Rachna Banerjee:সম্প্রতি শহরে এক ফুটবল ইভেন্টকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বি’শৃ’ঙ্খ’লা এবং অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা ট্রো’লিং’য়ে’র বি’রু’দ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ খ্যাত রচনা ব্যানার্জী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই ঘটনায় শুভশ্রীর কোনো দো’ষ নেই এবং তাঁকে অহেতুক ‘ব’লি’র পাঁ’ঠা’ বানানো হচ্ছে।
সম্প্রতি কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে যে উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছিল, তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রূপ নেয় হতাশা ও ক্ষো’ভে। ফুটবলপাগল শহরের কাছে এই অভিজ্ঞতা যে মোটেই গর্বের নয়, তা ঘটনা প্রবাহেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাকে এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার সমর্থক চড়া দামে টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বহু দর্শকই সেই প্রত্যাশিত মুহূর্ত থেকে বঞ্চিত থাকেন, এবং সেই ইভেন্টে লুইস সুয়ারেজ সহ অন্যান্য ফুটবল তারকাদের উপস্থিতিতে মাঠে বি’শৃঙ্খ’ল পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জেরে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে যুবভারতী স্টেডিয়াম কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
প্রসঙ্গে উল্লেখ,শনিবার নির্ধারিত সময়েই যুবভারতীতে পৌঁছন লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করেন লুইস সুয়ারেজ ও রডরিগো ডি’পল। কড়া নিরাপত্তা ও ভিভিআইপি ঘেরাটোপে থাকা মেসি মাঠে ঢোকার সময় দর্শকদের উদ্দেশে হাসিমুখে হাত নাড়েন। ইভেন্টে লুইস সুয়ারেজ সহ অন্যান্য ফুটবল তারকাদের সাথে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীও উপস্থিত ছিলেন। মাঠের অতিরিক্ত ভিড় এবং আয়োজকদের গাফিলতির কারণে গ্যালারিতে বসে থাকা সাধারণ দর্শকদের বড় অংশই মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি।
এই পরিস্থিতিতেই গ্যালারির বিভিন্ন অংশে ক্ষো’ভ দানা বাঁধতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্রুত মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান মেসি। তাঁর প্রস্থান করার পরেই স্টেডিয়ামের ভেতরে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে আসে, যা গোটা ঘটনাকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে। এবং তখন থেকেই নেটিজেনদের একাংশ শুভশ্রী গাঙ্গুলীর উপস্থিতি এবং সেই সময়ের কিছু মুহূর্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন।
এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন রচনা ব্যানার্জীও তিনি বলেন -” শুভশ্রী তো নিজে থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে যায়নি, তাঁকে ইনভাইট করা হয়েছে বলে সে গেছে “। রচনা মনে করিয়ে দেন যে শুভশ্রী নিজে থেকে মাঠে চলে যাননি। তাঁকে যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলেই তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
একজন শিল্পী হিসেবে ডাক পেলে সেখানে যাওয়াটাই দস্তুর। শুভশ্রী কেবল তাঁর পেশাদারিত্ব পালন করেছেন।
রচনার মতে, এই বি’শৃ’ঙ্খ’লা’র পেছনে দায়ী ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি মাঠ পরিষ্কার থাকত এবং শুভশ্রীকে আলাদা দূরে কোনো সম্মানজনক জায়গায় বসানো হত, তবে কি কেউ আঙুল তোলার সুযোগ পেত?”
আরও পড়ুন:Anindita Bose:এক নয়, একাধিক স’ম্প’র্ক ভা’ঙ’ন! অনিন্দিতা বসুর জী’ব’নে প্রে’ম কি শুধুই অধ্যায় বদল?
মাঠে যে চরম অব্যবস্থা (Chaos) তৈরি হয়েছিল, তার দায়ভার শুভশ্রীর ওপর চাপানো অনভিপ্রেত। তাঁর কথায়, “পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে এখন শুভশ্রীকে নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে, যা একেবারেই কাম্য নয়।”
রচনা ব্যানার্জী মনে করেন, কোনো ইভেন্টের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা যদি সঠিক না হয়, তবে তার ফল অতিথি বা তারকাদের ভোগ করতে হওয়া উচিত নয়। শুভশ্রীর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এই ধরনের নেতিবাচক প্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানান।