Parambrata-Anupam: পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়(Parambrata Chatterjee)। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই কৌ’তূ’হ’ল তু’ঙ্গে। তবে তাঁর বিয়ে যেন সেই কৌ’তূ’হ’ল’কে আরও কয়েকগুণ বা’ড়ি’য়ে দিয়েছিল। কারণ তিনি বি’য়ে করেছিলেন তাঁর বন্ধু, সংগীতশিল্পী অনুপম রায় (Anupam Roy)-এর প্রা’ক্ত’ন স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তী(Piya Chakraborty)-কে । আর এই সিদ্ধান্তের জে’রে অভিনেতাকে একসময় তী’ব্র স’মা’লো’চ’না ও নি’র্ল’জ্জ ট্রো’লিং’য়ে’র মু’খে প’ড়’তে হয়। পাশে ছিলেন পিয়াও, তাঁকেও ছাড়েনি নে’ট-দু’গ্ধ পোষ্যদের একাংশ। এতদিন এ বিষয়ে মু’খ না খু’ল’লে’ও, অবশেষে একটি পডকাস্টে সেই বি’ত’র্ক ঘে’রা অ’ধ্যা’য়ে’র কথা বলতে গিয়ে নিজের মা’ন’সি’ক অভিজ্ঞতা ভা’গ করে নিলেন পরমব্রত।
একটি বিশিষ্ট পডকাস্টে অভিনেতার গলায় শোনা গেল অ’ক’প’ট স্বর। পরমব্রত বলেন বি’য়ে’র সময় থেকেই তিনি নিজেকে মা’ন’সি’ক’ভা’বে শ’ক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি সেই সময়ই নিজের চারপাশে একটা গণ্ডারের চা’ম’ড়া তৈরি করেছি। বুঝে গিয়েছিলাম ব্যক্তিগত ভা’ব’না, স’মা’জ-রা’জ’নী’তি নিয়ে আমার ম’তা’ম’ত প্রকাশ করে লা’ভ নেই। আমি তো কোনো দেশ পা’ল্টা’তে যাচ্ছি না। তাই নিজের চি’ন্তা’ভা’ব’না নিজের মধ্যেই রাখি। আর যদি লিখতেই হয়, তাহলে কমেন্ট ব’ন্ধ করে দিই, দেখিই না।”
কিন্তু তাতেও প’রি’স্থি’তি খুব একটা সহজ ছিল না। বিয়ের পরপরই শুরু হয়েছিল একের পর এক কু’ৎ’সা, ক’টা’ক্ষ ও বি’দ্বে’ষ’পূ’র্ণ ম’ন্ত’ব্য। সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ যেন নবদম্পতিকে নি’শা’না করতেই উ’ঠে প’ড়ে লাগে। সেই সময় যে মা’ন’সি’ক অ’ভি’ঘা’তে’র মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছিল, তা লু’কো’ন’নি অভিনেতা। পরমব্রতের ভাষায়,“বি’য়ে’র পর যখন দেখলাম কী ভ’য়ং’ক’র প’রি’স্থি’তি তৈ’রি হল, সত্যি বলতে প্রথম কয়েকটা দিন ভী’ষ’ণ’ভা’বে প্র’ভা’বি’ত হয়েছিলাম। ৪–৫ দিন ধরে ভি’ত’রে ভি’ত’রে ভে’ঙে পড়েছিলাম। মানুষ পাবলিক ফোরামে যে ধরনের কথা লেখে সেই মা’ন’সি’ক’তা বা ন্যা’য়’বো’ধে’র মধ্যে আমি বড় হইনি। তাই বড় ধা’ক্কা লেগেছিল। শুধু আমাকে বলছে বলে নয় বরং ভেবেছিলাম, এভাবে কীভাবে কেউ কথা লিখতে পারে?”
