Aparajita Adhya:সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভীষণ সমালোচনার শিকার হচ্ছেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। সমালোচনার কারণ হল স্বরূপ বিশ্বাসের দাদা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা দেওয়া। পুনরায় আবার সেই স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর জনসমক্ষে তাঁর সমালোচনা করা। সেই নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন অভিনেত্রী। তবে এবার নিজের সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিওর মাধ্যমে নেটনগরীতে সৌজন্য বনাম সমর্থনের বার্তা ছড়ালেন! কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন সেই সব তথাকথিত শিক্ষিত সমাজকে যাঁরা সৌজন্য ও সমর্থনের পার্থক্য বোঝেন না। এটাও বোঝালেন ‘ডিম ছুঁড়ে’ সব প্রতিবাদ হয় না!
তাঁর বক্তব্য, “আজকে কতগুলো কথা বলার জন্য এই ভিডিওটা আমি করছি, সেটা হচ্ছে কিছু কিছু শব্দ আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এবং সেই শব্দের সাথে জড়িত যে অনুভূতিটা সেটা আমরা ভুলতে বসেছি! বেশকিছু মানুষ সেই শব্দগুলোর সাথে পরিচিত নয়, তাই হয়ত সেই অনুভূতিগুলোর সাথেও পরিচিত নয়। যেমন ‘সৌজন্য’। সৌজন্য শব্দটা কি সেটা মনে হয় অনেকে বোঝেন না। সৌজন্য মানে হচ্ছে কারো প্রতি সম্মান দেখাননো।আমাকে কেউ যদি কিছু বলেন এবং তিনি যদি একটা জায়গায় থাকেন, সম্মানে থাকেন এবং গুণী মানুষ হন, বা ক্ষমতার শীর্ষে থাকেন, তখন তাঁর সেই জায়গা, তার সেই পদ সেই চেয়ারও বলতে পারি তার প্রতি আমরা সৌজন্য দেখাই। সৌজন্য দেখাতে গিয়ে তিনি যদি কোনো অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করেন বা দেখা হলে কেমন আছেন, ভালো আছেন কিনা বলা সৌজন্যের তালিকায় পড়ে! আজকে আমাদের ফ্যামিলিতে আমাদের বাচ্চাকে আমরা সৌজন্যবোধ শেখাই, আমার বাচ্চাকে যদি ক্লাস টিচার স্কুলে বকে তাহলে তো আমরা শেখাই না যে ডিম ব্যাগে করে নিয়ে যাবে তাঁকে ছুঁড়ে মারবে! কারণ সেটা সৌজন্য নয়। আমরা বলি বাড়িতে এসে বলবে, আমরা গিয়ে বলব। এই সৌজন্যবোধ গুলো আমাদের ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়। সুতরাং আজকে যেটা নিয়ে আপনারা খুব বেশি কটাক্ষ ট্রোল করছেন যে আমরা একজন বিশেষ মানুষকে ভাইফোঁটা দিয়েছি তাঁর অনুষ্ঠানে গেছি সেটা নিয়ে হাসাহাসি এবং মানুষের কুরুচিকর মন্তব্যের শেষ নেই। আমরা কিন্তু যাঁরা গেছি সবাই সৌজন্যের খাতিরেই গেছি। ভিডিওটা পুরোটা দেখবেন ১ মিনিট দেখে ফট করে একটা মন্তব্য করে দেবেন না! আঙুলের সাহায্যে যেহেতু সেটা করতে পারেন। পুরোটা শুনতে হবে তারপর। এবং এটা আমার গণমাধ্যমের বন্ধুদের জন্য আমি ভিডিওটা করছি যাঁরা সকাল থেকে রাত অবধি আমাকে ফোন করে যাচ্ছেন এই বিষয়ে জানার জন্য।”
অপরাজিতা জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান করেছেন। সেখানে কথিতযশা ব্যক্তিরা যান তাঁর মধ্যে ওস্তাদ রাশিদ খান ছিলেন, অজয় চক্রবর্তী ছিলেন, ঊষা উত্থুপ ছিলেন। আরও বড় বড় ব্যক্তিত্বরা ছিলেন। প্রচুর মানুষ ওনার বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে যেতেন তাঁরা কেন যেতেন? ক্ষমতা লাভের জন্য? তাঁর থেকে কিছু পাবেন বলে? এদের তো কিছুই পাওয়ার নেই এরা জীবনে সব পেয়ে গেছেন। এরা তো সম্মানের শীর্ষে আছেন। তাহলে তাঁরা কেন যেতেন? কারণ সৌজন্য বিনিময়ের জন্য!