Rudranil Ghosh:”আমরা কুকুরের অধম! কাঞ্চন সেলুনে কাজ করত,আমি মাছের ওষুধ বিক্রি করতাম…”,কুকুরের থেকেও কম টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন রুদ্রনীল! স্ট্রাগলের কথা ভাগ করে নিলেন অভিনেতা
“কাঞ্চন সেলুনে কাজ করত, চুল কাটার অর্ডার নিত আর আমি অভিনয় করে পেয়েছিলাম ১৫০ টাকা, আমরা কুকুরের অধম, কুকুরের পেমেন্ট বেশি…” নিজের জীবনের ওঠাপড়ার কথার পাশাপাশি বাংলা টলিউডের কোন অন্ধকার দিকের কথা বললেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ?
সম্প্রতি দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চার্স -এর প্রযোজনায় মুক্তি পেয়েছে দেব-শুভশ্রী অভিনীত ‘ধুমকেতু’, যেখানে দেব-শুভশ্রীর পাশাপাশি অভিনয়ের ক্ষেত্রে বারেবারে নাম শোনা যাচ্ছে রুদ্রনীলের। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দেব’কেও বলতে শোনা গিয়েছে, রুদ্র দুর্দান্ত এই ছবিতে। আর এরপরেই আরও এক সাক্ষাৎকারে রুদ্রনীলের পক্ষ থেকে তাঁর অভিনয় জীবনের কাহিনী শোনা যায়।
রুদ্রনীল জানান, একবার নাকি তাঁকে একটি কুকুরের থেকেও কম টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি অভিনয় করে পেয়েছিলাম ১৫০ টাকা। তখন আমাদের সাথে পশুরা কাজ করত। আমি দেখলাম একটা অ্যালসেশিয়ান কুকুরের মালিককে ৭০০ টাকা দেওয়া হল। তখন আমার এক সহঅভিনেতা আমাকে বলেছিল,’আমরা কুকুরের অধম?’ দেখ,আমাদের থেকে কুকুরের পেমেন্ট বেশি।”
অভিনেতাকে আজকের সফল জীবনে দাঁড়িয়ে পিছনে ফেলে আসা কষ্টের সময়কে মনে করতে দেখা যায়। যেখানে রুদ্রনীল বলেন, “প্রচুর স্ট্রাগল আছে। একটা সময় কাঞ্চন সেলুনে কাজ করত। কাদের কিভাবে চুল কাটা হবে সেই অর্ডার নিত। আমি মাছের ওষুধ বিক্রি করতাম। আমার প্রথম কলকাতাকে চেনা সেই সময়ই। তার আগে হাওড়া থেকে আসতাম, দ্বিতীয় হুগলির ব্রিজ, যেটা এখন নবান্ন হয়ে গেছে, তখন সেখানে প্রাইভেট গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ি উঠতে দিত না। হলুদ ট্যাক্সিতে উঠবার পয়সা নেই।”
নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা বলতে বলতে তখনকার টলিউডের অন্ধকার দিকের কথাও বলতে শোনা যায় অভিনেতাকে। তিনি বলেন, “প্রথমে কষ্ট হত, এটা নিয়ম। তারপর আস্তে আস্তে ভাঙতে হয়েছে। তখন ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম ছিল ফর্সা না হলে অভিনেতা নয় আর ফর্সা এবং লম্বা হলে দারুন অভিনেতা।” স্বাভাবিকভাবেই সেই সময় অভিনেতা রুদ্রনীলের অভিনয় দক্ষতা থাকলেও লম্বা এবং ফর্সা না হওয়ার কারণে ওই উন্নতি সম্ভব হয়নি। কিন্তু বর্তমানে একাধিকবার টলিউড মেগাস্টার দেবকে রুদ্রনীলের প্রশংসা করতে শোনা গিয়েছে। বিরোধী পক্ষের দলনেতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর অভিনয় মন কেড়েছে টলিউড মেগাস্টারের।
এরপর তিনি রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে একসঙ্গে বেড়ে ওঠার কিছু অচেনা কাহিনী শোনান।অভিনেতা বলেন, “কোনও শ্যুটিং থেকে বিস্কুটের প্যাকেট দেওয়া হলে খেতাম না। বাড়ি নিয়ে আসতাম। যাতে খিদে পেলে ভাগ করে খেতে পারি। রাজ এসেছিল অভিনেতা হতে। তারপর ধীরে ধীরে পরিচালনার প্রতি টান তৈরি হয়। তারপর কাজ শেখে, তারপর আজকের সফল রাজ চক্রবর্তী হয়ে উঠেছে ঈশ্বরের আশীর্বাদে মানুষের ভালোবাসায়। কিন্তু আমাদের লড়াইয়ের সময় আমরা ঘুম থেকে উঠতাম সাড়ে ১১টার সময়। সকালে ঘুম থেকে উঠলে জলখাবার, তারপর দুপুরের খাবারের খরচ। যদি সাড়ে ১১টায় ঘুম থেকে উঠি তাহলে দুটো খাবার বেঁচে গিয়ে একটা খাবার হয়ে যাবে। কারণ পয়সা নেই। আমি আর রাজ আসলে একটা থালাতেই ভাত খেতাম। আমরা একথালার বন্ধু।”
আগামী দিনের কি তাহলে রুদ্রনীলকে আরও বেশি করে বিভিন্ন বাংলা সিনেমায় দেখা যাবে? এর উত্তর একমাত্র ভবিষ্যতই দিতে পারে।