Koel Mallick: জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick) শুধু তাঁর অভিনয় দ’ক্ষ’তা নয়, বরং ব্য’ক্তি’ত্ব, স্প’ষ্ট’ভা’ষি’তা এবং জী’ব’ন’বো’ধে’র জন্যও দর্শকদের কাছে স’মা’ন’ভা’বে স’মা’দৃ’ত। সম্প্রতি সৌ’ন্দ’র্য, বো’ট’ক্স ও ব্য’ক্তি’গ’ত প’ছ’ন্দ নিয়ে তাঁর ম’ন্ত’ব্য নতুন করে আ’লো’চ’না’র জ’ন্ম দিয়েছে। গ্ল্যা’মা’র দু’নি’য়া’য় যখন বা’হ্যি’ক সৌ’ন্দ’র্য’কে প্রায় বা’ধ্য’তা’মূ’ল’ক মা’ন’দ’ণ্ডে প’রি’ণত করা হয়েছে, তখন কোয়েলের বক্তব্য অনেকের কাছেই আ’লা’দা করে ন’জ’র কে’ড়ে’ছে।
বর্তমানে চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতে বো’ট’ক্স, লি’প জ’ব, নো’জ জ’ব বা বিভিন্ন ধরনের ক’স’মে’টি’ক সা’র্জা’রি নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে অভিনেত্রীদের ক্ষে’ত্রে চে’হা’রা’র সামান্য প’রি’ব’র্ত’ন’ও নিয়মিত চ’র্চা’র বিষয় হয়ে দাঁ’ড়ি’য়ে’ছে। এমন প’রি’স্থি’তি’তে কোয়েল মল্লিক এই প্র’ব’ণ’তা নিয়ে প্র’শ্ন তো’লে’ন’নি ঠিকই, কিন্তু নিজের অ’ব’স্থা’ন অত্যন্ত প’রি’ষ্কা’র ভা’ষা’য় তু’লে ধ’রে’ছে’ন।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কোয়েলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি নিজে কখনও বো’ট’ক্স করিয়েছেন কি না। উত্তরে অভিনেত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি কারও ব্যক্তিগত সি’দ্ধা’ন্তে নাক গ’লা’তে চান না। যাঁরা বো’ট’ক্স বা এই ধরনের সা’র্জা’রি করাতে চান, তাঁরা নি’শ্চি’ন্তে করতেই পারেন। কারণ সেটা তাঁদের শ’রী’র, তাঁদের মু’খ। কী করবেন বা কী করবেন না। এই ‘উ’চি’ত-অ’নু’চি’ত’-এর জায়গায় ঢোকা-টা তিনি একেবারেই প্রয়োজনীয় মনে করেন না। তাঁর কথায়,”যাঁরা বো’ট’ক্স করছেন তারা অবশ্যই করবেন, কারণ সেটা তাঁদের শ’রী’র, সেটা তাঁদের মুখ। তাঁরা কী করবেন বা করবেন না, সেটা উ’চি’ত-অ’নু’চি’তে’র জায়গায় আমি ঢু’ক’ব’ই না।”
তবে নিজের ব্যক্তিগত বি’শ্বা’সে’র জায়গাটা তিনি স্পষ্টভাবে তু’লে ধরেছেন। কোয়েলের মতে, প্রত্যেক মানুষই সু’ন্দ’র নিজের মতো করে। স’মা’জে যে নির্দিষ্ট সৌ’ন্দ’র্যে’র ছাঁ’চ বা’নি’য়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে গায়ের রং, চোখের গ’ড়’ন, নাকের আ’কা’র, ঠোঁ’ট, থু’ত’নি কিংবা আ’ই’ব্রো’র নির্দিষ্ট মা’প’কে সৌ’ন্দ’র্যে’র মা’ন’দণ্ড হিসেবে ধরা হয় সেই ধা’র’ণা’য় তিনি বি’শ্বা’সী নন। তাঁর মতে, সৌ’ন্দ’র্য কখনওই একরকম হতে পারে না। তিনি বলেন,”আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় প্রত্যেকটা মানুষ খুব সু’ন্দ’র, প্রত্যেকটা মানুষ নিজের মতন করে খুব সুন্দর। আমরা যে একটা ব্যাপার ফি’ক্স করি যে এরকম গায়ের রঙ থাকলেই সু’ন্দ’র হবে, এরকম নাক, চো’খ, ঠোঁ’ট, থু’ত’নি বা আ’ই’ব্রো হলেই সুন্দর হবে সেরকম কিন্তু নয়।”
