Lawho Gouranger Naam Rey:ছবির সেটে অভিনয় নয়, সাধনা: ‘লহ গৌরঙ্গের নাম রে’ ঘিরে টিমের অলৌকিক অভিজ্ঞতা! কী জানালেন ছবির কলাকুশলীরা?

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Lawho Gouranger Naam Rey:পরিকল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় ছয় বছর আগে। মাঝের সময় জুড়ে বিতর্ক, সমালোচনা ও নানা প্রশ্নে বারবার আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে ছবিটি। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ্যে এল সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের(Srijit Mukherji) বহু প্রতীক্ষিত ছবি “লহ গৌরঙ্গের নাম রে”–এর ট্রেলার। ট্রেলার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আবার নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে মহাপ্রভুর অন্তর্ধান রহস্যকে ঘিরে থাকা নানা মিথ ও বিশ্বাস নিয়ে।

বৃহস্পতিবার আয়োজিত ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় নিজে। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা শুভশ্রী গাঙ্গুলী (বিনোদিনী), দিব্যজ্যোতি দত্ত (গৌরাঙ্গ), ঈশা, আরাত্রিকা, দেবদূত। অনুষ্ঠানে আরও দেখা যায় গায়ক কবির সুমন, বাসবদত্তা, পদ্ম পলাশ-সহ ইন্ডাস্ট্রির একাধিক পরিচিত মুখকে।

এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুটিংয়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন শুভশ্রী-সহ ছবির অন্যান্য কলাকুশলীরা। তাঁদের কথায় উঠে আসে, এই ছবির সঙ্গে যুক্ত থাকা শুধু অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নয়, বরং এক গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।
শুভশ্রীকে যখন তাঁর শুটিং অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি সরাসরি বলেন, “আমি যেটা সবসময় বলছি এটা একদম দৈবিক একটা এক্সপেরিয়েন্স। যেহেতু আমি নিজে একজন স্পিরিচুয়াল মানুষ, আমি বিশ্বাসই করি যে আমরা প্রত্যেকেই এই পৃথিবীতে এক একটা চোখের পাতাও ফেলি ওনার ডিসিশনে। আমার কোথাও সত্যি মনে হয়, আমি বিশ্বাস করি যে এটা ওনারই নির্বাচন যাঁরা যাঁরা এই ছবিতে কাজ করেছেন। ২০২৫-এ দাঁড়িয়ে আমার গল্প তোরা আবার বলবি, তো সেটার পার্ট হতে পেরে এর থেকে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে!”
ঈশ্বরের নাম সংকীর্তনের সময় শুভশ্রীর ধ্যানমগ্ন অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এটা একটা ফিলিংস, এটা আসলে ভীষণ পার্সোনাল। একেক জন একেক রকম করে ওনাকে ফিল করে। তো এটা ভীষণ ন্যাচারাল, ভীষণ অর্গ্যানিক…”
তিনি এটাও জানান যে তিনি ভগবানের ক্ষেত্রে ভীষণ এক্সপ্রেসিভ।

ছবিটি কেবল পেশাদারী কাজ নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক বড় প্রাপ্তি বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
শ্যুটিং চলাকালীন তিনি এমন এক মানসিক স্তরে পৌঁছে যেতেন যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।
তিনি বলেন, “চৈতন্যদেব হওয়ার সময়কার যে অভিজ্ঞতা, সেটা আমি কোনো বাক্যে ব্যাখ্যা করতে পারব না। সেই সময় যে আমি কী অনুভব করেছি বা কোথায় চলে গিয়েছিলাম, আমি সত্যিই বলতে পারব না।”
“ভগবানের ইচ্ছে না থাকলে হয়ত সেটা হতো না। যখন আমাকে ছাড়তে হচ্ছিল ওঁনাকে (চরিত্রটিকে) আমার শরীর থেকে, তখন আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।” সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন –
“শ্যুটিংয়ের সময় আমি কোন জায়গায় চলে যেতাম তা ভাষায় বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, কারণ এটা ভীষণ পার্সোনাল। আমি ঘোরের মধ্যে চলে যেতাম।”

