Chumki Chowdhury:বাবার হাতে কেন থা’প্প’ড় খেতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে? কেনই বা অভিনয় ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী? জীবনের বেশকিছু অজানা সত্যের কথা জানালেন অভিনেত্রী চুমকি চৌধুরী

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Chumki Chowdhury:একসময় অতি সাধারণ গৃহবধূর রোজনামচায় জড়িয়ে থাকা আবেগ হোক বা গ্রাম্য মেয়ের সরল প্রেমের আখ্যান, প্রায় প্রত্যেকটি চরিত্রেই সাবলীলভাবে অভিনয় করে সবার মন জয় করেছেন অভিনেত্রী চুমকি চৌধুরী। ‘হীরক জয়ন্তী’, ‘মেজো বউ’, ‘ইন্দ্রজিৎ’, ‘গীত সঙ্গীত’-এর মতো ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। -এর দশকের এই অভিনেত্রীর প্রায় প্রতিটা সিনেমাই ছিল সুপারহিট। এমনকি ছোটপর্দাতেও কাজ করে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর একটাই কথা, আমার ছবি এত জনপ্রিয়তা পেয়েছে শুধুমাত্র আমার বাবা অঞ্জন চৌধুরীর জন্য। তবে কোথায় যেন হঠাৎ হারিয়ে গেলেন তিনি? নিজেকে প্রায় গুটিয়ে নিয়েছে বললেই চলে। অভিনেত্রী খুব লাজুক প্রকৃতির এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের দুঃখ, অ’ব’সা’দ, বাবার স্মৃতি, অভিনয় জীবন, সবটা মেলে ধরলেন ক্যামেরার সামনে অভিনেত্রী চুমকি চৌধুরী।

অভিনয় জীবনের শুরুটা কেমন অভিনেত্রী চুমকি চৌধুরীর? সেই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানিয়েছেন,
“আমি যাদের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেছিলাম, তাদের আমি ছোটো থেকেই দেখছি। তাই আলাদাভাবে কিছু মনে হয়নি। আর কাজটা যে এতদিন ধরে করব বুঝতে পারিনি। ভেবেছিলাম একটাই সিনেমা হয়ত করব। আমি সত্যি জানিনা আমি কতগুলো সিনেমা করেছি। আমি কোনোদিন গুনিনি।”

একজন বাইরে এত ব্যস্ত মানুষ, একদিকে পরিচালক আর বাড়িতে বাবা, বাবা হিসেবে কেমন ছিলেন পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী?
চুমকি চৌধুরী জানান, “বাবা স্টুডিওতে একদম আলাদা মানুষ, তাঁর কাছে একটা নিয়ম ছিল যে ‘তুমি ডিরেক্টরকে বলে আসবে আমি আসছি।’ একবার প্যাকআপের পর আমি বাবলু কাকুকে না বলেই বাড়িতে চলে এসেছিলাম। বাবা সেটার জন্য খুব বকে ছিলেন। সেটের নিয়মগুলো মানতেই হবে কঠোরভাবে। পরিচালকের মেয়ে বলে যে তোমাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে এমন পছন্দ করতেন না বাবা। তিনি মানতেন সেটে কাজ করতে গেছ, সেখানে সবাই সমান।”

আরও পড়ুন:Sayantani Mullick:’ওমা! এখনও ম’রে’নি, দুদিন আগে যে ম’রে যাচ্ছিল, সবই এদের ঢং…’, নেটিজেনদের একাংশ সায়ন্তনীর মৃ’ত্যু কামনা করেছেন! ব্রে’ন স্ট্রো’কে’র পরে কাজে ফিরেছিলেন সায়ন্তনী মল্লিক, ট্রোলারদের মন্তব্যে ক্ষু’ব্ধ অভিনেত্রী কী বললেন?

