June Maliah: সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাথে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের অন্যতম সদস্য জুন মালিয়া(June Maliah)এমন এক বক্তব্য রাখলেন, যা নতুন করে রা’জ’নৈ’তি’ক ও সা’মা’জি’ক মহলে আ’লো’চ’না উসকে দিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)-কে নিয়ে তাঁর স্পষ্ট ও অ’ক’প’ট ম’তা’ম’ত অনেকের কাছেই চমকপ্রদ। জুন মালিয়া পরিষ্কার জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীত্বের সংখ্যা বা ক্ষ’ম’তা’র অ’ঙ্ক ক’ষে তিনি কখনও তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ভাবেননি। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিত্ব, সং’গ্রা’ম এবং দীর্ঘ ল’ড়া’ই তাঁকে গ’ভী’র’ভা’বে প্রভাবিত করেছে এই কারণেই তাঁর প্রতি এক আ’লা’দা ভা’লো লাগা ও শ্রদ্ধাবোধ কা’জ করে।
সাক্ষাৎকারে জুন মালিয়া জানান, রা’জ’নৈ’তি’ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কখনওই সুবিধাবাদী ছিলেন না। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) মাত্র দু’বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। এই তথ্য তাঁর কাছে কখনও মুখ্য ছিল না। তাঁর কথায়, “এটা নয় যে দিদি দু’বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বলে আমি টিএমসি যোগ করেছি”..। বরং একজন নারী হিসেবে, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে মমতার যে দীর্ঘ পথচলা, সেটাই তাঁকে বেশি টেনেছে। জুনের মতে, রা’জ’নী’তি’তে যোগ দেওয়া বা না দেওয়া কোনও তাৎক্ষণিক আবেগের ফল নয়,এর পেছনে থাকে ব্যক্তিগত উপলব্ধি এবং মূল্যবোধ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স’ম্প’র্কে কথা বলতে গিয়ে জুন মালিয়া অকপটে বলেন, “আই লাইক দিস ওম্যান, আই লাইক হার স্ট্রাগল(I like the woman, I like her struggle)।” এই একটি বাক্যেই যেন তাঁর অনুভূতির গ’ভী’র’তা ধরা পড়ে। মমতার রা’জ’নৈ’তি’ক জীবনকে তিনি শুধুমাত্র ক্ষ’ম’তা’র ল’ড়া’ই হিসেবে দেখেন না, বরং এটিকে দেখেন একটানা সং’গ্রা’মে’র ইতিহাস হিসেবে। তাঁর মতে, মমতা এমন একজন মানুষ, যিনি প্র’তি’কূ’ল পরিস্থিতির সঙ্গে বারবার ল’ড়া’ই করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
জুন মালিয়ার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্য’তি’ক্র’মী সাফল্য’-র প্রসঙ্গ। তিনি মনে করেন, মমতা এমন কিছু করে দেখিয়েছেন, যা তাঁর আগে এই রাজ্যের রা’জ’নী’তি’তে কেউ পারেননি। তাঁর কথায়, “একমাত্র উনিই পেরেছেন যেটা কেউ তো পারেনি।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, রা’জ’নৈ’তি’ক কা’ঠা’মো, সা’মা’জি’ক বাধা এবং প্র’তি’কূ’ল পরিবেশ সবকিছুকে অ’তি’ক্র’ম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে জুন মালিয়া বিশেষভাবে তুলে ধরেন মমতার সাধারণ পারিবারিক ও সা’মা’জি’ক পটভূমির কথা। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও রা’জ’নৈ’তি’ক ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। কোনও প্র’ভা’ব’শা’লী পরিবার, বড় দল বা শ’ক্তি’শা’লী গোষ্ঠীর ছায়া ছাড়াই তিনি রা’জ’নী’তি’র ময়দানে পা রাখেন। জুনের ভাষায়, “ওঁনার তো কোনও ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না… পুরোটাই গ্রাসরুট থেকে উঠে এসেছে।” এই ‘গ্রাসরুট’ থেকে অর্থাৎ মাটি থেকে উঠে আসার ল’ড়া’ই-ই মমতাকে অন্যদের থেকে আ’লা’দা করে তুলেছে বলে তিনি মনে করেন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি জুন মালিয়া তুলে ধরেছেন, তা হল পুরুষতান্ত্রিক স’মা’জ’ ব্যবস্থার বি’রু’দ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরন্তর ল’ড়া’ই। তাঁর মতে, রা’জ’নী’তি এমন এক ক্ষেত্র, যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই পুরুষদের আধিপত্য চলে এসেছে। সেই পরিসরে দাঁড়িয়ে একজন মহিলা হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করা মোটেই সহজ নয়। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ক’ঠি’ন পথেই হেঁটেছেন এবং বারবার পুরুষতান্ত্রিক মা’ন’সি’ক’তা’কে চ্যা’লে’ঞ্জ জানিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে জুন মালিয়া বলেন, “তিনি এই পুরুষতান্ত্রিক জগতকে অ’স্বী’কা’র করেছিলেন।” তাঁর মতে, এই চ্যা’লে’ঞ্জ জানানো শুধু রা’জ’নৈ’তি’ক সাফল্যের বিষয় নয়, বরং এটি সা’মা’জি’ক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রেও এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু মহিলার কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন, যাঁরা মনে করেন, প্র’তি’কূ’ল’তা সত্ত্বেও নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, জুন মালিয়ার বক্তব্য শুধুমাত্র একজন রা’জ’নৈ’তি’ক নেত্রীর প্র’শং’সা নয়, বরং এটি এক নারী নেতৃত্বের প্রতি গ’ভী’র স’ম্মা’ন ও স্বীকৃতি। ক্ষ’ম’তা, পদ বা রা’জ’নৈ’তি’ক হিসেবের বাইরে গিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেছেন তাঁর সং’গ্রা’ম, সা’হ’স এবং দৃ’ঢ়’তা’র প্রতীক হিসেবে। আর সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছে তাঁর সেই স্পষ্ট অবস্থান ক্ষ’ম’তা’র অঙ্ক নয়, বরং ল’ড়া’ই’য়ে’র গল্পই তাঁকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।