Kaushik Ganguly:’দেবী চৌধুরানী'(Devi Chowdhurani) দেখে মুগ্ধ পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলী। প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জীর(Prosenjit Chatterjee) প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি। সঙ্গে আশ্বাস দিলেন ‘রঘু ডাকাত’ও(Raghu Dakat) দেখতে ছাড়বেন না তিনি।
প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী ‘ভবানী পাঠক’এর চরিত্রে থাকা একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন,”পুজোর তৃতীয় ছবিটা দেখে ফেললাম গতকাল। দেবী চৌধুরানী। কাহিনির বিচারে রিলিজের আগেই বাকি তিনটে ছবির থেকে আভিজাত্যে এগিয়ে ছিলো এই ছবি। ক্লাসিক সাহিত্যের এমনি জোর যে দুর্বল গ্র্যাফিক্সও এ ছবির রস পন্ড করতে পারেনি। অভিনয়ে সবাই খুব ভালো। দর্শনা, অর্জুন , বিবৃতি(Bibriti Chatterjee) ও বিশেষ করে শ্রাবন্তীর(Srabanti Chatterjee) নিষ্ঠাকে কুর্নিশ।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ভবানী পাঠককে বাস্তব করে দিয়েছেন তাঁর একাগ্রতায় ও অভিজ্ঞতায়। সংস্কৃত উচ্চারণেও উনি যথেষ্ট যত্নশীল ছিলেন। বড় পর্দায় বুম্বাদার উপস্থিতি সত্যিই বিশেষ একটা পরিমন্ডল তৈরী করে। ৪৫০টা ছবির পরও তাঁর এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে প্রণাম। আবার বড়দিনে এই মানুষটাই বেমালুম কাকাবাবু হয়ে উঠবেন!
না বললে অন্যায় হবে, বিবৃতিদের ডাবিংয়ে কাল্পনিক ভাষার অপটু আঞ্চলিকতার অনুকরণ আমার খুব কানে লেগেছে। বিক্রমের আবহ ছবিকে প্রতি পদে খুব সাহায্য করেছে। ছবিতে নেপথ্য ভাষ্য দিয়েছেন গৌতম ভট্টাচার্য । তাঁর বাচনভঙ্গী ও লয় এই বঙ্কিম ইউনিভার্সকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। পরিচালক- চিত্রনাট্যকার সযত্নে কল্পনা, ইতিহাস ও উপন্যাসের যে বিনুনীটা বেঁধেছেন তার খসড়াটা বেশ রাজকীয়। শিল্পনির্দেশকের পরি’শ্র’ম ও আদর স্পষ্ট । শেষে বলবো সম্পাদক সুজয়ের কথা। এছবিতে ওর অবদান প্রায় চিত্রনাট্যের সমান।
ধন্যবাদ নবাগত প্রযোজকদের তাদের বাংলা সাহিত্যের প্রতি এই আনুগত্যের জন্য। আপনাদের স্বাগত বাংলা সিনেমার পরিবারে। এই বিরাট পরিবারের শারদীয়া বিতন্ডায় চিন্তার কিছু নেই কিন্তু। যৌথ পরিবারে তো এমন চলতেই থাকে। আমার ন’কাকা আর ছোড়দিও পুজোর সময় জামাকাপড় পছন্দ ও যথেষ্ট হয়নি বলে বিরাট অ’শা’ন্তি করতো।সেই ন’কাকাই দশমীতে ধুনুচি নাচে ফার্স্ট হতো, ওদিকে ছোড়দি সব ভুলে ভাইফোঁটা দিতো হাসি মুখে।
পরিশেষে দর্শকদের বলি দেবী চৌধুরানী অবশ্যই দেখুন। পড়া থাকলেও দেখুন, আর না পড়া থাকলে তো অবশ্যই দেখবেন।
আগামীকাল, ৯ তারিখ দেখবো পুজোর ৪র্থ ছবিটা। আমার ভানু সিংহ কিরকম রঘু ডাকাত হয়ে উঠলো সেটাই দেখার অপেক্ষায় আছি।”