Abir Chatterjee:”ময়ুরাক্ষী আর পাঁচ জনের মতো না,ওর যদি সমস্যা হয়, তাহলে আমি পৃথিবীর সবথেকে খারাপ বাবা…”,মেয়ের কথা বলতে গিয়েই চোখে জল আবির চ্যাটার্জির!কেন,কোথাও মেয়েকে নিয়ে যান না তিনি?
বাংলা টলিউড সিনেমা জগতের আবির চট্টোপাধ্যায় -এক জনপ্রিয় নাম। ফেলুদা, ব্যোমকেশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনপ্রিয় চরিত্র বাংলার মানুষকে উপহার দিয়েছেন আবির চট্টোপাধ্যায়। কাজের জীবনে অভিনেতাকে দেখে বোঝা যায় না তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের লড়াইয়ের কথা। এক সন্তানের বাবা আবির চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনটা ঠিক কেমন? কেন তাঁর সন্তানকে নিয়ে কোনো বড় ইভেন্টেই যান না তিনি? স্ত্রীর সঙ্গে প্রকাশ্যে এলেও কটাক্ষ! অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনে কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে? এবারে এক সাক্ষাৎকারে নিজেই স্পষ্ট করলেন সেই কথা।
দুর্গাপুজোর মধ্যেই রিলিজ হচ্ছে আবির চট্টোপাধ্যায় অভিনীত উইন্ডোজ এর পরবর্তী ছবি ‘রক্তবীজ ২’। ছবির প্রিমিয়ার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইভেন্টে দেখা গিয়েছে অভিনেতাকে। এর পাশাপাশি একাধিকবার নিজের স্ত্রী নন্দিনী চ্যাটার্জির সঙ্গেও প্রকাশ্যে এসেছেন তিনি। কিন্তু এক সন্তানের বাবা হওয়ার পরেও কেন সামনে আনেননি তাঁর সন্তানকে? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আবির জানান, আমার মেয়ে ময়ূরাক্ষী আর পাঁচজনের মতো নয়। সে নিষ্পাপ ফুলের মতো। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাকে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন শিশু হিসেবেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ময়ূরাক্ষী যে স্পেশাল চাইল্ড, এই কথা স্বীকার করতে একবারও দ্বিধান্বিত হন না আবির চট্টোপাধ্যায়। মেয়ে তাঁর কাছে খুবই দামী। মেয়ের কথা বলতে গিয়ে চোখ যেন ঝাপসা হয়ে উঠল অভিনেতাঁর। তিনি বলেন, “বাবা হিসেবে কিছু কিছু বিষয় আমি সত্যিই মিস করি। তখন ভাবি, ও যদি এটা এরকম করত। যেমন, ও আমার সিনেমা খুব বেশি একটা দেখে না। আমি চাই, ও একটু সোনা দা দেখে। যেটা ও দেখে না। ও নিজের মতোই দেখতে থাকে। আমার ইচ্ছে হয় যে ও এই সিনেমাগুলো দেখুক। কিন্তু, সেটা ও করে না। এটা আমি মিস করি।” মেয়েকে কোন বিষয়ে জোর করেন না অভিনেতা। তাকে তাঁর মত করেই বড় হতে দিচ্ছেন তিনি।
কিন্তু সব বড় ইভেন্টে কেন নিয়ে যান না নিজের মেয়েকে? এই প্রশ্নের সম্মুখে তিনি উত্তর দেন, যেকোনো বড় ইভেন্টেই সবাই আমাকে প্রাধান্য দেয়। আমার সঙ্গে থাকলে ওর অসুবিধা হতে পারে। তখন ওর সুরক্ষা বা নিরাপত্তার দিকটা অতজনকে এড়িয়ে দেখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ‘ওর যদি সমস্যা হয়, তাহলে আমি পৃথিবীর সবথেকে খারাপ বাবা।’
তিনি আরও জানান,মেয়েকে নিয়ে যদি একান্তই কোথাও যেতে হয় তাহলে অভিনেতা অনেক ভেবেচিন্তে তবেই সেখানে একসঙ্গে যান। যে কারণে পারিবারিক কোনও অনুষ্ঠানেও আবির ও তাঁর মেয়ে একসঙ্গে যেতে পারেন না। এই কারণেই বড় কোন পাবলিক গেদারিংয়ে মেয়েকে নিয়ে দেখা যায় না আবির চট্টোপাধ্যায়।
মেয়েকে সুরক্ষিতভাবে বড় করার পাশাপাশি মেয়ের থেকে একাধিক জিনিস শেখেন অভিনেতা। মেয়ে ময়ূরাক্ষীর থেকে অভিনেতা যা প্রতিনিয়ত শেখেন তা হল নিঃশর্তহীন ভালোবাসা। তিনি বলেন,“আমার মেয়ের মধ্যে একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। ওর না আশেপাশের মানুষগুলোর মধ্যে থেকে ভালবাসা ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আছে।” এই ঘটনায় প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা দেয় অভিনেতাকে।
অপরদিকে বিভিন্ন বড় ইভেন্টের তাঁর স্ত্রী নন্দিনী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁকে দেখা গেলেও, একাধিকবার কটাক্ষের বান উঠে এসেছে তাঁর দিকে। এত সুপুরুষ বাংলা টলিউডের নায়ক হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন স্ত্রী অভিনেতার? বিশেষত অভিনেতার স্ত্রীয়ের চেহারা নিয়েই বেশিরভাগ সময়েই সমালোচনা হয়ে এসেছে। এর উত্তরেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “একজন মানুষের আসল সৌন্দর্য তার চেহারায় নয়, তার ব্যবহারে, তার ভালোবাসায়।” ইন্ডাস্ট্রিতে আসার বহু আগেই তিনি তাঁর মনের মানুষকে বিবাহ করেন। আর সহধর্মিনী হিসেবে যে নন্দিনী তাঁর কাছে সেরা, এই কথা বহুবারই প্রকাশ্যে এসেছে।