অভিনেত্রী এও জানিয়েছেন যে চরিত্রের গভীরে ডুবে থেকেও তাঁকে ক্যামেরা এবং আলোর মতো যান্ত্রিক দিকগুলো সামলাতে হয়েছে।
ছবিতে মহাপ্রভুর উপস্থিতির গুরুত্ব নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন শুভশ্রী।

শুভশ্রী গাঙ্গুলীর এই রূপান্তর বড় পর্দায় দেখার জন্য দর্শকরা এখন মুখিয়ে আছেন। এই ছবির মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ারে এক নতুন পালক যোগ হতে চলেছে বলে মনে করছেন সিনেমাপ্রেমীরা।

সাক্ষাৎকারে অভিনেতা দিবজ্যোতি (গৌরাঙ্গ ) জানান যে, এই সিনেমার কাজের অনুভূতি শুধু অনুভব করা যায়, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাঁর কাছে এই প্রজেক্টটি জীবনের একটি সেরা স্মৃতি এবং অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে ‘ এইরকম একটা জীবনের অ্যাসেড সেটা সবসময় আমার জীবনে একটা সেরার সেরা স্মৃতি হয়ে আমার মণিকোঠায় রয়ে যাবে… “। পুরো বিষয়টিকে তিনি একটি আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন:Alka Yagnik:এক ছাদের নীচে না থেকেও ৩৫ বছর! তবু কীভাবে টিকে আছে অলকা ইয়াগনিকের সংসার?

দিবজ্যোতি এবং আরাত্রিকা তাঁদের এই প্রথম কাজের (ডেবিউ) প্রতি গভীর আবেগ প্রকাশ করেছেন। অভিনেত্রী বলেন, “যেকোনো নতুন কাজ শুরুর আগে যেমন আমরা পূজা করি, এই সিনেমাটিও ঈশ্বরের আরাধনা বা ভক্তির পথ ধরে শুরু হয়েছে। তাই এটি তাঁদের মনে অত্যন্ত পজিটিভ বা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”

শিল্পীরা ট্রেলার দেখে তাঁদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং দর্শকদের আগামী ২৫ তারিখে সিনেমাটি দেখার অনুরোধ জানান।
অভিনেত্রী আরাত্রিকা (লক্ষীপ্রিয়া ) উল্লেখ করেন যে, “এই সিনেমায় সৃজিত মুখার্জি-র নির্দেশনায় কাজ করা এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলী, ইশা সাহা, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, যিশু সেনগুপ্ত-র মতো বড় মাপের অভিনেতাদের সাথে ফ্রেম শেয়ার করা তাঁদের কাছে এক অনেক বড় প্রাপ্তি।”

আরও পড়ুন:Rachna Banerjee:শুভশ্রীকে ‘ব’লি’র পাঁ’ঠা’ করা হচ্ছে! যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বি’শৃ’ঙ্খ’লা নিয়ে মুখ খুললেন রচনা ব্যানার্জী

