Agnimitra Paul:”কোনো বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি, সরে যেতে বলা হয়েছে… ওভাবে একটা ব্যস্ত রাস্তায় একটা বাচ্চা হামাগুড়ি দিচ্ছে!… ফুটপাতে দুধ গরম বিতর্ক ও বিরোধীদের সমালোচনায় কড়া জবাব অগ্নিমিত্রা পালের

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Agnimitra Paul: ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফুটপাতে শিশু ও দুধ গরম করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজার জবাবে বিরোধীদের একহাত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বিজেপি নেত্রী তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

বিরোধীদের আ*ক্র*ম*ণ করে তিনি স্পষ্ট বলেন, “গতকাল সারাদিন বিরোধীদের অনেক কান্নাকাটি শুনলাম। ফুটপাতে দুধ গরম করা নিয়ে, কিন্তু কেউ একবাটি দুধ নিয়ে এগিয়ে যায়নি এই পরিবারের কাছে সবাই রাজনীতির আগুনে রুটি সেঁকেছে অবশ্যই। অবশ্যও আশা করব কি করে যারা ২৪ বছর কংগ্রেস ৩৪ বছর সিপিএম, আর ১৫ বছর তৃণমূল কংগ্রেস, যাঁরা মানুষের শুধু সুবিধা নিয়েছে মানুষকে ঠকিয়েছে! ১৫ বছর তৃণমূল তো বাংলার মানুষকে মানবিকতা কাকে বলে ভালোই দেখিয়েছে। আলাদা করে আর বলতে হবে না। যাঁরা পয়সা নিয়ে ফুটপাতে হকার বসিয়েছেন, সারা কলকাতা, সারা বাংলাকে শেষ করে দিয়েছেন, ছত্রে ছত্রে দুর্নীতি করেছেন, এমন কোনও জায়গা নেই, যেখানে দুর্নীতি হয়নি… তাঁদের কাছ থেকে অন্তত মানবিকতা কাকে বলে শিখতে হবে না!”

ফুটপাতের বিপদের চিত্র তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মতো একটা রাস্তা, যেখানে সমানে গাড়ি যাচ্ছে… দুপুর ২টোর সময় রাস্তার পাশের ফুটপাতে একটা ৬ মাসের শিশু হামাগুড়ি দিচ্ছে! তার আশেপাশে কোনও অভিভাবক ছিলেন না। দূরে দূরে তার মা আর ঠাকুমা। একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেলে কে দায় নেবেন? মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী? সরকার? নাকি আপনারা? ওই ফুটপাতের মধ্যে কেরোসিন স্টোভে এক গামলা দুধ জ্বাল দেওয়া হচ্ছিল। এক গামলা দুধ ওই ৬ মাসের বাচ্চা খাবে? যে ফুটপাত দিয়ে অনবরত মানুষ যাচ্ছেন, বাচ্চারা স্কুল থেকে ফিরছে… সেই ফুটপাতে স্টোভ জ্বলছে! একটা দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে? নগর উন্নয়ন দপ্তর? পুলিশ, সরকার না আপনারা? আজকে মানবিকতার কথা বলা হচ্ছে… আমরা মানবিক। আপনাদের থেকে মানবিকতা শিখতে হবে না। এই ঘটনার ৫ দিন আগে আমাদের সমস্ত চেম্বারসদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে, সেখানে বস্তি উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়েছে। যেখানে স্লাম্ব ডেভলপমেন্ট, স্ল্যাম্ব রিহাবিটেশন বলে একটি অনুষ্ঠান আছে। বস্তির মানুষদের পুর্নবাসনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা পুর্নবাসন দিতে যাই। এই পরিবারকে আগেই বলা হয়েছিল নিজেদের বাড়ি ফিরে যেতে। ক্যামেরাতেই ওই মহিলা আমায় বলছেন, উনি ধাপায় থাকেন। তিনি যদি ধাপাতেই থাকেন, তাহলে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফুটপাতে এসে, বারবার বলার পরেও দুধ জ্বাল দিচ্ছিলেন কেন? এই মহিলার ছেলে সামনের কারনানি ম্যানশনে কাজ করত। সেখান থেকে ছুরি করার দায়ে তাকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। এগুলো নয় ছেড়ে দিলাম। কিন্তু একটা ফুটপাত না বড়লোকের না গরীব মানুষের, ফুটপাত মানুষের জন্য, সুপ্রিমকোর্ট তার রায় দিয়েছে। আমরা বিপুল ভোটে আমরা জয়লাভ করেছি, তা হয়ত বিরোধীরা হয়ত সহ্য করতে পারছেন না। কিন্তু আমরা মানুষকে যা যা কথা দিয়েছি, তা করতে তো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মানুষ পরিচ্ছন্ন শহর চায়।”

আরও পড়ুন:Agnimitra Paul:”আর এক গামলা দুধ তো আর একটা ৬ মাসের বাচ্চা খেতে পারবে না…উনি নিজে আমাকে বলেছেন ওনার থাপা তে বাড়ি আছে…অবৈধ কাজটা বৈধ করে দেওয়া হচ্ছে!…” বিরোধীদের তোপ দাগিয়ে সুর চড়ালেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