অভিনেত্রী আরও বলেন, মানুষের ছোট ছোট খুঁ’ত’ই আসলে তাকে সুন্দর করে তোলে। সবকিছু যদি নি’খুঁ’ত হয়, সব কিছু যদি একেবারে ‘অন-প’য়ে’ন্ট’ থাকে, তাহলে সেই মানুষটি আর আ’লা’দা থাকে না। বরং এই খুঁ’ত’গু’লি’ই একজন মানুষকে ই’উ’নি’ক করে তোলে, তাকে ভি’ড়ে’র মধ্যে আ’লা’দা করে চি’নি’য়ে দেয়। কোয়েলের ভাষায়, খুঁ’ত না থাকলে মানুষ যেন ক্লো’ন’ড হয়ে যায় আ’লা’দা করে চে’না’র মতো কিছুই থাকে না।তাঁর ভাষায়,”মানুষ ছোট ছোট খুঁ’ত নিয়েই তো সু’ন্দ’র হয় গো। সবটাই নি’খুঁ’ত, সবটাই সু’ন্দ’র, সবটাই অন-পয়েন্ট থাকলে আর… আমার মনে হয় সব জিনিস মিলিয়ে একটা মানুষ এবং সেই কারণেই সে ই’উ’নি’ক। সেই কারণেই সে আ’লা’দা, সে ক্লো’ন’ড নয়।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কোয়েল মল্লিক আসলে সৌ’ন্দ’র্যে’র প্র’চ’লি’ত সং’জ্ঞা’কে’ই চ্যা’লে’ঞ্জ করেছেন। তিনি বো’ঝা’তে চেয়েছেন, বা’হ্যি’ক চা’ক’চি’ক্যে’র চেয়ে একজন মানুষের স্ব’কী’য়’তা, নিজস্ব বৈ’শি’ষ্ট্য এবং আ’ত্ম’বি’শ্বা’স অনেক বেশি গু’রু’ত্ব’পূ’র্ণ। যাঁরা সা’র্জা’রি করান, তাঁদের প্রতিও তাঁর কোনও বি’রূ’প ম’নো’ভা’ব নেই। বরং তিনি চান, প্রত্যেকে নিজের সি’দ্ধা’ন্তে স্ব’চ্ছ’ন্দ্য থাকুক এবং নিজের চে’হা’রা নিয়ে ভা’লো থাকুক।
কা’জে’র দিক থেকেও কোয়েলের সময়টা বেশ ভা’লো’ই যাচ্ছে। গত বছর একের পর এক স’ফ’ল ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিনীত ছবি ‘স্বা’র্থ’প’র’(Sharthopor) দর্শকমহলে যথেষ্ট সা’ড়া ফেলেছিল। এরপর বড়দিনের মরশুমে মু’ক্তি পায় ‘মিতিন একটি খু’নি’র স’ন্ধা’নে’(Mitin: Ekti Khunir Sandhaney)। এই ছবিটিও বক্স অফিসে ভা’লো আ’য় করে এবং আ’লো’চ’না’য় থাকে। এমনকি কিছু ক্ষে’ত্রে ছবিটি সৃজিত মুখোপাধ্যায়(Srijit Mukherji) পরিচালিত ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়(Subhashree Ganguly) অভিনীত ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে…’(Lawho Gouranger Naam Rey)-এর থেকেও এগিয়ে যায় বলে শো’না যায়।
এই সা’ফ’ল্যে’র মাঝেই কোয়েল মল্লিকের ভ’বি’ষ্যৎ কা’জ নিয়েও জ’ল্প’না শুরু হয়েছে। টলিপাড়ায় গু’ঞ্জ’ন, ২০২৭ সালে দেবের সঙ্গে ফের বড় পর্দায় জুটি বাঁ’ধ’তে পারেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, দেব নাকি তাঁকে ‘খা’দা’ন ২’(Khadan-2)-এর জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে ছবিটির চিত্রনাট্যের কাজ চলছে। অভিনেত্রী রাজি হলেই এই ছবিতে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে খবর।
সব মিলিয়ে কোয়েল মল্লিকের বক্তব্য শুধু বো’ট’ক্স বা ক’স’মে’টি’ক সা’র্জা’রি নিয়ে সী’মা’ব’দ্ধ নয়। এর মাধ্যমে তিনি এক গ’ভী’র সা’মা’জি’ক বা’র্তা’ই দিয়েছেন সৌ’ন্দ’র্যে’র কোনও একমাত্র সং’জ্ঞা নেই। প্রত্যেক মানুষ আ’লা’দা, প্রত্যেকের মধ্যেই আ’লা’দা আ’ক’র্ষ’ণ আছে। সেই স্ব’কী’য়’তা’কে’ই স’ম্মা’ন করা উ’চি’ত। নিখুঁত হওয়ার দৌ’ড়ে নিজের আসল সত্ত্বাকে হা’রি’য়ে ফে’লা’র চেয়ে, নিজের মতো করে বাঁ’চা’ই যে সবচেয়ে বড় সৌ’ন্দ’র্য সেটাই যেন মনে করিয়ে দিলেন টলি কুইন।