Raktabeej 2:এই পুজোয় মুক্তি পেল নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রক্তবীজ ২’। ছবি জুড়ে ভারত-বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক, সন্ত্রাস দমনে দুই দেশের তৎপরতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আগাগোড়া নজর কেড়েছে সকলের। থ্রিলার ঘরানায় ‘রক্তবীজ’-এর সাফল্য আলোড়ন তুলেছিল বাংলা সিনেমার জগতে। বাংলা ছবির দর্শকদের জন্য এ যেন এক নতুন অভিজ্ঞতা। শুধু অভিনয় বা চিত্রনাট্য নয়, এবার প্রযুক্তির নিখুঁত প্রয়োগেই বাংলা সিনেমাকে আরও এক ধাপ নিয়ে গেল এই ছবি।
‘রক্তবীজ ২’ নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন অভিনেতা তথা পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলী। নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় তিনি লেখেন,”শুভ মহাপঞ্চমী 🙏🏻
গতকাল রক্তবীজ ২ দেখার সুযোগ পেলাম। দু বছর আগের পুজোর বিজয়ী ডার্ক হর্সের সিকুয়্যাল। উইন্ডোজ, জমজমাট কাস্টিং, বেশ কয়েকটা গান আর দুই বাংলার বর্ডার! আমার জন্য চূড়ান্ত লোভনীয় একটা সিনে-থালি! শুরু থেকেই উৎকন্ঠা আর রহস্য দিয়ে শুরু হলো কাহিনির দৌড়। উইন্ডোজের বানানো প্রথম রক্তবীজ দেখে চমকে গিয়েছিলাম যে, এরা হঠাৎ সোনামুগের ডাল, মোচার ঘন্ট,ভাপা ইলিশ পরিবেশন না করে পিৎজা বানাতে গেলো কেন? সেই পিৎজার একটা দানাও সেবছর বাংলার দর্শক ফেলেনি। পরের পুজোয় আবার পথ বদলে ‘ধোঁকা’র ডালনা আর মেঠো আচার বহুরূপীতে! ব্লকবাস্টার হলো বহুরূপী! এবার আবার সেই চেনা পিৎজা, তবে টপিংটা বদলে!
আরও পড়ুন:Nusrat-Ankush:’র’ক্ত’বী’জ ২’ ছবির প্রিমিয়ারে একসাথে অঙ্কুশ-নুসরত! তবে কি দূরত্ব মিটল?
এই ছবি নিয়ে ৪ লাইন লিখলেই স্পয়লার আপনি বের হয়ে আসবে! তাই খুব সতর্ক হয়ে লিখছি।
প্রথম অর্ধে তখনো পিৎজার ওপরের ক্যাপসিকাম, চিকেন আর চিজের গন্ধটা বের হয়নি! ভাবছি গল্প কোন দিকে যাবে! তারপরই শুরু হলো ফুলে ফেঁপে ওঠার পর্ব! সারা হল চুপ করে বসে দেখলো একটা জমজমাট রুদ্ধশ্বাস ক্লাইম্যাক্স! বিরাট এক আয়োজনের মাঝে জাতীয়তাবোধ আর ভালোবাসা সম্বল করে মরণ-বাঁচন একটা লড়াই! এরম ক্লাইম্যাক্স ভাবা ও বানানোর জন্য অভিনন্দন উইন্ডোজকে।
এই ছবির দুই নায়ক অঙ্কুশ ও আবীর নিংড়ে দিয়েছেন নিজেদের। আলাদা করে বলতে বাধ্য হচ্ছি অঙ্কুশের কথা। ও সত্যি অনবদ্য । মিমি কৌশানী ছাড়াও বাকিরা প্রত্যেকে ভালো। ‘কিন্তু সবার চাইতে ভালো’ বলেও তো একটা কোটা আছে। সেটা মিস্টার হাজরা ও মিস্টার চ্যাটার্জি।
আপনারা এই পুজোয় যে যে ছবি দেখবেন তার ক্লাইম্যাক্স বন্ধুদের আবেগের চোটে বলে দেবেন না প্লিজ। রক্তবীজে তো একেবারেই নয়।
আমার পুজোর আরো দুটো ছবি দেখা বাকি! তবে যা ভিড় শুরু হবে সিনেমা হলে, মনে হচ্ছে দশমীর পরই দেখবো।
একটা মুহূর্তের কথা বলেই ফেলি। একটা বিশেষ দৃশ্যে ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ গানটি ব্যবহার হয়েছে। এছবির সম্পদ ঐ দৃশ্য। এখনও এই গান চোখ ভারি করে দিতে পারে!
পরিশেষে বলি ঠাকুর দেখার আগে নিয়ম করে পুজোর ছবিগুলো দেখে নিন সবাই।
নন্দিতাদি, জিনিয়া ও শিবপ্রসাদকে এই বিনোদনের জন্য ধন্যবাদ। এছবি বাংলাদেশের দর্শকদের বেশি দেখা দরকার, তাহলে হয়তো তারা বুঝবেন আমাদের বাংলার সিমেমাওয়ালারা তাদের কতটা আবেগের চোখে দেখে।
উইন্ডোজকে ব্যক্তিগত একটা আর্জি জানিয়ে রাখছি আগামী পুজোর মেনুর জন্য। ২০২৬ শে আবার চাই উইন্ডোজের হেঁসেল থেকে ঘি ভাত, বেগুন ভাজা, পটলের দোলমা আর কষা মাংস (আলু থাকবে)।শেষ পাতে ঘরে বানানো নবীন ময়রার আবিস্কার রসোগোল্লা!
আর হ্যাঁ, অবশ্যই কলাপাতায় পরিবেশন করবেন প্লিজ। শারদীয়া শুভেচ্ছা সবাইকে।”