আমাকে মুখ্যমন্ত্রী নিমন্ত্রণ করেছেন তাঁর প্রতি সৌজন্য দেখানোর জন্য।প্রত্যেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সাহিত্যিকরা, চিত্র জগতের লোকেরা, আমাদের সিনেমার মানুষরা গায়ক গায়িকারা, নৃত্যশিল্পীরা প্রচুর মানুষ যেতেন, তাঁরা প্রত্যেকে নিজের জায়গায় নামি এবং তারা কথিতযশা তাঁরা কেন যেতেন? কারণ সৌজন্যের জন্য। এবং আমি দেখেছি বর্তমান সরকারে যিনি মন্ত্রী, তিনি তখন ওই সরকার ছিলেন, ওই দলে ছিলেন এবং তাঁকে আমি সেইসময় মূখ্যমন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করতে দেখেছি। এবং সেটাই সৌজন্য। আমি যাঁর দলে আছি এবং যিনি মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আমি বিজয়া দশমীতে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করব এটাই আমাদের সৌজন্য। তারপরে তাঁর মতাদর্শে মেলেনি এবং সে অন্য দলে গেছে এবং অন্য দল থেকে আজকে মন্ত্রী হয়েছেন। কারণ তাঁর মতাদর্শ এক জায়গায়। সৌজন্য আর সমর্থন কখনও এক হয় না। আমি কাউকে সৌজন্য দেখাচ্ছি মানে কাউকে বা তাঁর পরিবারকে সমর্থন করছি এরকম নয়। এটা প্রত্যেকটা মানুষের অন্যায় এবং ভুল যাঁরা এটা করছেন। যে সৌজন্য এবং সমর্থনকে গুলিয়ে ফেলা, এই যে আজকে নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী থেকে শুরু করে দেবশঙ্কর হালদার, চন্দন সেন আরও অনেক মানুষ গেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছেন কিছু পাওয়ার আশায় গেছেন বা চটিচাটা বলে গেছেন? না তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে সৌজন্য দেখাতে গেছেন। তাঁরা সম্মান দেখাতে গেছেন। কালকে রাজ্যসভাপতি একটা কথা বলেছেন, কেউ যদি আমাকে ফোন করেন তাঁর ফোন ধরাটা আমার সৌজন্য, কেউ বাড়িতে আসলে তাঁকে বসতে দেওয়া এবং চা খেতে দেওয়াটা আমার সৌজন্য। তার মানেই আমি তাঁকে সমর্থন করছি সেটা নয়। সুতরাং, আপনারা আজকে যাঁরা বুদ্ধিজীবীরা এত যাঁদের শিক্ষা-দীক্ষা প্রকট, তাঁরা যে এই একটা ছবি নিয়ে বা একটা ভিডিও নিয়ে এত কাটাছেঁড়া করছেন, তাঁরা একবারও দেখছেন না যে এটা একটা সৌজন্যবোধের জায়গা। যাঁরা গেছেন কারণ কোনো মন্ত্রী যদি কাউকে ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করেন এবং নিজে ফোন করেন তাঁকে সৌজন্যবোধ দেখানোটা নাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য। কারণ একজন বিখ্যাত মানুষ যদি একজনকে না নিমন্ত্রণ করেন, না ডাকেন, বা না টানেন তাঁর কাছে তো পৌঁছনোর জন্য অপশন নেই। সেটা তো আপনারাই ভুরি ভুরি নিদর্শন। আপনারাই বলেছেন যে ওমুকের কাছে পৌঁছনো যায় না। সুতরাং, সেই মানুষটাকে চাইতে হবে! এবং সেই মানুষটা যখন আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন তাঁর উপস্থিত হওয়াটা তো সৌজন্যতা এবং সৌজন্যবোধের মধ্যে পড়ে!সৌজন্যবোধ মানেই তো সেটা সমর্থন করা নয়। এবং যে মানুষটাকে আজকে আপনারা বলছেন পাল্টিবাজ! পাল্টি কাকে বলে? আমি একজনকে প্রচণ্ড সমর্থন করে এসছি তাঁর পাশে সারাজীবন দাঁড়িয়ে আন্দোলন করে এসেছি , তাঁর হয়ে কথা বলেছি, তাঁর সাথে আমার খোশগল্প করা ভিডিও আছে , আমি তাঁকে প্রচুর সমর্থন করে এসেছি এখন তাঁর বিপক্ষে কথা বলছি সেটা পাল্টি হয়। সেই মানুষটাকে নিয়ে কথা হচ্ছে আমি তাঁর সাথে সামনাসামনি কোনোদিন কথাই বলিনি প্রকাশ্যে সুতরাং আমি পল্টিবাজ এটা বলার আপনারা কে?এবং এতে কোথায় দেখা গেল যে আমি পাল্টিবাজ?
