Vivaan Ghosh: গতকাল শহিদ দিবসের অচেনা ছবি! বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতার সভামঞ্চে জনতার ভিড় চোখে পড়লেও গায়েব টলি সেলেবরা। যেখানে একসময় তারকাদের ভিড় উপচে পড়ত, আজ সেখানেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা মিলল না তাঁদেরকে। ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে টলিউডের এই অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর জল্পনা ও ট্রোল শুরু হয়। আর সেই আলোচনাতেই নাম জড়িয়ে গেল অভিনেতা ভিভান ঘোষের।
ভিভান ঘোষ নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। যেখানে লেখা ছিল— “আজ বিদ্রোহীদের কথা ভেবে খুব হাসি পাচ্ছে।” ভিভান নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করলেও নিন্দকদের মতে, বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির (ঋতব্রত শিবির)-কে কটাক্ষ করে এই পোস্ট।
সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লেখেন, ‘কাজ হারানোর ভয়ে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে কোনো টলিউড অভিনেতা অভিনেত্রীকে দেখা গেল না (excluding দুজন অভিনেতা অভিনেত্রী ছাড়া)।’
কমেন্টের পাল্টা জবাব দিয়ে ভিভান লেখেন, “না, শিল্পীদের ইনভাইট করা হয় তাই যায়। এবার সেটা হয়নি। শিল্পীরা Soft Target আসলে বুঝলেন।”
এছাড়াও একটি ভিডিওর মাধ্যমে অভিনেতা স্পষ্ট জানান, “এই বছর ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে আমরা থাকছি না কারণ প্রত্যেক বছর অফিসিয়াল একটা ইনভিটেশন আসে আমাদের কাছে। প্রত্যেক শিল্পীদের কাছেই আসে। যারা যারা সেই স্টেজে বা অন্যান্য স্টেজেও যাদেরকে আপনারা দেখেছেন উপস্থিত থাকতে। পার্টির প্রোগ্রামগুলোতে এমন অরূপ বিশ্বাসের অফিস থেকে আসত। কখনও রাজ চক্রবর্তীর অফিস থেকে আসত। ছাড়াও কার্নিভাল বা অন্যান্য যে প্রোগ্রামগুলো হতো সেগুলো নবান্ন থেকে চিফ সেক্রেটারি সাইন করা অফিসিয়াল ইনভিটেশন আমাদের কাছে আসত। তো এই বছর সেরকম কোন ইনভিটেশন আসেনি। এজন্যই হয়ত ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে কোন শিল্পীকে দেখা যাচ্ছে না। জানি এবছর দুটো শিবির তৃণমূলের। কিন্তু তৃণমূল মানেই তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমরা সবাই জানি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসটা কখনই হতে পারে না। আমরা প্রত্যেকে যেমন ইনভিটেশনের জন্য যেতাম তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেও যেতাম। ওঁনার প্রতি আমাদের একটা শ্রদ্ধা ছিল। কারণ তিনি একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আমাদের শিল্পীদের যেমনভাবে সম্মান দিতেন, কাজ দেখতেন। আমরা সাধারণ শিল্পী সেখানে উনি ওঁনার ব্যস্ততা কাটিয়ে আমাদের সিরিয়াল দেখতেন এবং আমাদের কাজ দেখে প্রশংসা করতেন। তো একজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে থেকে এত সম্মান পেয়ে খুব ভালো লাগত। তুমি ডাকলে কখনই সেটাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম না। যারা অন্য একটা শিবির তৈরি করেছে, নিজেদেরকে তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, সকলেই জানি সেটা তৃণমূল কংগ্রেস না, সাধারণত তারা নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য সেই শিবিরে গেছে। প্রচুর মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে অন্য দিকে চলে গেছে, তার জন্য আমার মনে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপকারই হয়েছে। আমি বুঝতে পেরেছেন ওঁনার সাথে সত্যিই কে আছে! কে নেই! কারা চুরি করেছে, কারা চুরি করেনি! এতদিন ধরে যে চোর বদনাম শুনে আসতে হয়েছে, তাদের জন্য এটা শুনতে হয়েছে, তা সেটা এখন স্পষ্ট দিদির কাছে।”
তিনি স্পষ্ট ভাষায় আরও জানান, “আর আমরা শিল্পীরা কখনই কোনো স্বার্থে মিশিনি। অনেকেই কি বলছেন যে নাচ, গান করার জন্য নাকি শিল্পীদের ডাকা হতো ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে। কিন্তু আমার সেটা মনে হয় না। আমরা যতদিন যাচ্ছি নিজের চোখে অন্তত দেখিনি যে কোন শিল্পী নাচ, গান করছে মঞ্চে। আমরা শহীদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার জন্যই যেতাম। এমএলএ, এমপি যারা কোনো পদ নিয়ে রয়েছে, তাদের ব্যাপার আলাদা। কিন্তু আমাদের মতন শিল্পীরা যারা রয়েছেন, সঙ্গীত শিল্পী রয়েছে যাদেরক আপনারা দীর্ঘদিন মঞ্চে দেখেছেন, আমার মনে হয় না তারা কোনদিন কোন স্বার্থের জন্য দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এক পয়সার সুবিধাও দলের থেকে নেয়নি। দলেরই খারাপ পরিস্থিতিতে অবশ্যই দলের পাশে থাকা উচিত। কিন্তু অফিশিয়াল যদি জয়েন করতাম আমি যদি আমি পার্টির কর্মী হতাম, ওই সময় অবশ্যই নেত্রীর পাশে থাকা উচিত ছিল। যদি কখনও জয়েন করি কোনো রাজনৈতিক দল, যতই সমস্যা হোক, যতই খারাপ সময় আসুক, দলের পাশেই থাকব। গদ্দারদের মতন ছেড়ে চলে যাব না। এখনো পর্যন্ত কেউ কোনদিন দেখাতে পারবে না কোনো পার্টি জয়েন করেছি, কোনো রাজনৈতিক দল জয়েন করেছি। যেটাই করতাম দিদিকে ভালোবেসে করতাম। দিদিকে ভালোবেসে যেতাম। ভবিষ্যৎ তো কেউ বলতে পারছে না! হয়ত কোনদিন রাজনীতির মধ্যে ঢুকব। তখন ভয় পাব না, এটুকু বলতে পারি। কারণ ভয় পাওয়ার মতন এমন কিছু করব না।”