Aparajita Adhya: তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর তাঁর ভাই তথা প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যের ঘনিষ্ঠতা এবং ভাইফোঁটার একটি ছবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছিল বিস্তর সমালোচনা। সেই সময় ট্রোলিংয়ের জবাব দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফের সেই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
ট্রোলিং প্রসঙ্গে অপরাজিতা বলেন, “দর্শক তো আমার ওপর রাগ ওগরায়নি, কিছু মানুষ করেছে, তাঁরা সাধারণ মানুষ বলেও আমি মনে করি না। এবং আমার যা বক্তব্য আমি তো বলেছি, কি বলেছি ভুলেও গেছি! তারপরে আর আমার এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। ওগুলো হয় জীবনে পথ চলতে গেলে ওগুলো ঘটবে।”
অভিনেত্রী জানান, সমালোচনা বা কটাক্ষ তাঁর জীবনে নতুন কিছু নয়। ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের মন্তব্য শুনে বড় হয়েছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই তাঁর বক্তব্য, “যখন ট্রোল শব্দটা আসেনি তখন থেকেই আমি ট্রোলিং-এর মধ্যে দিয়ে গেছি। ছোটবেলায় জামাকাপড় পরা নিয়ে ‘এই দেখেছ, বিজনদার মেয়ে কিরকম জামাকাপড় পরে যাচ্ছে’, ‘এই ধেই ধেই করে কোথায় চলে গেল, সারাদিন নেচে নেচে বেড়াচ্ছে, লেখাপড়া হবে কি করে? সারাদিন শুধু অনুষ্ঠান করছে,’ ওসব শুনে আমি অভ্যস্ত ওসব আমার গায়ে লাগে না। আমি ওসব কে পাত্তা দিই না।”
তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনে খুব দরকারি হচ্ছে আমার বাড়ির লোকজন, যাঁদের সাথে আমি থাকি।আমার কাছে ম্যাটার করে তাঁরা আমার সম্বন্ধে কি ভাবছে, তাঁরা আমার সঙ্গে ভালো আছে কিনা, আমি তাঁদের সাথে ভালো আছি কিনা। আমাকে ভালো রাখার দায়িত্ব হচ্ছে তাঁদের আর তাঁদের ভালো রাখার দায়িত্ব আমার। এর বাইরে কে, কি ভাবছে না ভাবছে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।”
একইসঙ্গে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যদের অযথা প্রশ্নের মুখে পড়তে হওয়া নিয়ে। তাঁর কথায়, “হ্যাঁ আমার যেটা খারাপ লাগে এই আমার ননদ স্কুলে যায় বা এই আমার জা-এরা যায় আমরা তো অনেক বড় পরিবার, তাঁদেরকে বিভিন্ন লোক বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে ভালোও করে খারাপও করে এবার তাঁরা কীভাবে সামলায় তাঁদের ব্যাপার”।
অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক যোগসূত্রের অভিযোগ নিয়েও স্পষ্ট জবাব দেন অপরাজিতা। তিনি জানান, অরূপ বিশ্বাসকে তিনি আজকের রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য নয়, বহু বছর ধরেই চেনেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য, “পরিস্থিতি যখন যেরকম থাকে সেরকম তো আজকে অরূপদাকে তো আমি মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস হিসেবে চিনি না। আমার ২৯ বছর বিয়ে হয়েছে ৩০ বছর আমার অভিনয় জীবন! আর ওনারা কত ১০ বছর না ১৫ বছর এসেছেন, ১০ বছরই ওরা প্রভাবশালী হয়েছে, তার আগেও ২০ বছরের আমার অভিনয় জীবন ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বিয়ে পর থেকে যখন অভিনয় করি তখনই ওনাদের পুজোয় যাওয়া শুরু করি।তখন উনি এমনি সুরুচির অরূপদা-ই ছিলেন। ওনাদের সঙ্গেও আমি এতবার পুজোয় গেছি এত অনুষ্ঠানে গেছি।”
মায়ের মৃ*ত্যু*র সময় অরূপ বিশ্বাসের পাশে থাকার কথাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “গিয়েছিলাম তার কারণও ছিল আমার মা যখন মা*রা গেলেন তখন প্রথম ফোনটা উনিই করেছিলেন। উনিই বলেছিলেন ‘হ্যাঁ রে অপা কি অবস্থা’ কারণ উনি জানতেন আমার মা শয্যাশায়ী!”
বর্তমান সরকারের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ পেলে যাওয়াও স্বাভাবিক বলেই মনে করেন অপরাজিতা। তিনি বলেন, “আজকে আমাদের যে বর্তমান সরকার তাঁরা যদি আমাকে কোনো অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করে তাহলে তো আমি নিশ্চয়ই যাব। আমি তো একা নই আজকে কথিতযশা যেসমস্ত মানুষরা বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ওনাদের সঙ্গে গেছে, সুতরাং পরিস্থিতি যখন যেরকম হয় মানুষত সেইভাবেই চলে।”
সবশেষে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজের সাফল্যের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, “আমার প্রাক্তন শাসকদলের ঘনিষ্ঠতার সাথে কাজের কোনো সম্পর্ক নেই। যাঁরা বলছে, তাঁরা না জেনে বলছে। একজন বড় ব্যক্তি সে যদি না চায় তুমি তো জোর করে তাঁর প্রিয় হতে পারবে না। সে কোনো না কোনো কারণে তোমাকে পছন্দ করে। সেটা কাজের ক্ষেত্রে কখনও…. আমার তো করেনি কখনও। কারণ তার আগে থেকে আমি অপরাজিতা আঢ্য-ই।”