দিব্যজ্যোতি দাবি করেছেন যে এই ছবিটি একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। বক্স অফিসে কেমন ফল করবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো ছবির আবেদন দর্শকদের মনে থেকে যাবে। তিনি বলেন ” এই সিনেমাটা আমাদের প্রত্যেকের মনে হয় গোটা টিম এর মনে হয় এবং অনেক দর্শকের তাই মনে হয় তারা সেটা কমেন্টে জানিয়েছেন.. অলরেডি তারা বলেওছেন যে এই ছবিটা একটা ইতিহাস হয়ে থেকে যাবে.. এটা থেকে যাবে…”।
এবং তিনি বলেন এটিই বিশ্বের প্রথম সিনেমা যার শুটিং পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ভেতরে এবং শ্রী ভগবানের রথের সামনে হয়েছে। “জগন্নাথ পুরীর মন্দিরে দাঁড়িয়ে শুটিং করেছি….” ,। সাধারণত মন্দিরের ভেতরে ক্যামেরা বা মোবাইল নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ, কিন্তু বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই ছবির কাজ করা হয়েছে।
দিব্যজ্যোতি জানিয়েছেন যে, তিনি নিজে মহাপ্রভুর বেশে মন্দিরে শুটিং করেছেন, যা তাঁর কাছে এক পরম প্রাপ্তি এবং পূর্বজন্মের পুণ্যফলের মতো।
তিনি আরও জানান যে সিনেমাটিতে তিনটি ভিন্ন সময়ের গল্প রয়েছে যা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। অভিনেতা জানিয়েছেন এই ছবির কোনো সাধারণ ‘ওয়ান-লাইনার’ গল্প নেই, বরং এর প্রতিটি স্তরে আলাদা রস ও বিশেষত্ব আছে।

আরও পড়ুন:Alivia Sarkar:জীবনের চ’র’ম সত্যের কথা জানালেন অলিভিয়া সরকার

ওড়িয়া, হিন্দি বা ইংরেজি কোনো ভাষাতেই আগে মন্দিরের ভেতর এমন শুটিং হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন, যা এই ছবিটিকে অন্য সব ছবির থেকে আলাদা ও স্পেশাল করে তুলেছে।

অভিনেতা জানান যে দর্শকরা ট্রেলার দেখে গল্পের যে আভাস পেয়েছেন, সিনেমা হলে গেলে হয়ত তাঁর থেকে অনেক বেশি কিছু বা সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো চমক পেতে পারেন। এটি দর্শকদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে যেতে পারে।
ছবিতে ‘মহাপ্রভু’ শ্রীচৈতন্যদেবের প্রেমের আদর্শ ও উষ্ণতার কথা বলা হয়েছে। কনকনে শীতের এই সময়ে মহাপ্রভুর প্রেমের এই গল্প দর্শকদের মনে জায়গা করে নেবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন – “বড়দিনে ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ বড় ছবি দেখতে যাওয়া উচিত…শীতলতম দিনে প্রেমের উষ্ণতা, মহাপ্রভুর যে উষ্ণতা, ওনার থেকে বর প্রেমিক তো আর কেউ নেই..সেই উষ্ণতা উপভোগ করার জন্য দিস ইস দ্যা আইডিয়াল টাইম… ”
ছবির স্ক্রিপ্ট বা চিত্রনাট্য তৈরি করতে দীর্ঘ ৮ বছরের কঠোর গবেষণা করতে হয়েছে। তাই ছবিটি তথ্যের দিক থেকেও বেশ সমৃদ্ধ হতে চলেছে।
এটি দিব্যর এবং তার সহ-অভিনেত্রী আরাত্রিকা ও আগমনী প্রত্যেকেরই প্রথম ছবি। ফলে তাদের জন্য এই প্রজেক্টটি অত্যন্ত আবেগের।
পুরো টিম বিগত কয়েক বছর ধরে এই ছবিটির পেছনে জানপ্রাণ লড়িয়ে কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন:Aishwarya-Abhishek:ডি’ভো’র্স জল্পনায় অবশেষে মুখ খুললেন অভিষেক বচ্চন, এক ছাদের তলায় না থাকার গু’ঞ্জ’ন নিয়ে কী জানালেন জুনিয়র বচ্চন?

