Madhabi Mukherjee: বর্ষসেরায় বর্ষশুরু সিনেমার সমাবর্তন ২০২৬ এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঋত্বিক ঘটক(Ritwik Ghatak)-এর কথা বলতে গিয়ে শুধু স্মৃ’তি’চা’র’ণে’ই থা’ম’লে’ন না মাধবী মুখার্জি(Madhabi Mukherjee)। তাঁর ব’ক্ত’ব্যে উ’ঠে এল একদিকে ঋত্বিক ঘটকের প্রকৃত মূ’ল্যা’য়’নে’র অ’ভা’ব, অন্যদিকে আজকের বাংলা চলচ্চিত্রের সং’ক’ট, দর্শকের দা’য় এবং শি’ল্প ব’না’ম ব্য’ব’সা’র চি’রা’চ’রি’ত দ্ব’ন্দ্ব। প্র’বী’ণ অভিনেত্রীর কথায় ছিল আ’ক্ষে’প, ক্ষো’ভ এবং স্প’ষ্ট বার্তা। যা কা’র্য’ত বর্তমান সময়ের বাংলা সিনেমার ওপর এক তী’ব্র প্র’শ্ন চি’হ্ন তু’লে দেয়।
মাধবী মুখার্জি জানান, তিনি জীবনে বহু পু’র’স্কা’র পেয়েছেন। কিন্তু এই পুরস্কারটি তাঁর কাছে আ’লা’দা গুরুত্ব ব’হ’ন করে, কারণ এটি ঋত্বিক ঘটকের স্ম’র’ণে দেওয়া। তিনি বলেন, “আজকে যে অ্যা’ও’য়া’র্ড’টা পাচ্ছি, অ্যা’ও’য়া’র্ড আগেও পেয়েছি। সেটা শুধু আমার কথা ভেবেই, কিন্তু আজ যেটা পাচ্ছি সেটা হচ্ছে ঋত্বিক ঘটক।” তাঁর মতে, আগের পুরস্কারগুলো মূলত তাঁর নিজের কাজকে কে’ন্দ্র করেই এসেছে, কিন্তু এই স’ম্মা’ন যেন তাঁকে আবার ফি’রি’য়ে নিয়ে যায় ঋত্বিক ঘটকের শি’ল্প’ভা’ব’না’র কাছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আজকের এই স্বী’কৃ’তি কেবল একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর নয়, বরং ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে যু’ক্ত থাকার এক ঐ’তি’হা’সি’ক স্মা’র’ক।
ঋত্বিক ঘটককে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মাধবী মুখার্জির গ’লা’য় ছিল গ’ভী’র আ’ক্ষে’প। তাঁর ব’ক্ত’ব্যে উ’ঠে আসে, ঋত্বিক ঘটককে তাঁর জী’ব’দ্দ’শা’য় স’মা’জ বা ই’ন্ডা’স্ট্রি কেউই প্রকৃত অ’র্থে বুঝতে পারেনি। তাঁর কা’জে’র গ’ভী’র’তা, চি’ন্তা’র ব্যা’প্তি এবং শি’ল্পী স’ত্ত্বা’র গু’রু’ত্ব তখনকার মানুষ উ’প’ল’ব্ধি করতে ব্য’র্থ হয়েছিল। মাধবীর বি’শ্বা’স, হয়ত আজ না হলেও ভ’বি’ষ্য’তে’র কোনো এক সময়ে মানুষ বু’ঝ’বে ঋত্বিক ঘটক কেবল একজন পরিচালকই নন, তিনি ছিলেন এক অনন্য শি’ল্পী ও অভিনেতা, যাঁর ভা’ব’না সময়ের অনেক আগেই জ’ন্ম নিয়েছিল। তাঁর কথায়, “যে মানুষটাকে আমরা ঠিকমতো চিনতে পারিনি, তাঁর কা’জ আমরা বু’ঝ’তে পারিনি। কিন্তু আমার মনে হয় আজকে না হোক একদিন না একদিন মানুষ বুঝতে পারবে ঋত্বিক ঘটক কি ধরনের ডি’রে’ক্ট’র ছিলেন, অভিনেতা ছিলেন।”
এই প্রসঙ্গ থেকেই স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে বর্তমান বাংলা চলচ্চিত্রের বাস্তবতায়। মাধবী মুখার্জি(Madhabi Mukherjee) খো’লা’খু’লি স্বী’কা’র করেন, এখন সবসময় ভা’লো ছবি তৈ’রি হচ্ছে না। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু তার চেয়েও বড় স’ম’স্যা হল, ভা’লো ছবি তৈ’রি হলেও সেগুলো দেখার মতো দর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর মতে, বহু প্র’তি’ভা’বা’ন পরিচালক আজ ছবি বা’না’তে পারছেন না, কা’র’ণ প্রেক্ষাগৃহে সেই ছবির জায়গা নেই, দর্শকের স’ম’র্থ’ন নেই। শি’ল্প চ’র্চা ক্রমশ কো’ণ’ঠা’সা হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, “জানি বর্তমানে সবসময় ভা’লো ছবি হয় না, মানুষকে দর্শক এবং আপনাদের সকলের কাছে অ’নু’রো’ধ জানাই ভা’লো ছবি যারা করেন তাদের ছবি আপনারা একটু দেখবেন।”