তিনি আরও যোগ করেন “শুরুতে খুব অ’বা’ক হয়েছিলাম, হ’তা’শ হয়েছিলাম। কিন্তু শে’ষ’মে’শ বুঝলাম এটাই বা’স্ত’ব’তা। এই নী’চ’তা’য় না’ম’তে তারা প্রস্তুত। আমি কী করব? আমার কিছু করার নেই। সেই জায়গা থেকেই নিজেকে শ’ক্ত করলাম, নিজের জন্য সেই গণ্ডারের চা’ম’ড়া বানালাম।”
২০১৫ সালে অনুপম রায় (Anupam Roy) এবং পিয়া চক্রবর্তী(Piya Chakrabarty)-র বি’য়ে হয়েছিল। তাঁদের স’ম্প’র্কে’র ই’তি ঘটে কয়েক বছর পর, এবং ২০২১ সালে আইনত বি’চ্ছে’দ হয়। এরপরে ধীরে ধীরে পিয়ার সঙ্গে ঘ’নি’ষ্ঠ হতে থাকেন পরমব্রত। যদিও দু’জনের পরিচয় ছিল অনেক আগেই অনুপমের সূত্রেই প্রথম আ’লা’প। কিন্তু অনুপম-পিয়ার স’ম্প’র্কে’র শে’ষে’র পর থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব গ’ভী’র হয় এবং সময়ের সঙ্গে তা প্রে’মে’র রূপ নেয়।
তবে প্রে’মে’র কথা প্র’কা’শ্যে কখনও স্বী’কা’র করেননি দু’জনের কেউই। দীর্ঘদিন ধরে শুধুই জ’ল্প’না, গু’ঞ্জ’ন আর ই’ঙ্গি’ত। অ’ব’শে’ষে সব জ’ল্প’না’র অ’ব’সা’ন ঘ’টি’য়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরের এক শীতের সকালে নী’র’বে আ’ই’নি বি’য়ে সারেন পরমব্রত ও পিয়া। এরপর জমকালো প্রীতিভোজের আয়োজন হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ।
কিন্তু তাঁদের ব্যক্তিগত সি’দ্ধা’ন্তে সবচেয়ে বেশি আ’ও’য়া’জ ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনুপম রায়ের নাম জ’ড়ি’য়ে একের পর এক বি’দ্বে’ষ’পূ’র্ণ ম’ন্ত’ব্য, নোং’রা ইঙ্গিত, চ’রি’ত্র’হ’ন’ন সবই স’হ্য করতে হয়েছিল নবদম্পতিকে। অনেকেই তাঁদের স’ম্প’র্ক’কে ‘নৈ’তি’ক’তা’র প্রশ্নে’ টেনে এনে আ’ক্র’ম’ণ করেন। সেই ট্রো’লিং’য়ে’র মাত্রা এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, তা ব্যক্তিগত আ’ঘা’তে’র প’র্যা’য় ছুঁ’য়ে যায়। অথচ পরমব্রত বা পিয়া কেউই পা’ল্টা মুখ খো’লে’ন’নি। কোনো প্র’তি’বা’দ, কোনো পা’ল্টা পোস্ট নয়, তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন নী’র’ব’তা।
সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ব’দ’লা’য়। অনুপম রায়ও পরে নতুন জীবনের পথে হাঁটেন। গায়িকা প্রশ্মিতা পালের সঙ্গে বি’বা’হ’বন্ধ’নে আ’ব’দ্ধ হন তিনি। ফলে বি’ত’র্কে’র তী’ব্র’তা কিছুটা ক’মে আসে। আর এর মধ্যেই আসে নতুন সুখবর পরমব্রত ও পিয়া পুত্র সন্তানের বাবা-মা হন। তাঁদের জীবনের নতুন অধ্যায় যেন সমস্ত কো’লা’হ’লে’র ওপরে উঠে গিয়ে স্থি’র, প্র’শা’ন্ত এক অবস্থানে দাঁ’ড়া’য়।
আজ এতদিন পর ঘ’টে যাওয়া ঘ’ট’না’গুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে পরমব্রত বুঝতে পারেন এই অভিজ্ঞতা তাকে মা’ন’সি’ক’ভা’বে আরও দৃ’ঢ় করে তুলেছে। নিজেকে র’ক্ষা করতে শিখিয়েছে, ব্যক্তিগত সু’খ-দুঃ’খ’কে ব’হি’র্বি’শ্বে’র অ’নৈ’তি’ক আঙুল থেকে আ’ড়া’ল করতে শিখিয়েছে।
কেউ তাঁকে ভা’লো’বে’সে দেখেছে, কেউ আবার অ’প’ছ’ন্দ করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের সি’দ্ধা’ন্তে’র পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
আর তাই হয়ত অভিনেতার স্বী’কা’রো’ক্তি আরও তাৎপর্যপূর্ণ –
“কেউ আমাকে ব’দ’লা’তে পারবে না। আমাকেই নিজের জন্য শ’ক্ত হতে হবে।”