“এতটাই অচ্ছুৎ, ক্যান্সারকে এখনও ছোঁয়াচে রোগ বলা হয়,একঘরে করে রাখা হয়…” ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেতা চন্দন সেন। এবার ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়াবেন তিনি!
টেলিভিশন ও সিনেমার দুনিয়া তো অনেক পরে, অভিনেতা চন্দন সেনের প্রথম প্রেম থিয়েটার। মারণরোগের সঙ্গে লড়াই করে জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন অভিনেতা চন্দন সেন। এত যন্ত্রণা সহ্য করেও লড়ে যাচ্ছেন প্রতিটা দিন। চন্দন সেন এক দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবনীশক্তির উৎস জানতে চাইলে তিনি বলেন,”আমার তো কোনও অপশন নেই, যত দিন আছি, সকলের নানা দাবি আছে, আর কিছু কাজ করার ইচ্ছা আছে, তা করে যেতে চাই।”
সমাজে একসময় কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তদের যেমন একঘরে করে রাখা হত, তেমনি ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদেরও এখনও একঘরে করে রাখা হয়। বর্তমান সমাজে দাঁড়িয়েও মানুষের মানসিকতার বদল হয়নি। সমাজ এখনও ক্যান্সারের ছোঁয়াচে রোগ মনে করে।
এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন,’অশোকনগর নাট্য আনন’ আমার সংগঠন। আমার এই সংগঠনে দু’জন অভিনেত্রী আছেন যাঁরা ক্যান্সার আক্রান্ত। সেই কারণে তাঁরা তাঁদের পাড়ায় ব্রাত্য। বিয়েবাড়ি-সহ কোনও অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পান না। পড়শিরা রীতিমতো এড়িয়ে চলেন তাঁদের! তাঁরা নিজেদের রোগ লুকোতে বাধ্য হন। এখানেই শেষ নয়। ঘরে-বাইরে তাঁরা অস্পৃশ্য! আক্রান্তদের ছোঁয়া বাঁচাতে দূরত্ব বজায় রাখেন বাকিরা। তাঁদের দাবি, ক্যানসার নাকি ছোঁয়াচে!”
অভিনেতা নিজেও ক্যান্সার আক্রান্ত। তারপরেও মনের জোর হারাননি। সেই জায়গা থেকে নিজের নাট্যদলের সদস্যদের সঙ্গে এই আচরণ ব্যথা দেয় অভিনেতাকে। তিনি বলেন,”আমি ভাগ্যবান। আমার সঙ্গে এরকম কিছু ঘটেনি। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিম্ন মধ্যবিত্ত রোগীদের দেখেছি, কী দুর্ব্যবহার পান তাঁরা।”
তাই সচেতনতা বাড়াতে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় এবং সৌরভ দত্তের উদ্যোগে চন্দনের নাট্য সংস্থা ‘নাট্য আনন’ ১২ জুলাই ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে নাটকের আয়োজন করেছেন। অভিনেতা জানান সমাজে সচেতনতা বাড়াতে তাঁর এই উদ্যোগ।
তিনি বলেন, “আমরা ব্রাত্য নই। বাকিদের মতো আমরাও সব পারি, এখনও আমাদের অনেক কিছু দেওয়ার আছে। এই বিশ্বাস আশপাশের মানুষদের পাশাপাশি নিজেদেরও জানাতে চাই। যাতে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।”