এই ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী ঈশা সাহা। ছবির প্রচারের এক ফাঁকে নিজের চরিত্র এবং শুটিং সেটের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দিলেন তিনিও। ঈশা মনে করেন, এই ছবিতে তার চরিত্রটি বেশ গভীর এবং নানা স্তরে বিন্যস্ত। তিনি বলেন –
“আমার মনে হয় আমি বারবার এই চরিত্রটাই করতে চাইতাম, কারণ এই ক্যারেক্টারটা বোধহয় সবথেকে বেশি লেয়ার্ড (layered)।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, চরিত্রটির পেশাগত জীবনের কঠোরতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের কোমলতার মধ্যে একটি চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে। তার ভাষায় –
“এই মেয়েটার কাজের জায়গা দেখানো হয়েছে… যেখানে ওর একটা অথরিটি আছে, যেটা ও খুব সুইটলি হ্যান্ডেল করে। প্লাস ওর একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে যেখানে ও আবার ভীষণ বাচ্চার মতো।”
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছোঁয়া
চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে ঈশা পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে সরাসরি অনুপ্রেরণা নিয়েছেন। মজার ছলে তিনি জানান –
“রেফারেন্স পয়েন্ট সৃজিতদা। সৃজিতদা আমাকে বলেওছে যে ‘তুই আমায় দেখে নিবি সেটে’।”
তবে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিত্ব হুবহু অনুকরণ করা যে সহজ নয়, সে কথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। তার মতে, নিজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য পরিচালকদের কাজের ধরন মিলিয়ে মিশিয়েই তৈরি হয়েছে এই চরিত্রটি।
সেটের এক মজার দ্বিধা
শুটিংয়ের শুরুর দিকে পরিচালকের কাজের ধরন নিয়ে কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন ঈশা। সৃজিত মুখোপাধ্যায় যখন শট নেওয়ার পর কিছু বলতেন না, তখন ঈশা দুশ্চিন্তায় পড়ে যেতেন। তিনি বলেন
“প্রথম কাজ করছি তো, আমার চাপ হয়েছে যে কিছু বলছে না তার মানে কি আমি ঠিক করছি না? পরে এই সিনেমা করতে গিয়ে জেনে গেছি যে, সৃজিতদা যখন কিছু বলেন না তার মানেই ঠিক আছে।”

সবশেষে পরিচালক সৃজিত মুখার্জি তাঁর সিনেমা ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-র শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন সংবাদমাধ্যমের সাথে। এই ছবিতে টলিউডের অভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন মুখও দেখা যাবে। ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা এবং সেটে তাদের কীভাবে গাইড করেছেন, সে নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক।
সৃজিত বলেন, প্রত্যেকের কাজের ধরন আলাদা। তাই তিনি সকলকেই একইরকম গাইডেন্স দেন না। সৃজিতের কথায়, “আমি ওরকম নতুন-সিনিয়র বলে দিই না, প্রতিটি অভিনেতা-অভিনেত্রীর নিজস্ব একটা স্টাইল থাকে কাজ করার।”
শুটিং সেটে শুভশ্রী গাঙ্গুলির কাজ করার ধরন নিয়ে সৃজিত বলেন, “শুভশ্রীর জন্য একটা আবহ তৈরি করে দিয়েছিলাম আমি। যে আবহের মধ্যে ও মাঝেমধ্যেই ট্রান্স-এ চলে যেত। কারণ ওঁ নিজে জগন্নাথ দেবের ভক্ত, শ্রী চৈতন্যদেবের ভক্ত। ওঁ যখন চৈতন্য রূপে অভিনয় করত, নটি বিনোদিনী যখন স্টেজে চৈতন্যের অভিনয় করছেন, তখন ওঁ একটা ট্রান্সে চলে যেত।” পরিচালক আরও যোগ করেন, “সেই ট্রান্সটা সংরক্ষণ করার দায়িত্ব ছিল আমার।”
নতুনদের গাইড করাও সেটের পরিবেশ। অন্যদিকে ইশা সাহার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সৃজিত বলেন, “ইশার কাছ থেকে পারফরম্যান্স বার করার টেকনিকটা আলাদা। ওঁ প্রথমের দিকে খুব চিন্তিত ছিল যে আমি কিছু বলছি না কেন। আমার বক্তব্য ছিল, ভুল হলে আমি বলব, আপাতত কিছু ভুল হচ্ছে না, ভালো হচ্ছে।”
সেটের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, “এই ধরনের ছবিতে সেটটা একটু শান্ত হলে সবার অভিনয় করতে সুবিধা হয়। আমার কলাকুশলী ও টেকনিশিয়ানদেরও বলা ছিল সেটটা শান্ত রাখার জন্য।”
নবাগতদের সম্পর্কে প্রশংসা
ছবির নবাগত অভিনেতা দিব্যজ্যোতি এবং আরাত্রিকা অভিনয়ের প্রশংসাও শোনা গেল সৃজিতের মুখে। তিনি বলেন, “ওঁরা দুজনেই খুব প্রস্তুত হয়ে সেটে এসেছিল। সেই চারিত্রিক জোনটার মধ্যে ওঁরা মানসিকভাবে ঢুকে গিয়েছিল, যেটা খুব সাহায্য করেছে।”

