালোবেসে বলো আমার জুতোটা ওখান থেকে ওখানে রাখতে, আমি তোমার জুতো পর্যন্ত বয়ে দেবো।” কিন্তু একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন,“You can’t order me. তুমি আমাকে কিনছ না। তোমাকে শিখতে হবে কীভাবে মানুষের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়।”
মানুষের পরিচয় প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল আরও ক’ঠো’র “মান আর হুঁশ নিয়ে আমরা মানুষ। না থাকলে চিড়িয়াখানায় থাক।”
এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শ্রীময়ী চট্টরাজ ও কাঞ্চন মল্লিক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন – সাইবার বুলিং, শিশুদের নিয়ে কু’ম’ন্ত’ব্য এবং ব্যক্তিগত গো’প’নী’য়’তা লঙ্ঘন কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সা’হ’সী ও স্প’ষ্ট’বা’দী এই অবস্থান সমাজে ডিজিটাল নৈতিকতা ও মানবিকতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে আনছে।

Leave a Comment