Maitreyee Mitra:”এই অবস্থাটা সকলের সামনে আনাটা কি খুব দরকার ছিল? আদৌও কি স্যান্ডির ভালো হবে? যিনি করেছেন বিষয়টা সম্পূর্ণ তাঁর উপর…” ফেসবুকে স্যান্ডিকে নিয়ে পোস্ট করায় লাগাতার কটাক্ষের মুখে মৈত্রেয়ী মিত্র,পরোক্ষভাবে কার দিকে আঙ্গুল তুললেন অভিনেত্রী?

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Maitreyee Mitra:ড্রেস থেকে শুরু করে মেকআপ তিনিই স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করে দিতেন তারকাদের, একসময় টলিউডের তারকাদের পছন্দের স্টাইলিস্ট ছিলেন সন্দীপন ঘোষাল ওরফে স্যান্ডি। দেবশ্রী রায় থেকে কোয়েল, নুসরত, মিমির সঙ্গে সবার পছন্দের মানুষ ছিলেন তিনি। তবে আচমকাই একদিন ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে যান স্যান্ডি। কেউ খবর রাখেননি। আচমকাই সম্প্রতি অভিনেত্রী বিয়াস বসু জানান, ব্রে’ন টি’বি’তে আ’ক্রা’ন্ত স্যান্ডি।

তাঁর এই অবস্থার খবর শুনে পাশে দাঁড়ান অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্র। ফেসবুকে স্যান্ডির একটি ছবি পোস্ট করে তাঁর সুস্থতার কামনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তারপর থেকে অভিনেত্রীকে লাগাতার কটাক্ষকে শিকার হতে হচ্ছে। অনেকেই দাবি জানিয়েছেন, এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন? এতদিন কেন খোঁজ রাখেননি তিনি? সবকিছু প্রশ্নের উত্তর দেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জানান, “বিষয়টা হল গতকাল আমি একটা পোস্ট করেছিলাম। আমাদের সহকর্মী সন্দীপ ঘোষাল ওরফে স্যান্ডিকে নিয়ে। সেই পোস্টের অনেকেই কমেন্ট করেছেন ভালো মন্দ, সেখানে সবার মতামত আমি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করছি। আমি একজনের ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারি যে স্যান্ডি গুরুতর অসুখে ভুগছিল এবং এখন অনেকটা সেরে উঠেছে। সেটা দেখার পর আমি প্রথমে ওঁকে ফোন করলাম, ওঁর সঙ্গে কথা বললাম। এবার আপনারা বলবেন, আপনার সাথে যখন কথা হয়েছে পোস্ট করলেন কেন? কারণ যেভাবে স্যান্ডির আমি কিছু ভিডিও দেখলাম, যিনি এই ভিডিও করেছেন তিনি তাঁর ভাবনা থেকে করেছেন, তাঁর ভাবনাকে আমি অসম্মান করছি না। আমি আমার ভাবনাটা বলছি, আমার সাথে স্যান্ডির খুব বেশিদিনের পরিচয় নয়। ২০০৯ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ করতে গিয়ে আলাপ হয় আমাদের। ওঁ আমাদের স্টাইলিস্ট ছিলেন। ওই সিরিয়ালটির মাধ্যমেই আমাদের প্রথম আলাপ হয়। তারপর থেকেই সেই আলাপ এত বছর ধরে চলছে। তার মানে এটা নয় কিন্তু এত বছরে প্রত্যেকদিন আমরা প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলি। এটা তো স্বাভাবিক নয়, বাস্তব নয়। আমাদের কর্ম জগতে এত হাজার হাজার মানুষ কাজ করি প্রত্যেকদিন প্রত্যেকের সাথে কথা বলছি বা সবাই সবার খোঁজ রাখছি, এটা একদম সম্ভব হয় না। সেইরকমভাবে আমরা আমাদের কর্ম জগতে প্রত্যেকে আলাদা আলাদা কাজ, আলাদা আলাদা প্রজেক্ট, নিয়ে যে যার মতন ব্যস্ত থাকি। আমার সঙ্গে স্যান্ডির শেষ ২০১৪ নাগাদ দেখা হয়েছিল তারপর দেখা হল ২০২১ সালে ‘উমা’ ধারাবাহিক করতে গিয়ে।

আরও পড়ুন:Sayak Chakraborty:স্কুল জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন সায়ক

যখনই কারোর সম্বন্ধে আমরা একটা কিছু শুনি ভালো, মন্দ, চিন্তা, কারোর সাথে কিছু হলে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা একে অপরের খোঁজটা নিই। আমাদের মধ্যে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে সবার সঙ্গে সবার রয়েছে। বাইরের জগত থেকে সেটা বোঝা যাক বা না যাক। কথা হয় না মানে এটা নয় যে আমাদের বন্ধুত্ব হারিয়ে গেছে, কমে গেছে বা হঠাৎ করে আমি কারোর সম্বন্ধে কোনো কথা শুনি খোঁজ করব না। বাইরে জগত থেকে অনেকেই ভাবেন যে আমাদের জগতে সবাই সারাক্ষণ ঝ’গ’ড়া’ঝা’টি, রে’ষা’রে’ষি করে।

