Madan Mitra: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ওলটপালট ঘটিয়ে মমতার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী তথা কামারহাটির হেভিওয়েট বিধায়ক মদন মিত্র তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দিতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মদন মিত্রের এই দলবদলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বিরোধী গেরুয়া শিবিরের বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মদন মিত্র রঙিন চরিত্র। মদন মিত্র মানেই রঙ, মদন মিত্র মানেই প্রাণ। তৃণমূলের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই তিনি ছিলেন।”
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য আসলে বোঝাতে চেয়েছেন যে, মদন মিত্র কেবল একজন বিধায়ক নন, বরং তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলটির চালিকাশক্তি ও জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন। তাঁর মতো একজন আদি ও প্রাণবন্ত নেতাকে দল ছাড়তে বাধ্য করার মাধ্যমে তিনি মূলত তৃণমূলের গভীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলের ভেতরে নতুন বনাম পুরনো নেতৃত্বের তীব্র দ্বন্দ্বের দিকেই আঙুল তুলেছেন। বিজেপি মুখপাত্রের এই বক্তব্যের পেছনে লুকানো ছিল এক সূক্ষ্ম রাজনৈতিক কটাক্ষ, যার অর্থ, যে দলটির জন্ম থেকে মদন মিত্র জড়িয়ে ছিলেন, সেখানে আজ আর তাঁর মতো পুরনো ও বিশ্বস্ত নেতাদের কোনো জায়গা বা সম্মান অবশিষ্ট নেই; আর এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এখন আর জোড়া লাগার মতো অবস্থায় নেই।
একের পর এক হেভিওয়েট বিধায়কের দলত্যাগ ও এই তীব্র ডামাডোলের আবহে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে প্রথমে কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, অবশেষে নীরবতা ভেঙে সরাসরি কড়া জবাব দিয়েছেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; এই দলত্যাগীদের ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের কৃতকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, যাঁরা দল ছেড়ে চলে যেতে চান তাঁরা নিশ্চিন্তে চলে যেতে পারেন, কারণ নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, একদা লোকসভায় দলের একমাত্র প্রতিনিধি থাকা অবস্থা থেকে লড়াই করে আজ যেভাবে তিনি ১৮ জন সাংসদ ও অজস্র বিধায়ক তৈরি করেছেন, ঠিক একইভাবে প্রয়োজনে ২০২৬ সালেও তিনি একেবারে ‘শূন্য’ থেকে নতুন করে দল দাঁড় করানোর ক্ষমতা রাখেন।
তবে রাজনৈতিকমহলের মতে, মদন মিত্রের এই সিদ্ধান্ত সবাইকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে, কারণ বিগত দিনে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর অনেক সুবিধাবাদী নেতাই যখন তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে চলে গেছেন, তখনও বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বার বার তৃণমূলকেই শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আঁকড়ে ধরে রাখার বার্তা দিয়েছিলেন এই ‘ কালারফুল বয়’ কিন্তু চিরকাল আনুগত্যের প্রতীক হয়ে থাকা সেই মদন মিত্রেরই আজ এভাবে দলবদল আবারও প্রমাণ করে দিল যে, ক্ষমতার অলিন্দে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু হয় না এবং রাজ্য রাজনীতিতে সত্যিই অসম্ভব বলে কিছুই নেই।