তিনি সরাসরি দর্শকদের উদ্দেশ্যে আ’বে’দ’ন জানান। যাঁরা ভা’লো ছবি বা’না’ন, তাঁদের কাজ অন্তত একবার হলেও দেখে বি’চা’র করুন। শুধুমাত্র সহজ বি’নো’দ’ন বা ব্য’ব’সা’য়ি’ক ফ’র্মু’লা’র দিকেই যদি দর্শকের ঝোঁ’ক থাকে, তাহলে শি’ল্প’স’ম্ম’ত সিনেমা টি’কে থাকবে কীভাবে? মাধবীর মতে, দর্শকের প’ছ’ন্দ’ই ঠিক করে দেয় ভ’বি’ষ্য’তে’র সিনেমার দিশা। দর্শক মু’খ ফি’রি’য়ে নিলে, ভা’লো পরিচালকরা আর সা’হ’স পাবেন না নতুন কিছু করার।
এই কথার সূত্র ধরেই তিনি শেয়ার করেন ঋত্বিক ঘটকের একটি বি’খ্যা’ত ঘ’ট’না’র কথা, যা আজও সমানভাবে প্রা’স’ঙ্গি’ক। এক প্রযোজকের সঙ্গে ঋত্বিক ঘটকের ক’থো’প’ক’থ’নে’র গল্প তু’লে ধ’রে মাধবী মুখার্জি জানান, ঋত্বিক ঘটক একবার একটি স্ক্রিপ্ট পড়ে শোনানোর পর প্রযোজক বলেছিলেন – এতে খুব একটা ব্য’ব’সা হবে না। সেই কথায় ঋত্বিক ঘটক যে জবাব দিয়েছিলেন, সেটাই তাঁর শি’ল্প দ’র্শ’নে’র সবচেয়ে বড় প্র’মা’ণ। ঋত্বিক ঘটক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি কেউ শুধুই ব্য’ব’সা করতে চায়, তাহলে সিনেমা নয়- মাং’স বি’ক্রি করুক, মু’র’গি’র দোকান খুলুক। সেখানে লা’ভে’র অ’ভা’ব হবে না, কিন্তু শি’ল্পে’র স’ন্ধা’ন সেখানে মিলবে না।মাধবী মুখার্জির বয়ানে,”ঋত্বিক ঘটকে যেমন ভা’লো’বা’সি তেমন আর একজনের নাম বলি একজন শি’ল্পী জোহর রায়(Jahar Roy)… কেউ আসছে নারে আমার কাছে ছবি করার জন্য তখন বললেন যে ঠিক আছে আমি পাঠাব। জোহর দা একজনকে পাঠালেন। তাঁর টা’কা প’য়’সা আছে এবং করবে (ছবি )। তিনি আসলেন বললেন বলো কি করবে এবং ঋত্বিক দা তাকে একটা স্ক্রিপ্ট পড়ে শোনালেন। শুনে বলেন..না এতো ব্য’ব’সা হবে না। বলল ব্য’ব’সা করতে চাও, তাহলে তুমি মু’র’গি কেন কা’টো আর মাং’স বি’ক্রি করো, অনেক টা’কা পাবে, আমার কাছে পাবে না..।”
মাধবী মুখার্জির বক্তব্যে স্পষ্ট, ঋত্বিক ঘটকের কাছে সিনেমা ছিল লা’ভে’র অ’ঙ্ক নয়, ছিল আ’ত্ম’প্র’কা’শে’র মাধ্যম, স’মা’জে’র প্রতি দা’য়’ব’দ্ধ’তা’র ভা’ষা। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেই দৃ’ষ্টি’ভ’ঙ্গি যেন আরও বে’শি করে প্র’শ্নে’র মু’খে। কারণ বর্তমান চলচ্চিত্র জগতে ব্য’ব’সা’য়ি’ক সা’ফ’ল্য’ই হয়ে উঠেছে প্রধান মা’ন’দ’ণ্ড, শি’ল্পে’র গ’ভী’র’তা নয়।
স’ব’শে’ষে আবারও দর্শকদের কাছে আ’বে’দ’ন জানান মাধবী মুখার্জি(Madhabi Mukherjee)। তাঁর মতে, দর্শক যদি দা’য়ি’ত্ব না নেন, তাহলে ভা’লো সিনেমা ধী’রে ধী’রে হা’রি’য়ে যাবে। প্রে’ক্ষা’গৃ’হে ভা’লো ছবির উ’প’স্থি’তি নি’শ্চি’ত করতেই হবে দর্শকদের। তবেই পরিচালকরা সা’হ’স পাবেন নতুন গল্প বলতে, নতুন ভাষায় সিনেমা বানাতে যেমনটা একসময় হত।
মাধবী মুখার্জি(Madhabi Mukherjee)-র এই বক্তব্য শুধু স্মৃ’তি’চা’র’ণ নয়, বরং এক তী’ক্ষ্ণ স’ত’র্ক’বা’র্তা। ঋত্বিক ঘটকের দর্শনকে সামনে রেখে তিনি যেন আজকের বাংলা চলচ্চিত্রের সামনে আয়না ধরেছেন। প্র’শ্ন’টা স্পষ্ট আমরা কি শি’ল্প চাই, নাকি শুধু ব্য’ব’সা? সেই উত্তর খুঁজে পাওয়ার দা’য় আজ শুধুই পরিচালকদের নয়, দর্শকদেরও।