নগরোন্নয়ন ও শিল্পায়নের স্বার্থে ফুটপাত পরিষ্কার রাখা জরুরি উল্লেখ করে বিগত সরকারগুলির ভূমিকা নিয়ে তিনি তোপ দাগেন, “আজ ড্রেইন পরিষ্কার করা হচ্ছে, কথায় কথায় জল জমে যাওয়া আপনারা কি করেছেন? ২৪ বছর, ৩৪ বছর, ১৫ বছর কেন এই মানুষগুলোর মাথায় ছাদ দেননি? কেনো কর্ম সংস্থান দেননি? কেন টাকা দিয়ে, চুরি করে দুর্নীতি করে হকার বসিয়েছেন?”
সবশেষে তিনি জানিয়ে দেন, “মানুষের বিপুল ভোট আমরা জিতেছি, মানুষের জন্য আমরা কাজ করব, আপনাদের যতই খারাপ লাগল! কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের মুখ জানলা সেটাকে সুন্দর করতে হবে। সবাইকে নিয়ম মানতে হবে, একা একটা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আর বিরোধীরা, যে, যেই দলের ছিলেন অন্যরা কোনোদিন কাউকে কাজ করতে দেয়নি। বিরোধিতাই করে গেছেন। অবশ্যই বিরোধিতা করবেন, গঠনমূলক বিরোধিতা করুন ধ্বংসাত্মক বিরোধিতা করবেন না। অনাবশ্যক সমালোচনা করবেন না। হ্যাঁ আমি হয়ত চিৎকার করে বলেছি সেটা হয়ত আরেকটু নরম করে, আরেকটু বুঝিয়ে বলা উচিত ছিল।”

তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “কোনো বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। সরে যেতে বলা হয়েছে। ওভাবে একটা ব্যস্ত রাস্তায় একটা বাচ্চা হামাগুড়ি দিচ্ছে—শুধু ওখানে নয়, এই দৃশ্য কলকাতার অনেক জায়গাতেই দেখা যায়। একটা দুর্ঘটনা যখন-তখন হয়ে যেতে পারে। কে দায় নেবে তার? যারা কাল থেকে মানবিকতার কথা বলছেন, তাঁরা?

আরও পড়ুন:Vivaan Ghosh:”শিল্পীদের ইনভাইট করা হয় তাই যায়, এবার সেটা হয়নি… প্রচুর মানুষ দল ছেড়েছেন যার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপকারই হয়েছে… গদ্দারদের মতন ছেড়ে চলে যাব না…” ২১ জুলাইয়ে মমতার মঞ্চে শিল্পীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ট্রো/ল, জবাব ভিভানের

যে সরকার বছরের পর বছর ধরে ফুটপাথে মানুষদের বসিয়েছেন, কর্মসংস্থান করেননি, শুধু তোলাবাজি, ঘুষ আর যত রকমের দুর্নীতি হয়, সেগুলো করে গেছেন গত ১৫ বছর ধরে—তাঁরা আজ জনদরদী?
ফুটপাথ গরিব বা বড়লোককে আলাদা করে চেনে না। ফুটপাথে যারা হাঁটছেন, তাঁরা সবাই মানুষ। মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়—ফুটপাথকে হাঁটাচলার উপযোগী করে তুলতে হবে। ফুটপাথ মানুষের হাঁটাচলার জন্য, বসবাস করার জন্য নয়।

আমি জানি, আমাদের সরকার অনেক বড় ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে, তাতে বিরোধীদের সমস্যা হওয়ারই কথা। ফুটপাথ থেকে হকার সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা, অবৈধ পার্কিং সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা, যারা রীতিমতো ফুটপাথকে বাসস্থান বানিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা। আপনাদের সুবিধা বা অসুবিধা দেখে তো সরকার কাজ করবে না।
আজ বিনিয়োগের কথা হচ্ছে, নতুন শিল্পপতিদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, শিল্প আনার চেষ্টা চলছে। যাঁদের ডাকা হচ্ছে, তাঁরা এসে যদি দেখেন রাস্তাঘাট যানজটে ভরা, রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, শহরের এই পরিবেশ—তাঁরা কি আসবেন?

রাস্তা থেকে ড্রেন, সবকিছু সংস্কারের কাজ চলছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত রাস্তা ঠিক করা হবে। ১৫ বছরে বাংলার যে অবস্থা হয়েছে, তা কোনওভাবেই ১০০ দিনে ঠিক করা সম্ভব নয়। এমনটা নয় যে কোনও মন্ত্র বলে সবকিছু হঠাৎ করে ঠিক হয়ে যাবে।
আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যা যা প্রতিশ্রুতি আমরা করেছি, তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের এবং তা আমরা করব। আশা করি, সাধারণ মানুষ আমার এবং আমাদের সরকারের পাশে থাকবেন।

Leave a Comment