যে একটা সময় আমি তাঁর দাদাকে ফোঁটা দিতাম এখন আমি তাঁর ভাইয়ের হয়ে কথা বলছি আমি পাল্টিবাজ! আমাকে কোনদিন কোন রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা গেছে? কোন ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে দেখা গেছে? কোথায় দেখা গেছে? আমাকে বোধহয় সবচেয়ে কম অনুষ্ঠানে দেখা গেছে, মহানায়ক, মহানায়িকা আরও কতকিছু আছে যেগুলোতে কোনো দিন আমাকে কিছুতে দেখা যায়নি। খুব কম অনুষ্ঠানে গেছি। যায়নি বললে ভুল হবে, খুব কম অনুষ্ঠানে গেছি। যখনই গেছি সেটা সৌজন্যের জন্য গেছি। সৌজন্য দেখাতে গেছি! কারণ যারা আমাদের দেশে ক্ষমতায় আছে তাঁদের সৌজন্য দেখানোটা নাগরিক হিসেবে আমার কর্তব্য। এবং সময় যেরকম থাকে, পরিস্থিতি যেরকম থাকে, সেরকম অনুযায়ী মানুষের প্রতিবাদের ভাষা বিভিন্ন রকম হয়। আপনারা বলছেন এতদিন মুখ খোলেননি প্রতিবাদ করেননি প্রতিবাদটা কোথায় গিয়ে করতাম আপনাদের বাড়িতে? প্রতিবাদ করেছি কি করিনি জানলেন কি করে? সেটা তো আমার ইন্ডাস্ট্রির লোকেরা জানে প্রতিবাদ করেছি কি করিনি! আজকে সুদেষ্ণা রায় বলতে পারবে। সে যখন ছবি করতে গিয়েছিল তাঁকে ছবি করতে দেওয়া হয়নি তখন সে বলেছিল, ‘অপরাজিতা আমি যদি ছবিটা অন্যভাবে করি তুই করবি তো?’ আমি বলেছিলাম হ্যাঁ আমি করব। দেবের সঙ্গে যখন ‘দেশু-৭’ করার কথা হয় দেব বলেছিল, ‘অনির্বনকে নিয়ে আমি কাজটা করতে চাই, তাই আমাকে ব্যান করতে পারে অপাদি তোমাদেরও ব্যান করে দিতে পারে। তুমি করবে তো?’ আমি, কাঞ্চন, প্রদীপ মামা, চারজনেই বলেছিলাম হ্যাঁ করব। এগুলো হচ্ছে প্রতিবাদ। সব প্রতিবাদ তো আর ডিম ছুঁড়ে সমান হয় না! আর ডিম ছোড়া যদি এত সহজ হতো তাহলে এত বড় নেতারা সব গাড়ির ওপর উঠে যখন ধমকি দিচ্ছিল যখন বাজে কথা বলছিল তখন হাজার হাজার মানুষ ওখানে দাঁড়িয়ে ছিল। সবাই হ্যাঁ হ্যাঁ করে সমর্থনই করছিল। কেউ কি পেরেছে সেইসময় জুতো ছুড়তে বা ডিম ছুড়তে বা স্টেজ থেকে নামিয়ে দিতে? কারণ তখন প্রতিবাদের ধরন ওটা ছিল না। মানুষ অপেক্ষা করেছিল ইভিএম মেশিনে তাঁদের প্রতিবাদটা দেখাবে বলে। কারণ সিস্টেম যেমন চলে প্রতিবাদের ভাষাটা তেমন হয়! আপনারা যাঁরা বলছেন আপনারা খুব সেনসেটিভ তো সেনসিটিভিটিটা দেখান, দেখানে গেলে তো ব্রেন ব্যবহার করতে হবে। ভাবতে হবে। কাউকে ৪টে গালাগালি দেওয়াটা তো স্পর্শকাতরতা নয়!