Chandrima Bhattacharya:”শ্রদ্ধেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সাথে আমার একটা ফোনে কথা হয়… তিনি আমাকে বলেন যে আমি ওঁদের হাতে তুলে দিয়েছি এই তৃণমূল ভবন…আমি কি করে তুলে দেব হাতে তৃণমূল ভবন?…” দলত্যাগের পর বিস্ফোরক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Chandrima Bhattacharya: চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি পদ সহ দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। গত ৩ জুন এই দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ছেড়ে পদত্যাগ পত্র জমা দেন। দল ছাড়ার কারণ হিসেবে চন্দ্রিমা বলেন, গতকালের তৃণমূল ভবন নিয়ে যেটা ঘটেছে, যেখানে আমার সঙ্গে, যেই বিধায়করা ওখানে গেছিলেন তাঁদের সাথে কোনো কথাই হয়নি। আবার তাঁরা সেই ঘরে এসেছেন যেই ঘরে আমি বসেছি সেরকমও নয়। আমি তাড়াতাড়ি করে চলে এসেছি এরকম একটা ভাবনা ভাবারও কোনো কারণ নেই। আমি প্রতিদিন যে সময় তৃণমূল ভবনে যাই, সেই সময়ই তৃণমূল ভবনে গেছি এবং যতক্ষণ থাকি তার থেকে বোধহয় ১০-১৫ মিনিট বেশিই ছিলাম! কিন্তু আমার সাথে কথা বলতে কোনো বিধায়ক আসেননি।

তারপরে আমি বাড়ি চলে এসছি।তারপরে আমাকে বেশ কিছুক্ষণ পরে শ্রদ্ধেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সাথে আমার একটা ফোনে কথা হয়। তিনি আমাকে বলেন যে আমি ওদের হাতে তুলে দিয়েছি এই তৃণমূল ভবন। এটা আমাকে খুব দুঃখ দিয়েছে।কারণ আমি কি করে তুলে দেব হাতে তৃণমূল ভবন? আমার তো আমার সাথে কথাও হয়নি, দেখাও হয়নি, কিছুই হয়নি। আর আমি এটা তো নিশ্চিতভাবে আমার যে বিশ্বাস যোগ্যতা তার ওপরে একটা সন্দেহ তির যেটা আমার আনুগত্যের…. আমি একেবারে অনুগত সৈনিক হয়ে কাজ করেছি সবসময়। বিগত ১৫ বছরে কেউ বলতে পারব না। জানান কখনও ভাবেননি তাঁর আনুগত্যে প্রশ্ন চিহ্ন উঠবে।

তিনি জানালেন, “তাই রোজ যেতাম।হঠাৎ মনে হলো যে আমি কার হাতে তুলে দিচ্ছি। আমি কেনো তুলে দেবো? যাঁরা যেটা করার সেটা কোর্টে আছে, ইলেকসান কমিশনের কাছে আছে, আমি কোথায় কার হাতে তুলে দেব? কেন তুলে দেব? আমার কাছে আসেইনি তো তাঁরা এই প্রশ্ন উঠল কোথায়?”
আরও জানান, “যেদিন নভহোটেলে আমার ছেলে গিয়েছিল, সেইদিনই গিয়ে কিন্তু আমি পূর্ব মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম যে আমাকে ছেড়ে দিন। সেইদিন উনি বলেছিলেন না ও গেছে গেছে তুমি থাকো। বলে তারপরে আমাকে যে কাজ দিয়েছেন সে কাজ করেছি। এখন উনি বিশ্বাস করবেন না। যেহেতু এখন আমার বিশ্বাসযোগ্যতাটা ওঁনার কাছে একটা ক্ষীণ জায়গায় পৌঁছে গেছে। সেই জন্য হয়তো বিশ্বাস করবেন না।যেদিককে নভোটেলে গেছে ২২ তারিক থেকে আজকে আমরা ৪ তারিখে আছি। গতকাল তিন তারিক সন্ধ্যার আগে অবধি আমি আমার ছেলের সাথে রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলিনি। আগে আমি ওঁর অফিস যেটা রাস্তার ওপরে সেখানেও গিয়ে বসতাম যখন কালীঘাট থেকে ফিরতাম অথবা ভবন থেকে ফিরতাম, আমি সেটাতেও যাইনি। আমাকে যখন ড্রাইভার জিজ্ঞাসা করছে, তখন বলেছি তোর দাদা অন্য দল করে, আমি অন্য দল করি! আমি যাইনি সেই অফিসে, এখন হয়ত সেটা বিশ্বাস করবেন না। কারণ আমার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, তাই কি করব! সেটা উনি যা বলছেন, উনি ভেবেচিন্তে নিশ্চয়ই বলছেন। আমি তো বুঝতে পারছি যে এই বিশ্বাস যোগ্যতা হারানোর দোষটা আমারই।৪৭ বছর বয়স আমার ছেলের, তাই সে সিদ্ধান্ত নিজে নেবে, প্ল্যান করা আমি কোনোদিন করিনি। তার মানে উনি আমাকে কোনোদিন চেনেননি।”

