Saptarshi-Sohini:“দায়িত্ব নিতে চান না সপ্তর্ষি”..১৪ বছরের ছোট স্বামী! ১৩ বছরের দাম্পত্যেও সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল সোহিনী সেনগুপ্ত

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Saptarshi-Sohini:ভা’লো’বা’সা বয়স মানে না একথা যেন নতুন করে প্রমাণ করেছেন টলিপাড়ার জনপ্রিয় দম্পতি সোহিনী সেনগুপ্ত (Sohini Sengupta)ও সপ্তর্ষি মৌলিক (Saptarshi Moulik)। বয়সের ব্য’ব’ধা’ন, সমাজের ক’টা’ক্ষ কিংবা ভা’ঙা স’ম্প’র্ক সব বা’ধা উ’পে’ক্ষা করে একসঙ্গে পথ চলছেন তাঁরা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে। নান্দিকার নাট্যদলে শিক্ষক ও সিনিয়র শিল্পী হিসেবে থাকা অবস্থায় তরুণ সপ্তর্ষিকে প্রথমে শা’স’ন’ই করতেন ‘দিদিমণি’ সোহিনী। কিন্তু সেই ব’কু’নি থেকেই জন্ম নেয় বন্ধুত্ব, আর ধীরে ধীরে সম্পর্ক পৌঁছায় প্রে’মে। ২০১৩ সালে ‘নাচনী’ নাটকে কাজ করতে করতেই তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গ’ভী’র হয়। মাত্র তিন মাসের প্রে’মে’র পরই মালাবদল করার সিদ্ধান্ত নেন দু’জনে। স্বাতীলেখা (Swatilekha Sengupta) ও রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তে(Rudraprasad Sengupta)-র কন্যা সোহিনী এর আগে একবার বিয়ের অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন অভিনেতা গৌতম হালদার(Goutam Halder)-এর সঙ্গে তাঁর দা’ম্প’ত্য টে’কে’নি। কিন্তু অতীতের সে অধ্যায় কিংবা সপ্তর্ষির সঙ্গে ১৪ বছরের বয়সের ফারাক কোনও কিছুই তাঁদের নতুন সম্পর্কে বাঁ’ধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

বিয়ের পর অবশ্য কম চ্যা’লে’ঞ্জে’র মুখোমুখি হতে হয়নি অভিনেত্রীকে। বয়সে ছোটো স্বামীকে ঘিরে নানা ক’টা’ক্ষ, তি’র্য’ক মন্তব্য, এমনকি অনেক সময় কেউ কেউ সপ্তর্ষিকে তাঁর ছেলে বলেও ব্য’ঙ্গ করেছেন। কিন্তু এই সব বি’দ্রু’প’কে কখনও গুরুত্ব দেননি সোহিনী। বরং প্রতিবারই নিজের আত্মবিশ্বাসী অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তাঁর সম্পর্কের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে কোনও দ্বি’ধা নেই তাঁর। আবার জন্ম নিলে একই মানুষটিকেই বিয়ে করতে চাইবেন এ কথাও অকপটে বলেছেন তিনি।

সম্প্রতি সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের (Sujoy Prasad Chatterjee) একটি পডকাস্টে হাজির হয়ে জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন সোহিনী সেনগুপ্ত, ‘মা’ না হওয়ার সিদ্ধান্ত। ছোটপর্দার জনপ্রিয় ‘পুটুপিসি’ জানান, বায়োলজিক্যাল সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু তাঁর একার নয়, বরং তিনি ও সপ্তর্ষি দু’জনেরই মিলিত ইচ্ছার ফল। তাঁর কথায়, সপ্তর্ষির ক্ষেত্রে বাবা না হওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল খুবই সচেতন এবং ভেবে নেওয়া। সপ্তর্ষি নাকি স্পষ্টভাবেই বলেছেন তিনি কখনও বাবা হতে চান না, কারণ সেই বিশাল দায়িত্ব নিতে তাঁর ভালো লাগে না। সোহিনীও জানান, আজও তিনি স্বামীকে এই প্রশ্ন করেন, আর সপ্তর্ষির উত্তর একই থাকে – ‘ওই দায়িত্বটা ও নিতে চায় না।’

আরও পড়ুন:Kanchan-Sreemoyee:“আমার মে’য়ে’কে বলছে এক রাতের রে’ট কত? আমার মেয়েকে নিয়ে নোং’রা’মি করলে ছেড়ে কথা বলব না” – সা’ই’বা’র ট্রো’লা’র’দে’র ক’ড়া হুঁ’শি’য়া’রি শ্রীময়ী চট্টরাজের

তাহলে সোহিনী নিজে কি কখনও মাতৃত্বের ইচ্ছে অনুভব করেননি? অভিনেত্রীর আত্মস্বীকারোক্তি একসময় বিষয়টি তাঁর কাছে কৌ’তূ’হ’লে’র মতোই মনে হয়েছিল। অন্যকে সন্তান জন্ম দিতে দেখে হালকা আগ্রহ জেগেছিল বটে, কিন্তু তা ছিল পরিস্থিতি দেখে প্রভাবিত হওয়ার ফল। তাঁর ভাষায় তিনি কোনোদিন প্রবল ইচ্ছা থেকে মা হতে চাননি। যদি সত্যিই চাইতেন, তবে নিশ্চয়ই সেই পথ বেছে নিতেন। বরং প্রশ্ন জেগেছিল তাঁর মনে – ‘শুধু বাচ্চা হলেই কি জীবনে সুখ আসে? শুধুই বিয়ে হলেই কি সুখ নিশ্চিত হয়?’ সোহিনীর যুক্তি একটি সন্তানের সমস্ত দায়-দায়িত্ব, নিয়মিত যত্ন, প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যাওয়া ফিরিয়ে আনা এসব তিনি নিজেকে দিয়ে সম্ভব বলে কখনও মনে করেননি।

আরও পড়ুন:Anindita Bose:এক নয়, একাধিক স’ম্প’র্ক ভা’ঙ’ন! অনিন্দিতা বসুর জী’ব’নে প্রে’ম কি শুধুই অধ্যায় বদল?

নিজেদের এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জন্য অনেকের প্রশ্ন, অনুযোগ বা সামাজিক চাপ আসলেও সেগুলোকে পাত্তা দেন না অভিনেত্রী। বরং দৃ’ঢ় কণ্ঠে বলেন, তিনি তাঁর সংসারে, তাঁর স্বামীর সঙ্গে খুব ভালো আছেন। তাঁদের সম্পর্ক নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং পরস্পরের প্রতি আস্থায় ভরপুর। তাই বাইরে কে কী বলছে, তা নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না। স’মা’লো’চ’না, ম’ন্ত’ব্য বা ট্রো’লিং সবকিছুকেই তু’চ্ছ করে নিজের মতো করে বাঁচতে জানেন সোহিনী। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন, বাইরের কেউ নয়।

ভা’ঙা দাম্পত্যের অভিজ্ঞতা, বয়সের ব্য’ব’ধা’ন, সামাজিক ক’টা’ক্ষ সবকিছু ছাপিয়ে তাঁদের দাম্পত্য আজও সমান উজ্জ্বল। সন্তান নেওয়ার মতো গুরুতর বিষয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা থেকে সরে এসে নিজের মতো পথ হাঁটার সাহস দেখিয়েছেন সোহিনী ও সপ্তর্ষি। আর সেই কারণেই হয়ত তাঁদের সম্পর্ক শুধু প্রে’মে’র গল্প নয় বরং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পারস্পরিক বো’ঝা’প’ড়া’র এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

Leave a Comment