আজকে আমরা যে গেছি এত মানুষ গেছেন অনুষ্ঠানে তাঁদের ভিডিওগুলোও সামনে আনুন তাঁদের ছবিগুলোও সামনে আনুন, দেখান এটার মানে কি এটা দাঁড়ায় তাঁরা অন্য কোনো স্বার্থে গেছিল? আপনারা বারবার একটা কথা বলছেন ওনাকে সাপোর্ট করে আসা হয়েছে কাজ পাওয়ার জন্য। কাজ পাওয়ার জন্য যদি তৃণমূল কংগ্রেস দল করা দরকার হতো, তাহলে শতাব্দী রায় যতদিন ধরে এই পার্টির সাথে যুক্ত আছেন লে, বা সরকারে যুক্ত ছিলেন তাহলে সব ছবিতে তো তারই হিরোইন হওয়ার কথা। বা সায়নী ঘোষের তো সব ছবিতে কাজ পাওয়ার কথা। বা যে সব হিরো হিরোইন তাদেরই তো সব ছবিতে কাজ পাওয়ার তাদেরই তো শুধু ইন্ডাস্ট্রি তে কাজ করার কথা! তাঁরা কটা কাজ করেছে? সুতরাং ওইভাবে হয় না। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজটা প্রডিউসারের ওপর নির্ভর করে ডিরেক্টরের ওপর নির্ভর করে, স্ক্রিপ্ট রাইটারের ওপর নির্ভর করে, এবং কি টাকাপয়সা পাচ্ছ , কি টাকাপয়সা চাইছ! তাঁর ওপর নির্ভর করে। ওই চরিত্রটায় এই মানুষটা কতটা যাচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে তার ওপর সারা পৃথিবীর ইন্ডাস্ট্রি নির্ভর করে কাজ পাওয়া এবং না পাওয়া। কে কটা কাজ পেয়েছে? আমি নিজে ৬ মাস বসে থেকেছি, বসে আছি, এই বোম্বের কাজটা শুরু করার আগে আমি টানা ৬ মাস বসেছিলাম! আমার কোনো কাজ ছিল না কারণ কোনো কাজ হচ্ছিল না। এবং প্রতিবাদ করিনি? ইন্টারভিউগুলো দেখবেন, এক মিনিটের দেখবেন না, ২৬ মিনিটের ইন্টারভিউগুলো দেখবেন ভোটের আগের। আপনাদের তো ধৈর্য নেই তাতে আমি কি বলেছি, কীভাবে করেছি জানাটা প্রয়োজন। যখন কারো সম্মন্ধে বলবেন, তাঁর সম্মন্ধে আরও এভিডেন্স থাকা দরকার! কিচ্ছু রিসার্চ করলেন না একটা ছবি তাতে কটা খারাপ কথা চাপিয়ে লাগিয়ে দিলেন এরকম করলে তো হবে না। কেন কি বৃত্তান্ত সেগুলো তবে জানতে হবে আর এখন তো সবই পাওয়া যায় ইউটিউবে আপনাদের কাছে এবং গণমাধ্যমে যাঁরা থাকে তাঁদের কাছে তো সমস্ত ফুটেজ থাকে!