আমি দেখছি যে অনেকে অনেক কিছু কমেন্ট করেছেন। একজন লিখেছেন যে, ‘এতদিনে খোঁজ করার সময় হল?’আরেকজন লিখেছে, ‘ফেসবুকে পোস্ট দেখে এখন খোঁজ নিচ্ছেন?’ আচ্ছা ভাই,তবু তো খোঁজ নিচ্ছি। তবু তো খবর নিচ্ছি, এটা তো খা’রা’প কোনো কাজ করিনি যে সমালোচনা করছেন আপনারা। শুধু আমার ক্ষেত্রে বলছি না সবার ক্ষেত্রেই বলছি। আপনারা যে চাইলেই সমালোচনাগুলো করে দেন, কেন করেন? কোন অ’প’রা’ধমূ’ল’ক কাজ তো কেউ করছে না! কেউ কারোর অসুস্থতার খবর পেয়ে খোঁজ নিচ্ছে, এটা তো ভালো কথা। এবারে আপনারা আঙুল তুলছেন, এতদিন পরে কেন? যখন শুনব, তখনই তো নেব। শোনার আগে তো নেব না। আপনারা যারা আঙুলগুলো তোলেন, একটু ভেবে বলুন তো, আপনারা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের প্রত্যেকদিন প্রত্যেকের খোঁজ নেন। কাছের মানুষদের প্রত্যেকের প্রত্যেকদিন সব খোঁজ রাখতে পারেন? আপনারা যদি বলেন হ্যাঁ, তাহলে আপনাদের সেরা সম্মান দেওয়া উচিত। কারণ বাস্তব জীবনে যে পরিমাণ ল’ড়া’ই, যে পরিমাণ দৌড়ানো মানুষের বেড়ে গেছে, যে চিন্তা বেড়ে গেছে বেঁচে থাকার ল’ড়া’ই’তে এটা এখানে সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সবাই এর খোঁজ রাখা সম্ভব না। যারা পারেন তারা সত্যিই তাদের প্রতিভা অনেক। আমাদের নেই।

আরও পড়ুন:Sweta Bhattacharya:”আমি যদি কাউকে আমার গ’র্ভে ধারণ করতে পারি সেটা আমার কাছে খুব সৌভাগ্যের, প্রথম দু’তিন মাস জানাব না…”, ‘অ’ন্তঃ’স’ত্ত্বা’ অভিনেত্রী শ্বেতা? কতটা সত্যি এই খবর? নিজের মুখেই জানালেন অভিনেত্রী

আমরা খুব সাধারণ মানুষ। ইন্ডাস্ট্রিতে যারা আমরা কাজ করি ল’ড়া’ই করে চিন্তা করে, উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাই। সেখানে ঘরে-বাইরে সবটা সামলে প্রত্যেকদিন সবার খোঁজ রাখাটা সম্ভব হয় না। আপনাদের যদি এই ক্ষেত্রে মনে হয় আঙুল তুলবেন, তুলতেই পারেন। এই আঙ্গুলটাকে আমরা হাসিমুখে গ্রহণ করলেও, বেশি গুরুত্ব দিতে পারব না। কারণ প্রত্যেকে তো নিজের একটা ভাবনা থাকে। আমাদের ভাবনা অনুযায়ী এটা আমাদের কোন দো’ষ নয়। প্রত্যেকদিন তো খোঁজ রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু সকলের সমালোচনা যদি গ্রহণযোগ্য না হয় কি করে সেটা গ্রহণ করি?”

ফেসবুকে স্যান্ডির যে ধরনের ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে সেটা আদৌ কি সঠিক? সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন:Jeetu Kamal:”এটা আমার শেষ ধারাবাহিক, যারা বদনাম করে তাদের সকলকেই জানালাম…” ধারাবাহিক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন জিতু কমল, টেলিভিশনের পর্দায় আর দেখা যাবে না অভিনেতাকে! এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ জানালেন অভিনেতা

তিনি বলেন, “যে ভিডিওগুলো পোস্ট করা হচ্ছে, যিনি করছেন সেটা তার ভাবনা তার সমালোচনাও আমি করতে পারব না, সুখ্যাতিও করতে পারব না। সুখ্যাতি করতে পারব না কারণ এই কাজটা করে আদৌও কি স্যান্ডির ভালো হবে? বোধ হয় না। কারণ কিছু জিনিস না ব্যক্তিগত বা নিজ গণ্ডিতে রাখা ভালো। যে মানুষটা এখন অ’সু’স্থ’তা’র কারণে স্থির নেই। যে মানুষটা এখন সবটা সুস্থ হয়ে ওঠেনি। তাঁর এই অবস্থাটা সকলের সামনে আনাটা কি খুব বাঞ্ছনীয়? খুব দরকার ছিল? কর্ম জগৎটা তো কর্ম জগৎ, সেই জগতে একটা পয়েন্টে সবাই প্রফেশনাল, তো সেখানে ওঁকে এইভাবে সামনে আনাটাতে খা’রা’প লা’গা আছে। চিন্তিত হলে বা সবাইকে জানাতে হলে সেটা অনেক রকমভাবেই জানানো যায়। বর্তমান অবস্থাকে সামনে আনাটা খুব একটা ভালো লাগেনি বলেই সাধুবাদ জানাতে পারিনি। সমালোচনা করছি না। যিনি করেছেন বিষয়টা সম্পূর্ণ তার উপর।”

Leave a Comment