আরও পড়ুন:Tonni Laha Roy:”এতদিনে আমি চুপচাপ ছিলাম তারই জন্য, হ্যাঁ আমার বয়ফ্রেন্ড আছে…” কিসের ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায়?

ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের চেয়েও এর শৈল্পিক আবেদন এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে তিনি তাঁর স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেন।
সৃজিতের মতে, একটি ছবি কত টাকা ব্যবসা করল তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের মনে ছবিটি কতখানি জায়গা করে নিল।
তিনি বিশ্বাস করেন কিছু ছবি সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।
ছবিতে সৃজিতের নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা কাজের ধরণের প্রতিচ্ছবি দেখা যেতে পারে, যা তিনি ইতিপূর্বেও তাঁর ছবিতে করেছেন।

সাক্ষাৎকারে সৃজিত মুখার্জী তাঁর ছবির স্থায়িত্ব নিয়ে বলেন –
“আমরা কি সত্যিই এখন আমাদের মনে আছে যে ‘জাতিস্মর’ এর প্রথম সপ্তাহে কী ব্যবসা ছিল? কিংবা ‘চতুষ্কোণ’ এর সেকেন্ড উইক উইকেন্ডে কত ফুটফল ছিল? না। কিছু ছবি থেকে যায়, একটা ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। ছবিটাই মনে থেকে যায়, তার দৃশ্যগুলো মনে থেকে যায়, তার গান মনে থেকে যায়, তার চরিত্রায়ন মনে থেকে যায়, তার সম্পূর্ণ যে ইমপ্যাক্ট সেটা মনে থেকে যায়। সেখানে সংখ্যাটা নগণ্য হয়ে পড়ে।”
ছবির চরিত্রের সাথে তাঁর নিজের মিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,
“খানিকটা তো হ্যাঁ, খানিকটা তো বটেই। যেটা ‘অটোগ্রাফ’-এও ছিল ইনফ্যাক্ট। ইন্টারভ্যাল অবধি তো ডেফিনেটলি ইন্দ্রনীল… ইন্দ্রনীলের চরিত্র বা শুভব্রত… আমি এবং অটোবায়োগ্রাফিক্যাল তো বটেই। এখানেও ঈশা অবভিয়াসলি তার হাতের কাছে সবচেয়ে রেডি রেফারেন্স ছিল সৃজিত মুখার্জী, সো ওখান থেকে অনেক কিছু তুলেছে চরিত্রায়নে।”

আরও পড়ুন:Rupali Rai Bhattacharya:দীর্ঘ ২০ বছর কাজ করেও কাজ পাচ্ছেন না রূপালী রাই ভট্টাচার্য, ইন্ডাস্ট্রির প্রতি ক্ষো’ভ উগরে দিলেন অভিনেত্রী

সৃজিত মুখার্জীর এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি কেবল একটি ব্যবসা সফল ছবি নয়, বরং একটি কালজয়ী সৃষ্টি উপহার দিতে চলেছেন দর্শকদের।

Leave a Comment