এবং এরকমও তো চলে যাঁরা গণমাধ্যমের বন্ধু আছেন তাঁরা এখন এই সরকারের হয়ে কথা বলছেন ৪ তারিখের পর থেকে। তাঁর আগে যখনই আমরা ইন্টারভিউ দিয়েছি কোনো একটা কথা বলেছি বিশেষত তিলোত্তমার সময়, তখন সেটা এডিটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে! তখন বারবার প্রশ্ন করেছি এটা কেন বাদ দিলেন বলেছিল এটা ছাড়া তো কোনো অপশন ছিল না। ওপর থেকে অর্ডার আছে, এটা রাখা যাবে না।কারণ তাঁরা তখন সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল! সিস্টেম সেরকম ছিল তাঁদের কিছু করার ছিল না।সুতরাং, সিস্টেম যখন চেঞ্জ হবে সেই অনুযায়ী মানুষের এক্ট চেঞ্জ হবে।আজকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোনো ভয়ের রাজনীতি চলবে না সবাই মন খুলে কথা বলবে সেই জন্যই কিন্তু মানুষ বলতে পারছেন! কারণ আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী সেই আশ্বাস দিয়েছেন যে মেয়েদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। সবাই মন খুলে কথা বলবেন। তিনি এটা বলেননি যে একজন মানুষ মন খুলে কথা বলবেন আর আপনি তাঁকে গালাগালি করবেন! এটা কোনো নীতি নয়।আপনার হাতে স্মার্টফোন আছে বলে আপনি কোনোকিছু না জেনে গালাগালি করবেন এবং বলবেন ভাইফোঁটা দেয় তারপর সিসিটিভিতে কাপড় গুঁজে অন্যকিছু করে এই ধরনের মন্তব্য রাখবেন আপনাকে কেউ অধিকার দেয়নি! এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। সবসময় একটা মানুষের জায়গায় দাঁড়িয়ে তাঁর জায়গাটা বুঝে করা উচিত। আজ ইন্ডাস্ট্রিতে যার যার মতো করে প্রতিবাদ করার কথা সে তার মতো করে প্রতিবাদ করেছে! কিন্তু জিনিসটা এত কংক্রিট হয়েছিল সেটাকে ভাঙা সম্ভব হচ্ছিল না এবং বড়রা, এত বড় বড় মানুষ তাঁরা কেউ পারছিল না। আজকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দেব থেকে শুরু করে কেউ পেরে উঠছিল না। কারণ সেই টিমটা এতটাই সাংঘাতিক ছিল! কারণ আমি যদি একটা প্রতিবাদ করি আমার সাথে পরের দিন থেকে কোনো টেকনিশিয়ান কাজ করবে না। আর কাজ কেউ হারাতে চায় না! ২ বছর, ৪ বছর, ৫ বছর ধরে সব বসে আছে এবং লাস্ট যখন তিলোত্তমা হল সেই বছর আগস্ট থেকে রাহুলের ছবি নিয়ে এই প্রবলেমটা শুরু হলো যেটা প্রকাশ্যে এল এই ব্যান করা কালচারটা। এবং এই কালচারটা পর পর এমন সক্রিয় হয়ে উঠেছিল এটার সাথে এঁটে ওঠা খুব মুশকিল হয়ে যাচ্ছিল। কারণ যে কথা বলছিল তাকেই ওরা বাদ দিয়ে দিচ্ছিল এবং তার সঙ্গেই কোনো টেকনিশিয়ান কাজ করছিল না বা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চাইতে হবে এরকম একটা অসভ্য নীতি তৈরি করেছিল। যেটা বড় বড় ডিরেক্টর, আর্টিস্টরা কখনও ডিজার্ভ করে না। কেউই ডিজার্ভ করে না মানুষ মাত্রই ডিজার্ভ করে না। সুতরাং, পুরোটা জেনে কথা বলা উচিত অর্ধেক জেনে কখনও কথা বলা উচিত না। আজ সবাই যখন বুম্বাদাকে বলছিল ব্যান কালচার তুলে দেওয়ার কথা। উনি ভালো করে