এমনকি বাবার হাতে থা’প্প’ড় খেতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। কী এমন কা’ন্ড করেছিলেন তিনি? এছাড়াও প্রথম অভিনয় করতে আসা ক্যামেরার সামনে, প্রথমদিনের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
অভিনেত্রী জানান, “ভীষণ খা’রা’প অভিজ্ঞতা খুব খা’রা’প ছিল। প্রথম দিন বাবা খুব একটা গম্ভীর সিন দিয়েছিলেন, কান্নাকাটির ও সিন ছিল সেখানে । কিন্তু আমি একদমই কাঁদতে পারছিলাম না। গ্লিসারিন দিয়ে যাচ্ছে। এবার বাবার খারাপ লাগছে যে মেয়ে পারছে না। তারপর বাবা গিয়ে একটা চড় মেরেছিল। যে বাবা কোনোদিন গায়ে হাত দেয়না, সে গিয়ে একটা থাপ্পড় মারল। তারপর সেই যে কান্না শুরু হয়েছিল আর থামেই না। ওই কান্না নিয়ে হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে ডায়লগ বলেছি। কারণ বাবা বুঝেছিলেন যে এর গ্লিসারিন দিয়ে হবে না, এক্সপ্রেশন ঠিক আসছে না। বাবার হাতের মার খেয়ে তারপর এল। আমি খুবই লাজুক আমি আর আমার বোন নিজস্ব প্রোডাকশন হাউসেই কাজ করেছি। বাবার প্রোডাকশন হাউসের বাইরে গিয়ে ‘মহাসংগ্রাম’ বলে একটা সিনেমা করেছিলাম। আসলে ‘হীরক জয়ন্তী’টা সবার খুব ভালো লেগেছিল। বাবার তখন মনে হয়েছিল যে আমাকে নিয়ে পরে সিনেমা করা যেতে পারে। এই করে করে দর্শকদের ভালোবাসার জন্যই বোধহয় বাবা আমাকে নিয়ে পরপর কাজ করে গেছেন।”

আরও পড়ুন:Sagarika Roy:”কী ভেবেছিলেন আমি খুব সস্তা, প্র’তি’বা’দ করতে পারব না, এইভাবে শিল্পীদেরকে সস্তা না করাই ভালো…” অনুমতি না নিয়েই ‘জোয়ার ভাঁটা’তে নিজের ছবি ব্যবহার উপরন্ত তিনি নিজেই সেটা জানেন না, রে’গে ফুঁ’সে উঠলেন অভিনেত্রী সাগরিকা রায়, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রতি ক্ষো’ভ প্রকাশ করে কী বললেন তিনি?

জীবনের একটা সময় খুব ভে’ঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। ছোটো থেকে বাবা ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী তাঁকে হারিয়ে আজও কষ্টে তাঁর মন কেঁ’দে ওঠে এমনকি অভিনয়ও ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি?
অভিনেত্রীর কথায়, “আমার জীবনে বাবা বিশাল একটা জায়গা জুড়ে আছেন। বাবা ছাড়া কিছু ভাবতে পারতাম না, এখনও পারিনা। ২০০৭ সালে যখন বাবা মারা যান নিজেকে সামলাতে পারিনি। তখন কাজ ছেড়ে দিয়েছিলাম। ছেড়ে দিয়ে একেবারে বাড়িতে বসেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম আমি কোনোদিন কাজ করব না। কারণ আমি ভেবেছিলাম ওই স্টুডিওতেই আর কোনোদিন ঢুকব না। যে স্টুডিওতে আমি আমার বাবার সাথে প্রথমবার গিয়েছিলাম, যেখানে বাবার পায়ের ছাপ রয়েছে, যে রাস্তা দিয়ে বাবা হেঁটে যেত। আমি পারব না ওখানে করতে। আমার অনেকগুলো বছর লেগেছে ফিরতে। আমি এতটা ভেঙে পড়েছিলাম যে আমাকে সবাই তখন আমাকে বোঝাত যে আমি এতটা ভেঙে পড়লে আমার মা তো আমাকে দেখে আরও ভেঙে পড়বে। মাও জানত যে, আমি বাবার নেওটা বেশি ছিলাম। সেখানে আমার বর, বোন সবাই আমাকে খুব সাপোর্ট করেছিল।”

আরও পড়ুন:Saayoni Ghosh:অনেকের দাবি সায়নীকে নাকি হুবহু মুখ্যমন্ত্রীর মতো দেখতে লাগে? কী বললেন অভিনেত্রী?

অভিনেত্রী এটাও জানান যে একসময় ডি’প্রে’শ’নে চলে গিয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, “আমার ভাই চলে যাওয়ার পর আমি অসম্ভব ডি’প্রে’শ’নে চলে গিয়েছিলাম। খুবই অ’সু’স্থ হয়ে পড়েছিলাম। আমি তারপর কাউন্সেলিং করেছি। তাহলে আমি আর ফিরতে পারতাম না। আমি খুবই চাপা স্বভাবের সহজে কাউকে কিছু বলতে পারি না। আমার বোন ও এক বান্ধবী আছে তাদেরকেই সব মনের কথা বলি।”

প্রসঙ্গত, বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অবিস্মরণীয় এক নাম অঞ্জন চৌধুরী। এবার বাবার পথে হেঁটে ফের পরিচালনায় ফিরছেন অঞ্জনকন্যা রিনা চৌধুরী। সঙ্গী পরিচালকের আরেক কন্যা চুমকি চৌধুরীও। বোন রিনার পরিচালনাতে দেখা যাবে চুমকি চৌধুরীকে।

Leave a Comment