আরও পড়ুন:Rachna Banerjee:”রচনা ব্যানার্জী পশ্চিমবাংলার একমাত্র হিরোইন যে মিস্টার বচ্চনের সাথে কাজ করেছে…আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে… তোমরা কে হে হরিদাস পাল?…” বি/স্ফো/র/ক রচনা ব্যানার্জী! তীব্র নিশানা করলেন মহুয়া, কুণাল ও কল্যাণকে, পাশাপাশি লকেটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ

চোখের কোণে জল নিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, “একটা জায়গায় ছিলাম, কাজ করছিলাম, এটা হয়। পরাজয়টা কোনো ব্যাপার নয়। যাই হোক। সংসদীয় গণতন্ত্রে জয় পরাজয় থাকে। তার মানে আনুগত্য যখন প্রশ্ন চিহ্নের মুখে থাকে তখন আমার কাছে অন্তত সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। আমি বলছি আমিই হয়ত ব্যর্থ। আমি প্রকাশ করতে পারিনি ঠিক করে এটাই হয়ত আমার ব্যর্থতা।”
তৃণমূল নেত্রী ফেরার কথা বললে আবারও কি দলে ফিরবেন? বলেন, “এখানে ফেরার কোনো ব্যাপার নেই।বিশ্বাসযোগ্যতা যখন একবার প্রশ্ন চিহ্নের মুখে থাকে তখন সেটা আর সেই জায়গায় ফিরে আসা যায় না।এখানে আমি উল্লেখ করেছি যে আমি রাজ্য প্রেসিডেন্টের পদ থেকে, এবং এর যতগুলো পদ আছে, আমি আছি ততগুলো পদ থেকে আমি ইস্তফা দিলাম। এবং তার সাথে আমি অনেকগুলো ব্যাংকে, সিগনেটারি হিসেবে রয়েছি অথরাইশড সিগনেটারি আমি সেই, সর্ব ভারতীয় তৃণমূলসহ সেই রিলেটেড আরও অনেকগুলো ও সংস্থা আরও আছে। সেগুলো থেকে আমি উইথড্র করছি।আমি শ্রদ্ধেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সরকারি কন্ট্যাক্ট পারসন হিসেবে, ইলেকশান কমিশন অফ ইন্ডিয়ার সাথে আমি ছিলাম সরকারি কন্ট্যাক্ট পারসন হিসেবে,সুতরাং সেখান থেকেও আমি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।এবং যথাযত সময় আমি ইলেকশান কমিশনকেও আমি জানিয়ে দেব। জীবনে চলার পথে অনেক কিছু হয়। বয়সও তো আমার অনেক হয়েছে। দেখছি অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়েই তো আমরা এই জায়গায় আসি। ঠিক আছে জীবন জীবনের পথে চলে।আমরাও চলব। আপনারাও সবাই ভালো থাকবেন। আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি নিজেকে অভিযুক্ত করছি। আমি হয়ত ব্যর্থ কোথাও তাই এই কথা মনে হয়েছে। যে আমি কারো হাতে তুলে দিচ্ছি! আমি কিন্তু সেইভাবে যাইনি। বিধানসভায় আমি গিয়েছি আমার এই যে পেনশনগুলো পেতে হবে। সেই কাগজপত্র ঠিক করতে হবে। আমি এতদিন যাইনি।এখন আমার মনে হলো আমি তো দল থেকে পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। ফলে আমার এই পেনসান এর কাজগুলো করতে হবে। আজকে বিধানসভাটা খোলা আছে এটা জেনেছিলাম তার কারণ এখানে কোনো অনুষ্ঠান কর্মসূচি আছে,আমি সেখানে যে লোকের সাথে কথা বলব গিয়ে তাহলে যাব কোথায়? সেখানে গিয়ে বসতে তো হবে। আমি তো নিশ্চয়ই সরকার পক্ষের ঘরে গিয়ে বসবো না। বিরোধীপক্ষের ঘরে গিয়েই বসবো তাই বসেছি।”

তাহলে কি এইবার অন্য শিবিরে যেতে চলেছেন চন্দ্রিমা? বলেন, “কলের যাত্রায় সবাইকে পা মেলাতে হয়। আমাকেও মেলাতে হবে। আমি জানি না কোনটা বিদ্রোহী তৃণমূল আর কোনটা আসল তৃণমূল।”

Leave a Comment