জানতেন ওই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ওটা সম্ভব নয়। কারণ উনি যেহেতু বুদ্ধিজীবী মানুষ উনি বলেছিলেন ভোটের এক মাসের মধ্যে আমরা ব্যান কালচার তুলে দেব। কারণ উনি একটা কিছু বুঝতে পেরেছিলেন তাই এটা সর্বসমক্ষে বলে ছিলেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে সম্ভব ছিল না। যেদিন উনি অ্যারেস্ট হন আমি গণমাধ্যমে আমার সোজা কথাটা সোজাভাবে বলেছি যেটা সবার কথা! কেউ মুখ খোলেনি সব আর্টিস্টের একই কথা কেউ বলেনি কারণ সবাই ভয় পায়। যে আপনারা এইভাবে কটাক্ষ করবেন, বলবেন চটিচাটা, আপনারা বলবেন পাল্টিবাজ তাই সত্যি কথাটা বলতে সবাই ভয় পায় এবং আরেকটা ভয় পায়, আমরা চোখের সামনে দেখলাম সবই তো হয় ওই ফ্রানকেস্টাইন যদি আবার ঘুরে আসে আবার যদি এরকম হয় তখন কি হবে! সেটাও একটা সবার কাছে টেনশন। কিন্তু সবার মনের ভাব তো এক সবাই এটা বলবে যে এটা প্রাপ্য ছিল।”
শেষে অপরাজিতা জানান, “কোনটা ভুল, কোনটা ঠিক বিচার করতে শিখুন, কে, কার সঙ্গে ফটো তুলল, সেটা নিয়ে একটা ছবি বের করে ৫ দিনের খোরাক তৈরি করলাম এটা কিন্তু সুস্থ সমাজের ছবি না। আজকে আমি নতুন সরকারের কাছে আবেদন করব যে এই জিনিসটা বন্ধ হোক। প্রত্যেকের নিজের সম্মান আছে। নিজের মত প্রকাশ করা মানে, কাউকে অপমান করা হয় এবং না জেনে তো নয়ই। যাঁরা ওখানে ফোঁটা দিতে গিয়েছিল তাঁরা সবাই মহিলা এবং মহিলা মানেই তাঁর সাথে যা খুশি করা যায় তাঁর ফুটেজ নিতে যা খুশি বলা যায় এটা কাম্য নয়। আমি অগ্নিমিত্রা পালকে বলব, যিনি আমার অত্যন্ত প্রিয় এবং একসময় আমরা অনেক কাজ করেছি অনেক অনুষ্ঠানে গেছি। ওঁ এই ডিপার্টমেন্টে আছে ওঁর বিশেষত এটা দায়িত্ব নিয়ে দেখা উচিত, এটা কখনই হতে পারে না যে যার সমন্ধে আমি যা খুশি তাই বলে দিচ্ছি এবং যা খুশি দেখিয়ে দিচ্ছি, এবং যা খুশি নিউজ করছি।পরিস্থিতি অনুযায়ী মানুষ কি করেছে না জেনে এগুলো করা উচিত না। তুমি তার আগেরটাও জানো না তার পরেরটাও জানো না। সুতরাং, যারা নিজেদের নিউজ করি বলে পরিচয় দাও তাঁরা নিউজ করার মতো হয়ে ওঠো, তাঁরা প্রপার সাংবাদিক হয়ে ওঠো। সাংবাদিকের অনুভূতিটাই সব প্রশ্ন করাটা নয় আর দাগিয়ে দেওয়াটা নয়। আমরা গিরগিটির মতো রং চেঞ্জ করি। আমরা অতটাও ভীতু নয়।”
শেষে নতুন সরকারের কাছে অভিনেত্রী বলেন, নতুন সরকারের কাছে কোনোদিন আমন্ত্রণ পেলে তাও সেটা সৌজন্যের খাতিরে যাবেন। কারণ তাঁর কথায়, “এটাই আমি, এটাই আমরা সিস্টেমের ঊর্ধ্বে আমরা কেউ নই! মুখ্যমন্ত্রী সবসময় আমাদের অভিভাবক। তাঁর ঊর্ধ্বে আমরা কেউ নই। তাঁকে সৌজন্য দেখানোটা আমাদের ভদ্রতা এবং আমাদের কাজের ও আচরণের মধ্যে পড়ে। এবং সরকারের কাছে আবেদন আপনারা এটা একটু খতিয়ে দেখবেন, সবসময় এরকম চলতে পারে না। আমাদের ওপর ইতিমধ্যেই প্রচুর অত্যাচার, অন্যায় হয়ে গেছে আমরা প্রচুর ভুগে নিয়েছি, আর কিন্তু ভালো লাগছে না!” সাফ জানালেন অভিনেত্রী।