Madan Mitra:‘‘একটি লোকের জন্য ২১৩ পাওয়া দলের সর্বনাশ হলো…’’ তৃণমূল ছাড়ার পরেই বি/স্ফো/র/ক অভিযোগ মদনের

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Madan Mitra:কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবার কোনো রকম নাম না করে নয়, বরং সরাসরি নাম ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ ও হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে তাঁকে ভয় দেখিয়ে বা চমকে কোনো লাভ হবে না, কারণ প্রাণের ভয় তাঁর একেবারেই নেই। গত বুধবার রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত রাজনৈতিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান মদন মিত্র, যেখানে তিনি জানান যে শিবির বদল করার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হোয়াট্‌সঅ্যাপ করে ‘সরি’ বলেছেন এবং পরবর্তীতে রবিবারের রাতে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি লাইভ ভিডিও করে সাবেক দলনেত্রীর প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘প্রাপ্যটা দেননি। বড় গায়ে লাগে।’’

এরপরই একের পর এক বিস্ফোরক তোপ দেগে তিনি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বলেন, ‘‘একটা কথা অভিষেককে বলি, আমাদের চমকে-ধমকে লাভ নেই! তুই ডায়মন্ড হারবার নিয়ে যাঁকে চমকাতে পারিস চমকাস, আমাকে চমকাস না।’’ ক’দিন আগে তাঁকে লক্ষ্য করে গু*লি চালানো হয়েছিল বলে দাবি করে তিনি স্পষ্ট করেন যে এসবে তিনি মোটেও পাত্তা দেন না, এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে তাঁকে সরাসরি অপরাধী ও খু*নি বলতেও দ্বিধা না করে বলেন, ‘‘অভিষেক আপনি তো অপরাধী, খু*নি! পয়সা নিয়ে খু*ন করেন, সুপারি কিলার। আপনার অপরাধ প্রবণতা রয়েছে।’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে কটাক্ষ করে রাজ্যের এই প্রাক্তন মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেককে বলি, যা বলছেন বলুন, আপনাদের চমকানিতে সিপিএম, বিজেপি চমকাবে। মদন মিত্র চমকাবে না।’’ এর আগেও শিবির পরিবর্তনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না তুলে আক্ষেপের সুরে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “দুঃখের বিষয় হল, যখন বাংলার এই সময় নিয়ে ইতিহাস লেখা হবে, তখন লেখা হবে যে, একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩ আসন পেয়েছিল, তার সর্বনাশ হয়ে গিয়েছিল।” রাজনীতির এই চরম উত্তপ্ত আবহে আসন্ন ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে সুর আরও চড়িয়ে এবং ৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মদন মিত্র স্পষ্ট জানান, ‘‘২১ জুলাই সকালে কিন্তু দু’জনেরই মিছিল বার হবে। একটা মমতার, একটা শুভেন্দুর। আমি মমতারও নই, শুভেন্দুরও নই।’’ বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার স্থানটি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হওয়ায় সেখানে বড় কোনো সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে সাবেক আস্থাভাজন এই নেতা বলেন, ‘‘মমতা যেখানে সমাবেশ করবেন, সেটা মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর। ওখানে বেশি গন্ডগোল হলে গুলিগোলা চলবে। বি কেয়ারফুল।’’

বিস্তারিত:Shatarup Ghosh:”এর আগে চুরির কেসে ২৭ মাস জেল খেটে এসেছে…ওঁ মাতাল এবং চোর, এমনি মাতালের কথা ভরসা করতে নেই তার ওপর আবার চোর…” মদন মিত্রের কালীঘাট ছাড়তেই ঝাঁঝালো কটাক্ষের বন্যা! মমতা-শমীকের পর এবার আক্রমণ শতরূপের!

রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তের অন্যতম বর্ষীয়ান এবং বর্ণময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মদন মিত্রের এই ধরণের সরাসরি আক্রমণ তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২১ জুলাইয়ের মতো সংবেদনশীল রাজনৈতিক কর্মসূচির আগে তাঁর এই চরম বিস্ফোরক মন্তব্য এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কার কথা প্রকাশ, নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিয়েছে গোটা রাজ্যে।

Leave a Comment