Shatarup Ghosh: মদন মিত্রের কালীঘাট তথা তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘাসফুল শিবিরের দীর্ঘদিনের এই সৈনিকের হঠাৎ দলত্যাগের সিদ্ধান্তে একসময়ের ‘কালীঘাটের অনুগত’ মদনের দিকে খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সব পক্ষই যেমন ঝাঁঝালো কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছেন, তেমনই এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়ে বিস্ফোরক আক্রমণ শানিয়েছেন বাম যুবনেতা শতরূপ ঘোষ।
মদন মিত্র ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তীব্র নিশানা করে শতরূপ ঘোষ বলেন, “ওঁ মাতালের কথা কখন কি বলে ঠিক আছে? ওঁ মাতাল এবং চোর, এমনি মাতালের কথা ভরসা করতে নেই তার ওপর আবার চোর। গতকাল অবধি একরকম ভেবেছিল এরপর বউয়ের কাছে, ছেলের কাছে ইডির ফোন চলে গেছে ওঁ কি! ওঁর চোদ্দো পুরুষ এখন দল চেঞ্জ করবে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন মদন মিত্রকে নিয়ে নয়। মদন মিত্র আইএসআই-এর চাপ মারা চোর। এর আগে চুরির কেসে ২৭ মাস জেল খেটে এসেছে। যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন তাঁরা জিজ্ঞাসা করছে সেই যদি মদন মিত্ররা ভালো তৃণমূল হয়ে যাবে, সেই যদি ববি হাকিম ভালো তৃণমূল হয়ে যাবে, এমনকি সেই যদি ওই খুনি অনুব্রত সেও ভালো তৃণমূলে তাহলে খারাপ তৃণমূল টা আর কে? তাহলে এইবার মমতা অভিষেককে নিয়ে নিলেই তো হয়ে যায়। ওরাই বা বাকি থাকে কেন? সেই যদি তৃণমূলের লোকেরাই সরকার চালাবে বিজেপির নাম করে তাহলে আর তৃণমূলের সরকার পাল্টে লাভ টা কি হলো? জাভেদ খানের ছেলের নাকি ৯০ টা বেআইনি সম্পত্তি আছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন ফলতায় মিটিং করতে যাওয়ার পরে আপনাদের মনে আছে। এটা বলার একদিন পরে জাভেদ খান ওই বিজেপি আশ্রিত তৃণমূলে যোগ দিলেন। তারপর সাধারণ মানুষের বাড়িতে নোটিশ চলে গেলো। সাধারণ মানুষদের বাড়ি ঘর দর ভাঙার চেষ্টা হলো। গোটা বাংলা জুড়ে সাধারণ মানুষের বাড়ি, সাধারণ হকারের দোকান ভাঙ্গা হচ্ছে। বিজেপিকে ভোট দিয়ে ছিলেন যে গরিব মানুষ তাঁদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হলো কিন্তু জাভেদের ওই ৯০ টা সম্পত্তির দিকে আর কেউ তাকালো না। জাভেদের ছেলে যে নোটিক দেওয়া হয়েছিল ওর একাধিক বিল্ডিং বেআইনি বলে, সেই বেআইনি বিল্ডিংগুলো এখনও রয়েছে। মাথায় তিলক পড়েন গলায় কুণ্ঠীর মালা পরেন, মায়েরা হতে শাঁখা, পলা পড়েন এরকম কত মানুষ হাবড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায়, বাড়ি ঘর দর ভেঙে দিয়েছে বিজেপি সরকার আর জাভেদ খানের ছেলের বাড়িতে একটাও আঁচড় পড়ল না।”
যুবনেতার এই অভূতপূর্ব ও চাঁছাছোলা আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে মদন মিত্রের এই দলবদল স্রেফ কোনো একক ঘটনা নয়, বরং এর রাজনৈতিক জল গড়াতে চলেছে বহুদূর।