Rituparna Sengupta:প্রিমিয়ারের দিনে হাউহাউ করে কান্না অভিনেত্রী ঋতুপর্ণার। “ঋতু আই অ্যাম সরি”-কোন মর্মান্তিক ঘটনার কারণে অভিনেত্রীকে সরি বলেছিলেন পরিচালক?
গত ২৯ শে আগস্ট শুভমুক্তি হয়েছে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত অভিনীত বায়োপিক ‘বেলা’। বর্তমানে বাংলার বিভিন্ন হলে সগৌরবে চলছে ‘বেলা’। কিন্তু এই ছবির প্রিমিয়ারের দিনেই জীবনের এক মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিচারণ করে হাউহাউ করে কাঁদলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। শুটিং ফ্লোরে তিনি হয়ে ওঠেন তাঁর চরিত্র, তখন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি ঘটনা ছুঁতে পারেনা অভিনেত্রীকে। সেই অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত কেন প্রিমিয়ারের দিনে চোখে জল আনলেন? কী সেই মর্মান্তিক কাহিনী?
অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলার বুকে ফিরে এল ‘মহিলা মহল’ -এর পুরানো আবেগ ও অনুভূতি। তবে জানেন কি, এই ছবির শুটিংয়ের সময় এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন অভিনেত্রী। এমনকি শুটিং চলাকালীন পরিচালক অপার্থিব হয়ে ঋতুপর্ণাকে বলেছিলেন, “ঋতু আই অ্যাম সরি”।
আসলে এই ছবির শুটিংয়ের সময় হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন অভিনেত্রীর মা। স্বাভাবিকভাবেই মনে নানান চিন্তা এবং উদ্বেগের মধ্যেও অভিনয়ের ক্ষেত্রে এতটুকু খামতি রাখেননি অভিনেত্রী। ছবির শুটিংয়ের সময় তিনি ‘ঋতুপর্ণা’ থেকে হয়ে উঠেছিলেন ‘বেলা’। শুটিংয়ের মুহূর্ত গুলিতে একবারের জন্যেও সেই কঠিন পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে দেননি নিজের কাজের উপর। কিন্তু ছবির প্রিমিয়ারের দিনে সেই সমস্ত স্মৃতিচারণ করেই চোখে জল চলে এল অভিনেত্রীর।
পরিচালক অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী ছবি শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “একটা করে শট হচ্ছিল আর অনিলাভ বলছে, ‘ঋতু আই অ্যাম সরি। ঠিক তারপরের দিন আন্টি চলে যান। আমি আর অনিলাভ সেই রাতেই ঋতুর বাড়ি যাই। ঋতুকে বলি, ‘তুমি বুঝতে পারছিলে না, অনিলাভ কেন বারবার তোমাকে আই অ্যাম সরি বলছিল?’ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “আমি জানি আমি কী জটিলতায় কাজ করেছি। কিন্তু যখন অভিনয় করি তখন আর কিছুই মাথায় থাকে না। আমাকে ওই পরিস্থিতিতেও সত্যিই চরিত্রটা হয়ে উঠতে হয়। তখন আমি কিছু বুঝতে পারিনি। আজ বুঝতে পারছি।”
অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মা তাঁকে এই চরিত্রে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মায়ের সেই স্বাদ পূরণ করতে পারলেন না মেয়ে। সেই আক্ষেপ হয়ত সারা জীবন রয়ে যাবে অভিনেত্রীর। পাশাপাশি প্রিমিয়ারের দিনেই পরিচালকসহ গোটা টিমের প্রশংসা করে ঋতুপর্ণা বলেন, “গোটা ছবির টিম অনেক পরিশ্রম করে ছবিটা বানিয়েছে। সবাইকে অনুরোধ ছবিটা দেখবেন।”
অল ইন্ডিয়া রেডিও বা আকাশবাণীর মহিলা মহল তথা বেলা দে একসময় বাঙালির মনে প্রাণে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। সাধারণ বাঙালি মেয়ের পুরুষ শাসিত সমাজে নিজের আত্মসম্মানকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর সহজ এবং শক্তি সবকিছু সঙ্গেই জড়িত ছিল এই নাম। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু থেকে শুরু করে ভারতের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন ভারতের নানান ছবি ফুটে উঠেছে ‘বেলা’ ছবিতে। আর সেই মুখ্য চরিত্রেই রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। সংস্কার আচ্ছন্ন পুরুষ শাসিত সমাজে এক সাধারণ আটপৌরে জীবনযাপন থেকে উঠে আসা জনপ্রিয় মহিলার কাহিনী ‘বেলা’।
আরও পড়ুন:Sweta-Mamata:স্লিভলেস পোশাক বিতর্কে শ্বেতার পাশে দাঁড়ালেন মমতা শঙ্কর
জীবনের প্রতিকূলতার মধ্যেও এই ছবির অভিনয়ে খামতি রাখেননি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাই বাংলার দর্শকের মন জয় করে নেবে এই ছবি,তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।